
ছবি: সংগৃহীত।
এপ্রিলের প্রথম থেকেই দেশের বিভিন্ন এলাকায় বয়ে যাচ্ছে মৃদু থেকে মাঝারি তাপ প্রবাহ, যা আগামী তিন থেকে চার দিন অব্যাহত থাকতে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানাচ্ছে, চলতি মাসে এক থেকে দুটি তীব্র তাপ প্রবাহের সম্ভাবনাও রয়েছে। এছাড়া, একটি নিম্নচাপ সৃষ্টি হতে পারে, যা ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে।
গরমের প্রভাব রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বেশ অনুভূত হচ্ছে। সকাল থেকেই আকাশ ছিল মেঘলা, তবে বেলা বাড়ার সাথে সাথে মেঘ কেটে সূর্যের প্রখর তাপে গরম বৃদ্ধি পায়। রাজধানীতে ঈদের ছুটিতে অনেকেই বাইরে বের হলেও প্রচন্ড গরমে অস্বস্তিতে পড়েছেন। বিশেষ করে, গত দুই থেকে তিন দিন ধরে গরমের তীব্রতা বাড়ছে। অটোরিক্সার চালকরা জানান, গরমের কারণে তাদের কাজ করতেও বেশ কষ্ট হচ্ছে।
এপ্রিল মাসে সাধারণত বজ্রসহ ঝড় হওয়ার কথা, কিন্তু এবার এর সংখ্যা অনেক কমে গেছে। ১৯৯৭ সালে ১৪টি বজ্রসহ ঝড় হয়েছিল, ২০০৪ সালে ১২টি, ২০০১ সালে আটটি, তবে ২০২৪ সালে এতদিনে মাত্র ৪টি বজ্রসহ ঝড় হয়েছে। গত বছর তাপমাত্রা ৭৬ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ছিল এবং চলতি এপ্রিলের শেষে এই বছর বজ্রসহ ঝড়ের সংখ্যা গত বছরের চেয়েও কম হতে পারে।
ঢাকা শহরের জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে, কিন্তু গাছপালা কমে যাওয়ায় বাতাসে তাপমাত্রা অনেক বেশি। বিশেষ করে, গরম বাতাসের কারণে শহরের পরিবেশ আরও অস্বস্তিকর হয়ে উঠছে, যা শিশুদের জন্য আরও বেশি কষ্টদায়ক।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানাচ্ছে, আগামী শুক্রবার ময়মনসিংহ ও সিলেট অঞ্চলে এবং রবিবার থেকে ঢাকা, ময়মনসিংহ, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু স্থানে বৃষ্টি হতে পারে। এতে তাপমাত্রা কমবে। তবে, বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাত ও ফ্ল্যাশ লাইটেনিংও হতে পারে।
এপ্রিল মাসের পুরো সময় জুড়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ২ থেকে ৪টি মৃদু ও মাঝারি এবং ১ থেকে ২টি তীব্র তাপ প্রবাহ বয়ে যেতে পারে। পাশাপাশি বঙ্গোপসাগরে এক থেকে দুটি নিম্নচাপ সৃষ্টি হতে পারে, যদিও তা ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেবে কিনা তা এখনো নিশ্চিত নয়।
আবহাওয়া অধিদপ্তর প্রচন্ড গরমে বাইরে বের হওয়ার সময় সতর্কতা অবলম্বন করতে এবং প্রচুর পরিমাণে পানি পান করার পরামর্শ দিয়েছে। গরমে শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা বজায় রাখতে এই নির্দেশনা মেনে চলা জরুরি।
নুসরাত