ঢাকা, বাংলাদেশ   শনিবার ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ২২ চৈত্র ১৪৩১

ওল্ড স্টুডেন্টস ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২৫, সিজন-১

প্রথম আসরেই বাজিমাত ১৯৯৫ ব্যাচের

প্রকাশিত: ২২:২২, ৪ এপ্রিল ২০২৫; আপডেট: ২৩:৩০, ৪ এপ্রিল ২০২৫

প্রথম আসরেই বাজিমাত ১৯৯৫ ব্যাচের

চ্যাম্পিয়ন ট্রফি বুঝে নিচ্ছে ১৯৯৫ এসএসসি ব্যাচ ফুটবল দল

টুর্নামেন্টের আগে থেকেই অনুমেয় ছিল এই দলটাই জিতবে। কেননা প্রায় সারাবছরই দলের বেশিরভাগ খেলোয়াড়ই অনুশীলন করেন, প্রীতি ও প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেলে থাকেন। ফলে অন্য দলগুলোর চেয়ে ফিটনেস ও দমে অনেকটাই এগিয়ে থাকার সুবিধা পান তারা।

পবিত্র ঈদুল ফিতরের তৃতীয় দিন বুধবার (২ এপ্রিল) “ওল্ড স্টুডেন্টস ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২৫, সিজন-১” -এ শেষ পর্যন্ত তাই হয়েছে। চ্যাম্পিয়ন সেই দলটি হচ্ছে ১৯৯৫ এসএসসি ব্যাচ ফুটবল দল। নরসিংদীর ঘোড়াশালের পলাশের ওয়াপদা মাঠে অনুষ্ঠিত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ফাইনালে ১৯৯৫ ব্যাচ ১-০ গোলে ২০০০ ব্যাচকে হারিয়ে শিরোপাজয়ের উল্লাসে মেতে ওঠে।

বিজয়ী দলের জিয়াউল হক রাসেল জয়সূচক গোলটি করেন। ম্যান অব দ্য ফাইনাল তিনিই হন। ৩ গোল করে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা হন চ্যাম্পিয়ন দলের শফিক। চ্যাম্পিয়ন দলে খেলোয়াড়রা হলেন : শফিক, রাসেল, জহির, মতি, মাসুদ, মুন্না, রাজন, রিপন। রানার্সআপ দলের খেলোয়াড়রা হলেন : আল আমিন, উমর, ওসমান, আবু বক্কর, রতন, সাহাব উদ্দিন, ইলিয়াস, দুলাল। ফাইনাল শেষে বিজয়ী ও বিজিত দলকে পুরস্কৃত করেন বিউবো উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক নুরুল হক নবী।

ক্যাপশন : ২৪ বছর পর খেলতে নামা ১৯৯৩ ব্যাচ দু’টি অনন্য কীর্তি গড়ে

এই আসরে মোট ৬টি ব্যাচ দল দু’টি গ্রুপে অংশ নেয়। প্রতি গ্রুপের সর্বোচ শীর্ষ পয়েন্টধারী দুই দল সেমিফাইনালে উন্নীত হয়। ফাইনালের রেফারি ছিলেন আশরাফ। সহকারী দুই রেফারি ছিলেন শামীম ও দুখু। ধারাভাষ্যকার ছিলেন জাহাঙ্গীর, আতিক ও জামিল। এই আসরে অংশ নিয়েছিল ১৯৯৩ এসএসসি ব্যাচ ফুটবল দল-ও। এই অঞ্চলে তারা যেকোন প্রতিযোগিতামূলক ফুটবল আসরে সর্বশেষ অংশ নিয়েছিল ১৯৯৯ সালে।

দীর্ঘ ২৪ বছর বা দুই যুগ পর আবার ফুটবলে ফিরেছে তারা। তাদের ফেরাটা মন্দ হয়নি। সেমিফাইনাল পর্যন্ত খেলে তারা। সেমিতে তারা ২০০০ ব্যাচের কাছে ১-০ গোলে হেরে বিদায় নেয়। এর আগে তারা গ্রুপ ম্যাচে ১৯৯৪ ব্যাচকে টাইব্রেকারে ১-০ (০-০) গোলে (গোলদাতা আনিবুর, টাইব্রেকারে ১৯৯৩ দলের গোলরক্ষক মহসিন টানা ৩টি শট রুখে দিয়ে ম্যাচসেরা হন) এবং ১৯৮১-৯০ ব্যাচকে ৩-০ গোলে হারায় (গোলদাতা রিজভী, আমিন ও রুমেল, ম্যাচসেরা রিজভী)।

এই আসরে এক ম্যাচে সবচেয়ে বেশি গোলের ব্যবধানে জেতার কৃতিত্ব গড়ে ১৯৯৩ দল। তবে সেমিতে খেলার মূল্যও দিতে হয়েছে ১৯৯৩ দলকে। তাদের ডিফেন্ডার নাজমুল ইসলাম হেলাল চোখের নিচে মারাত্নক আঘাত পান। রিজভী খায়ের খেলেন পেটের পীড়া নিয়ে (দ্বিতীয় গ্রুপ ম্যাচে দৃষ্টিনন্দন গোল করে ম্যাচসেরাও হন)। দলের আরেক গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় আমিন ইয়াসিন ক্লান্তি-চোটের কারণে সেমিফাইনাল খেলতে পারেননি। অপর ডিফেন্ডার আমিনুল হক সুমনকেও প্রতিটি ম্যাচ খেলতে হয় পায়ের চোট নিয়ে। তারপরও ১৯৯৩ ব্যাচের খেলা দর্শকদের প্রশংসা কুড়ায়।

১৯৯৩ দলে ছিলেন : মহসিন খান, নাজমুল ইসলাম হেলাল, রুমেল খান, আমিনুল হক সুমন, আমিনুর রহমান মুকুল, আমিন ইয়াসিন, আনিবুর রহমান, রিজভী খায়ের, মিলটন সরকার, মশিউর রহমান সুজন, নিমাই দাস, শামসুল হুদা জুয়েল ও জাফর ইকবাল। ইনজুরির কারণে আলতাফ হোসেন খেলতে পারেননি।তবে নিজ দলকে সমর্থন ও উৎসাহ জোগাতে মাঠে ছিলেন। এছাড়াও ছিলেন ১৯৯৩ ব্যাচের আরেক সহপাঠী আব্দুর রহিম-ও।

নরসিংদীর ঘোড়াশালের পলাশে অবস্থিত ১৯৭০ সালে প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী “বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড উচ্চ বিদ্যালয়” (স্কুলটি পিডিবি হাই স্কুল নামেও পরিচিত)। এখানে অবস্থিত ওয়াপদা কলোনি। ওয়াপদার একটি ঐতিহ্য হলো পবিত্র ঈদুল ফিতরের পরদিন 'এইট এ- সাইড ফুটবল টুর্নামেন্ট' অনুষ্ঠিত হয়। যার আনুষ্ঠানিক নাম “ঈদ রি-ইউনিয়ন ফুটবল টুর্নামেন্ট”।

গত ২৬ বছর ধরে এমনটা হয়ে আসছে। এই আসরে খেলার নিয়ম হচ্ছে- বিউবো উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পাশ করা প্রাক্তন ছাত্ররা ব্যাচভিত্তিক দল হিসেবে খেলতে পারবে। কিন্তু যেসব ব্যাচের খেলোয়াড়রা ৪০ উর্ধ বয়সী, স্বাভাবিকভাবেই তারা তাদের চেয়ে অপেক্ষাকৃত কম বয়সী ব্যাচের খেলোয়াড়দের সঙ্গে ফিটনেস-দমে পাল্লা দিয়ে কুলিয়ে উঠতে পারে না এবং স্বভাবতই হেরে যায়।

এজন্যই এবার ১৯৯৭-১৯৯৮ ব্যাচ সিদ্ধান্ত নেয় ৪০ উর্ধ বয়সী ব্যাচদের নিয়ে দিনব্যাপী ভিন্ন একটি এইট-এ-সাইড ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজনের। খেলা হবে দুই অর্ধে ১০+১০ মিনিটের। বিরতি থাকবে ৫ মিনিটে। ১০ জনের দল। মাঠে খেলবে ৮ জন করে। বদলি হিসেবে যতবার খুশি ততবার খেলা যাবে। নির্ধারিত সময়ে খেলার ফল নিষ্পত্তি না হলে সরাসরি টাইব্রেকার হবে (অতিরিক্ত সময়ে খেলা হবে না)। টাইব্রেকারে প্রতিটি দল ৩টি করে শট মারবে। এই বাইলজ মোতাবেকই অনুষ্ঠিত হয় ওল্ড স্টুডেন্টস ফুটবল টুর্নামেন্ট, সিজন-১। আর তাতে প্রথম আসরেই বজিমাত করে টপ ফেভারিট ১৯৯৫ ব্যাচ।

রুমেল/আশিক

×