
পাকিস্তানের উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়ার আগে বৃহস্পতিবার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জ্যোতি-মারুফারা
মাত্র দুটি দলের সুযোগ রয়েছে। বিশ^কাপ বাছাইয়ে অংশ নেওয়া ৬ দলের মধ্যে দুটি যাবে মূল মঞ্চে। চলতি বছর অক্টোবর-নভেম্বর মাসে ভারতে অনুষ্ঠিতব্য নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপে সরাসরি অংশ নেবে স্বাগতিক ভারতসহ ৬টি দল। অল্পের জন্য সেই সুযোগ হাতছাড়া হওয়াতে এখন বাছাইয়ের বাধা পেরোতে হবে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলকে।
বৃহস্পতিবার সকালে সেজন্য পাকিস্তানের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করেছেন নিগার সুলতানা জ্যোতিরা। লাহোরে এদিনই পৌঁছে গেছেন তারা। সেখানেই ৯ থেকে ১৯ এপ্রিল বাছাইয়ে ৬ দল লড়াই করবে। প্রতিটি দল পরস্পরের সঙ্গে একবার মুখোমুখি হবে। তাই মিশনটা বেশ চ্যালেঞ্জিং বাংলাদেশের মেয়েদের জন্য। কারণ বড় বাধা হিসেবে আছে স্বাগতিক পাকিস্তান ও শক্তিশালী ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
পাশাপাশি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়বে আয়ারল্যান্ড নারী ক্রিকেট দলও। জ্যোতিদের জন্য বড় হুমকি এ তিনটি দল। তবে দেশ ছাড়ার আগে প্রস্তুতি নিয়ে সন্তোষ জানিয়ে প্রধান কোচ সারোয়ার ইমরান আশা প্রকাশ করেছেন ৫ ম্যাচের সবগুলোই জেতার। এর আগে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে পারবে সব দল। শনিবার শুরু হবে ওয়ার্ম-আপ ম্যাচ।
বাছাই খেলতে নামার জন্য গত ২২ মার্চ থেকে অনুশীলন ক্যাম্প করেছে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। এমনকি ঈদুল ফিতরেও ছুটি কাটাননি তারা। নারী ওয়ানডে চ্যাম্পিয়নশিপ শেষ হয়েছে গত জানুয়ারিতে। সেখানে সপ্তম স্থানে থেকে শেষ করে বাংলাদেশের মেয়েরা। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে ৩ ওয়ানডের সিরিজে দুটি ম্যাচ জিতলেই শুধু সরাসরি বিশ^কাপ খেলার সুযোগ হতো। কিন্তু শেষ ম্যাচটি হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয় জ্যোতিদের।
এখন বিশ^কাপ খেলার স্বপ্ন পূরণ করতে হলে বাছাইয়ে সেই উইন্ডিজ নারীদেরও হারাতে হবে। বড় হুমকি স্বাগতিক পাকিস্তান। এ বিষয়ে অবশ্য আগেই বাংলাদেশের অধিনায়ক জ্যোতি বলেছেন, পাকিস্তানের বিপক্ষে আমরা নিয়মিত খেলি এবং আগেও তাদের মাটিতে হারিয়েছি। ওয়েস্ট ইন্ডিজকেও তাদের মাঠে হারানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে। শুরুতে আমাদের ম্যাচ রয়েছে আয়ারল্যান্ড ও স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে।
সেগুলোতে জিতলে ভালো একটা মোমেন্টাম পাব। বৃহস্পতিবার সকালে বাংলাদেশের মেয়েরা ঢাকা ত্যাগ করেছেন। এর আগে প্রধান কোচ সারোয়ার ইমরান বলেছেন, পাকিস্তানে পাঁচটা ম্যাচই আমরা একের পর এক জিততে চাই। সেখানে আমাদের সঙ্গে দুইটা শক্তিশালী দলের খেলা রয়েছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং পাকিস্তান বাদে বাকি দলগুলোকেও আমরা ছোট করে দেখছি না, তবে তাদের বিপক্ষে জিতে কোয়ালিফাই করতে চাই।
এখন পর্যন্ত একবারই ওয়ানডে বিশ^কাপ খেলেছে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। ১৯৭৩ সাল থেকে শুরু হয়ে সবমিলিয়ে হয়েছে ১২টি আসর। সর্বশেষ আসরটি নিউজিল্যান্ডের মাটিতে ২০২২ সালে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানেই প্রথমবার খেলার সুযোগ পায় বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল র্যাঙ্কিং অনুসারে সেরা আটে থাকার সুবাদে। এবার তা অল্পের জন্য হয়নি। এখন টিকিট পেতে বেশ কঠিন লড়াই করতে হবে।
১০ এপ্রিল সকালে থাইল্যান্ড, ১৩ এপ্রিল (দিবারাত্রি) আয়ারল্যান্ড, ১৫ এপ্রিল (দিবারাত্রি) স্কটল্যান্ড, ১৭ এপ্রিল সকালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ১৯ এপ্রিল সকালে পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। সকালের ম্যাচ সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে লাহোর সিটি ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন গ্রাউন্ড এবং দিবারাত্রির ম্যাচ বিকেল ৩টায় লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে মাঠে গড়াবে। অনুশীলন ক্যাম্প ছাড়াও এখন ওয়ার্ম-আপ ম্যাচ খেলে লাহোরের পরিবেশে নিজেদের মানিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাবেন জ্যোতিরা।
তিনটি ম্যাচ লাহোর সিটি অ্যাসোসিয়েশন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে। এখানেই শনিবার প্রথম ওয়ার্ম-আপ ম্যাচে স্কটল্যান্ড ও ৭ এপ্রিল (সোমবার) আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে খেলবেন জ্যোতিরা। তাই দারুণ সুযোগ থাকছে এই ভেন্যু সম্পর্কে উইকেটের গতি-প্রকৃতি বুঝে ওঠার। কারণ এই মাঠেই অন্যতম দুই শক্তিধর ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও পাকিস্তানের মোকাবিলা করবে বাংলাদেশের মেয়েরা। তাই ওয়ার্ম-আপ ম্যাচ হলেও বেশ গুরুত্বের সঙ্গেই এ দুটি ম্যাচকে দেখছেন জ্যোতিরা।
সাধারণত ব্যাটিংবান্ধব উইকেট থাকে পাকিস্তানে। এ বিষয়ে কোচ সারোয়ার বলেছেন, আমরা এ ব্যাপারে ওয়াকিবহাল, অনুশীলনে আলাদা করে এই কাজগুলো করেছি। ব্যাটিং উইকেটে কিভাবে বোলিং করতে হবে, বোলিং উইকেটে কিভাবে ব্যাটিং করতে হবে এসব। স্ট্রাইকরেট কিভাবে কী করতে হবে সবকিছুই আমরা অনুশীলন করেছি।
এখানে ২৫০ রান প্লাস উইকেট হবে। আমি আশা রাখি আমাদের ব্যাটাররা এটা করতে সক্ষম হবে। আমাদের প্রস্তুতিও বেশ ভালো হয়েছে। এখন জ্যোতিরা মূল ম্যাচে নেমে নিজেদের সেরাটা দিতে পারলেই দ্বিতীয়বারের মতো ওয়ানডে বিশ^কাপ খেলার সুযোগটা আসবে।