ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ২০ চৈত্র ১৪৩১

বাছাইপর্ব খেলতে আজ পাকিস্তান যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয় নারী ক্রিকেট দল, মিরপুরে মাঠেই ঈদ উদ্যাপন করেছেন জ্যোতিরা

‘সবাই চায় বাংলাদেশ বিশ্বকাপ খেলুক’

মোঃ মামুন রশীদ

প্রকাশিত: ২২:০৬, ২ এপ্রিল ২০২৫

‘সবাই চায় বাংলাদেশ বিশ্বকাপ খেলুক’

মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি

বাংলাদেশে অনেক বড় একটি ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর। কিন্তু সেই ঈদে পরিবারকে সময় দিতে পারেননি বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের সদস্যরা। মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের একাডেমিতেই কেটেছে তাদের ঈদ। মূলত নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের অনুশীলন ক্যাম্পের জন্যই তাদের ঈদ কেটেছে মাঠে। যদিও নারী ক্রিকেট দলের অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি জানিয়েছেন তারা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) থেকে, কোচিং স্টাফদের কাছ থেকে উষ্ণ ব্যবহার, নানা উপহার, ঈদ সালামির সঙ্গে আন্তরিকতা পেয়ে বেশ ভালোভাবেই ঈদ কাটিয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে আজ সকালেই ঢাকা ছাড়ছেন জ্যোতিরা। বিশ্বকাপ বাছাই খেলতে তারা যাবেন পাকিস্তানের লাহোরে। এ নিয়ে জ্যোতি বুধবার দাবি করেছেন, সবাই চায় বাংলাদেশের মেয়েরা আসন্ন বিশ^কাপ খেলুক এবং তারাও এটি মনেপ্রাণেই চাইছেন। ৯ এপ্রিল শুরু হবে বিশ্বকাপ বাছাই এবং চলবে ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত। এর আগে সব দল ওয়ার্মআপ ম্যাচ খেলবে যা ৫ এপ্রিল শুরু হবে। 
এবার অল্পের জন্য সরাসরি নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পায়নি বাংলাদেশ। এ বছর অক্টোবর-নভেম্বরে ভারতে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপ খেলার জন্য এখন বাছাই খেলতে হবে পাকিস্তানের লাহোরে গিয়ে। ৬ দলের এই আসরে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, পাকিস্তান, আয়ারল্যান্ড, স্কটল্যান্ড ও থাইল্যান্ডের বিপক্ষে খেলবেন জ্যোতিরা। শীর্ষ দুটি দল বিশ্বকাপের টিকিট পাবে। এ কারণে আসন্ন ঈদুল ফিতরে ছুটি পাননি জ্যোতিরা। গত ২২ মার্চ থেকে অনুশীলন ক্যাম্প শুরু হয় তাদের। ঈদের জন্য ৩ দিন অনুশীলন না হলেও নানা কার্যক্রম, বিশেষ ক্লাস চলেছে, তাই ছুটি পাননি নারী ক্রিকেটাররা। মিরপুর জাতীয় একাডেমি ভবনে ঈদের দিন অবশ্য নারী ক্রিকেটাররা নতুন জামা পরেছেন। বিসিবি থেকে ঈদ উপহার পেয়েছেন, কোচিং স্টাফরা দিয়েছেন ঈদের সালামি ও উপহার। প্রধান কোচ সারোয়ার ইমরান, বিসিবি পরিচালক নাজমূল আবেদীন ফাহিমও তাদের সঙ্গে ঈদের দিন সময় দিয়েছেন। এ বিষয়ে  জ্যোতি বুধবার বলেছেন, পরিবার ছাড়া যে ঈদ করছি এ কষ্টটা কিন্তু চলে  গেছে। আজকে ফাহিম স্যার, ইমরান স্যার এবং আমাদের অন্যান্য  কোচিং স্টাফ যারা ছিলেন আমাদের ভালো সময় উপহার দেওয়ার  চেষ্টা করেছেন। আসলে সত্যি কথা, উনারা আমাদেরকে অনেকভাবে আনন্দিত করার চেষ্টা করেছেন। আমাদের উপহার দিয়েছেন, সালামি দিয়েছেন।  যেন মনে হচ্ছিল তারা আমাদের বাবা-মার মতোই। কারও মন  ছোট হওয়ার মতো অনুভব করতে  দেননি।
মূলত বিশ্বকাপ বাছাইয়ের জন্যই এই কষ্টটা স্বীকার করতে হয়েছে জ্যোতিদের। আজ সকালে তারা লাহোর যাচ্ছেন। নারী ওয়ানডে চ্যাম্পিয়নশিপে একেবারে শেষ ম্যাচটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারাতে পারলেই সরাসরি বিশ্বকাপ খেলতে পারত বাংলাদেশ নারী দল। কিন্তু উইন্ডিজের মেয়েরা জিততে দেয়নি জ্যোতিদের। শেষ পর্যন্ত বাছাইয়ের পরীক্ষাই দিতে হবে তাদের। বাছাইয়ে ৬ দলের মধ্যে মাত্র ২টি দল বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পাবে। সেখানে বাংলাদেশের মূল প্রতিপক্ষ হিসেবে স্বাগতিক পাকিস্তান ছাড়াও বড় প্রতিপক্ষ হিসেবে আছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। পাশাপাশি চ্যালেঞ্জ জানাবে আয়ারল্যান্ড নারী দলও।

১০ এপ্রিল থাইল্যান্ড, ১৩ এপ্রিল আয়ারল্যান্ড, ১৫ এপ্রিল স্কটল্যান্ড, ১৭ এপ্রিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ১৯ এপ্রিল পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ বাংলাদেশ নারী দলের। মাত্র একবার নারী ওয়ানডে বিশ^কাপ খেলেছে বাংলাদেশ। আসন্ন বিশ্বকাপ বাছাই নিয়ে জ্যোতি বলেছেন, বাছাইপর্ব  খেলতে যাচ্ছি মানেই আমাদের লক্ষ্য একটাই- বিশ্বকাপে জায়গা করে  নেওয়া। গতবারও আমাদের বাছাইপর্ব  খেলতে হয়েছে। এবারও  সেই চ্যালেঞ্জ নিতে হবে। এবার আমাদের সরাসরি বিশ্বকাপে  খেলার সুযোগ থাকলেও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ হারায় তা সম্ভব হয়নি। বাছাইপর্বে যদি ভালো  খেলতে পারি, তাহলে দল ও  দেশের জন্যই ভালো হবে। সবাই চায় বাংলাদেশ বিশ্বকাপে  খেলুক, আমরাও  সেটিই চাই। এজন্য দীর্ঘ সময় ধরে ব্যাটিং সমস্যা কাটিয়ে উঠতে চান জ্যোতি। তিনি বলেছেন, আমরা জানি, পাকিস্তানের উইকেটে রান  বেশি হয়। তাই আমাদের ব্যাটিং ও  বোলিং উভয় বিভাগেই ভালো করতে হবে। দল হিসেবে  খেলতে পারলে এবং ব্যাটাররা দায়িত্ব নিয়ে  খেললে ভালো কিছু সম্ভব। পাকিস্তানের বিপক্ষে আমরা নিয়মিত  খেলি এবং আগেও তাদের মাটিতে হারিয়েছি। ওয়েস্ট ইন্ডিজকেও তাদের মাঠে হারানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে। শুরুতে আমাদের ম্যাচ রয়েছে আয়ারল্যান্ড ও স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে।  সেগুলোতে জিতলে ভালো একটা  মোমেন্টাম পাব। বাছাইয়ে নামার আগে ৫ এপ্রিল স্কটল্যান্ড ও ৭ এপ্রিল আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি ওয়ার্মআপ ম্যাচ আছে বাংলাদেশের। এ দুটি ম্যাচকে বেশ গুরুত্ব দিচ্ছেন জ্যোতিরা।

×