
ছবি: হামজা চৌধুরী
খেলার মাঠে যেমন সফল তেমনি মানবিকতার দিক দিয়েও উজ্জ্বল হামজা চৌধুরী। এ প্রমাণ তিনি অনেকবার রেখেছেন। আরও একবার তার এমন মানবতার খবর মিলেছে।
ঈদুল ফিতরের দিন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) এক ভিডিও বার্তায় দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানান হামজা চৌধুরী। সেখানে সদ্যই বাংলাদেশের জার্সিতে অভিষেক হওয়া তারকা মিডফিল্ডার বলেন, ‘আমি এবং আমার পরিবারের পক্ষ থেকে সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা। আল্লাহ সবার মঙ্গল করুন। আপনাদের সঙ্গে শিগগিরই দেখা হবে ইনশাআল্লাহ।’
এর পর নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্টে ঈদ উদযাপনের তিনটি ছবি পোস্ট করেন হামজা। যেখানে ইংল্যান্ডের এক স্টেডিয়ামে ঈদের নামাজ পড়ার পূর্ববর্তী মুহূর্তের একটি ছবি আছে। এ ছাড়া একটি ছবিতে তাকে বেশ খোশমেজাজে এবং অপরটিতে তার হাতে একটি বিশেষ ব্রেসলেট পরিহিত দেখা যায়। কালো ফিতার সেই ব্রেসলেটে সংযুক্ত আছে লকেট আকারের ছোট একটি ফিলিস্তিনি পতাকা।
দুটি ছবিতেই সেই পতাকাটি দেখা গেলেও, তৃতীয় ছবিটি তা আরও স্পষ্ট করে দিয়েছে। বলার অপেক্ষা রাখে না যে, ঈদ উৎসবের মাঝেও হামজার মন কেঁদেছে ফিলিস্তিনের জন্য। এ ছাড়া কালো পাঞ্জাবি পরিহিত হামজার হাতের নিচে ছিল ফিলিস্তিনের ‘কেফিয়াহ’ নামক কালো ও সাদা রঙের ঐতিহাসিক একটি স্কার্ফ।
ফিলিস্তিনে চলমান ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ইউরোপিয়ান ফুটবলারদের প্রতিবাদ ছিল শুরু থেকেই। তবে মাঠে পতাকা ওড়ানোর রীতিটা চালু করার অন্যতম অগ্রদূত বাংলাদেশি তারকা ফুটবলার হামজা। সেই সময় তিনি জানিয়েছিলেন, গ্যালারিতে এক ব্যক্তির হাতে ফিলিস্তিনের পতাকা দেখে ম্যাচ জিতলে মাঠেই ওড়ানোর পরিকল্পনা ছিল তার। পরে স্টেডিয়ামের একজন নিরাপত্তারক্ষীকে দিয়ে তিনি সেই পতাকা আনিয়ে নেন। অমানবিকতার শিকার হওয়া ফিলিস্তিনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে তখন ব্যাপক প্রশংসা কুড়ান হামজা ও ফ্রান্সের ডিফেন্ডার ওয়েসলি ফোফানা।
জাহিদ জয়/রাকিব