ঢাকা, বাংলাদেশ   মঙ্গলবার ০১ এপ্রিল ২০২৫, ১৭ চৈত্র ১৪৩১

সারাজীবন একজনের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকবেন তামিম

প্রকাশিত: ১৬:৩৩, ২৯ মার্চ ২০২৫

সারাজীবন একজনের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকবেন তামিম

ছবি: সংগৃহীত।

বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরেছেন। তবে ফিরে তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন সেইসব চিকিৎসক ও ট্রেনারদের প্রতি, যারা তাঁর জীবন বাঁচাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

গত ২৪ মার্চ বিকেএসপিতে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচ চলাকালীন হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন তামিম। দ্রুত তাঁকে বিকেএসপির নিকটতম সাভারের কেপিজে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা এনজিওগ্রামের মাধ্যমে তাঁর হার্টে ব্লক শনাক্ত করেন এবং জরুরি ভিত্তিতে রিং পরানো হয়। পরবর্তী সময়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। কয়েকদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর অবস্থার উন্নতি হওয়ায় গতকাল দুপুরে তিনি বাসায় ফেরেন।

বাসায় ফিরে নিজের সুস্থতা ও চিকিৎসা-সংক্রান্ত অভিজ্ঞতা নিয়ে তামিম রাতে ফেসবুকে একটি আবেগঘন বার্তা দেন। তিনি লেখেন, "আপনাদের সবার দোয়ায় ও আল্লাহর অশেষ রহমতে এখন আমি বাসায়। উথালপাতাল এই চার দিনে শুধু নতুন জীবনই পাইনি, বরং চারপাশের মানুষদেরও নতুন করে চিনেছি। প্রতিটি মুহূর্ত কৃতজ্ঞতায় ভরা।"

বিকেএসপিতে অসুস্থ হওয়ার পরপরই মাঠের দায়িত্বে থাকা ম্যাচ রেফারি দেবব্রত পাল, বিকেএসপির চিকিৎসক, অ্যাম্বুলেন্সচালক ও মোহামেডানের সাপোর্ট স্টাফরা দ্রুত ব্যবস্থা নেন। তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তামিম লেখেন, "আমি সৌভাগ্যবান, অসুস্থ হওয়ার মুহূর্ত থেকেই পাশে পেয়েছি অনেককে। বিকেএসপির চিকিৎসক ও ম্যাচ রেফারি দেবব্রত পাল দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারত। তাঁদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।"

বিশেষভাবে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন জাতীয় দলের ট্রেনার ইয়াকুব চৌধুরী ডালিমের প্রতি। তিনি লেখেন, "বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, ডালিম ভাই যদি সঠিকভাবে সিপিআর না দিতেন, তাহলে আমাকে হয়তো আর বাঁচানো যেত না। আল্লাহর ইচ্ছায় তিনি আমাকে মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরিয়ে এনেছেন। আমি সারা জীবন তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞ থাকব।"

তামিমের অসুস্থতার খবর শুনে জাতীয় দলের তারকা ক্রিকেটাররা হাসপাতালে ছুটে যান। সাভারের কেপিজে হাসপাতালে তাঁকে দেখতে যান লিটন দাস, জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ও বিসিবির পরিচালক খালেদ মাহমুদ সুজনসহ অনেকেই। বিসিবি সভাপতি ফারুক আহমেদও তাঁর শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিয়েছেন।

তামিমের চিকিৎসায় নেতৃত্ব দেন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মনিরুজ্জামান মারুফ। তাঁর তত্ত্বাবধানে দ্রুত চিকিৎসা শুরু হওয়ায় জটিলতা এড়ানো সম্ভব হয়। চিকিৎসকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তামিম লেখেন, "ডা. মনিরুজ্জামান মারুফ ও তাঁর দল দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারত। তাঁদের পেশাদারিত্ব ও দক্ষতা আমাকে নতুন জীবন দিয়েছে।"

তিনি আরও লেখেন, "আমরা প্রায়ই মনে করি, দেশের বাইরে চিকিৎসা করানোই উত্তম, কিন্তু আমি নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলছি—আমাদের চিকিৎসকেরাও অত্যন্ত দক্ষ ও দায়িত্বশীল। তাঁদের প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা।"

তামিম জানিয়েছেন, পুরোপুরি সুস্থ হতে তাঁর আরও সময় লাগবে এবং আপাতত সম্পূর্ণ বিশ্রামে থাকতে হবে। চিকিৎসকদের অনুমতি ছাড়া তিনি ক্রিকেট মাঠে ফেরার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেবেন না।

সবশেষে তামিম সবার কাছে দোয়া চেয়ে লেখেন, "সেরে ওঠার পথ দীর্ঘ। তবে আমি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, ইনশা আল্লাহ দ্রুত সুস্থ হয়ে ফিরব। আমাকে ও আমার পরিবারকে প্রার্থনায় রাখবেন। সবার জীবন সুন্দর ও শান্তিময় হোক।"

সায়মা ইসলাম

×