ঢাকা, বাংলাদেশ   শনিবার ২৯ মার্চ ২০২৫, ১৪ চৈত্র ১৪৩১

হার্ট অ্যাটাকের পর সিসিইউতে তামিম

শাকিল আহমেদ মিরাজ

প্রকাশিত: ২৩:৫৩, ২৪ মার্চ ২০২৫

হার্ট অ্যাটাকের পর সিসিইউতে তামিম

তামিম ইকবাল

এক ঘণ্টার কম সময়ে দুইবার হার্ট অ্যাটাক, দ্বিতীয়টি ম্যাসিভ (ভয়ানক); মাঠ থেকেই জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে পৌঁছে গিয়েছিলেন তামিম ইকবাল খান। সোমবার টাইগার ইতিহাসের সেরা ওপেনারের জন্য থমকে গিয়েছিল গোটা ক্রীড়াঙ্গন। প্রার্থনায় ছিলেন দেশ-বিদেশের অগণিত সতীর্থ, বন্ধু, বর্তমান-সাবেক ক্রিকেটার। সব অঙ্গনের সকল মানুষ। আপাত বৃথা যায়নি সেই প্রার্থনা।

সাভারে কেপিজে স্পেশালাইজড হসপিটালের (সাবেক ফজিলাতুন্নেসা মুজিব হাসপাতাল) ডাক্তারদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় পরিস্থিতি স্থিতিশীল। তবে শঙ্কামুক্ত নয়। ৩৬ বছর বয়সী তামিমের হার্টে দুটি ব্লক ধরা পড়েছে। যার একটিতে পরানো হয়েছে স্টেন্ট (রিং)। হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, ৪৮ ঘণ্টা নিবিড় পর্যবেক্ষণে (সিসিইউ) রাখা হবে তাকে। অথচ বিকেএসপিতে এদিন শাইনপুকুরের বিপক্ষে টসও করেছিলেন মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব অধিনায়ক। এরপর বুকে ব্যথা শুরু হলে ফিল্ডিংয়ে নামতে পারেননি।
সকাল সাড়ে নয়টায় টসের পর পরিস্থিতি অবনতি হতে থাকলে দ্রুতই হেলিকপ্টার আনা হয়। কিন্তু ঝুঁকি বিবেচনায় তামিমকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়নি। পরে বোঝা গেছে এটা ছিল স্থানীয় ডাক্তারদের সময়োপযোগী ও সেরা সিদ্ধান্ত। তামিম কিছুটা অস্বস্তি বোধ করছিলেন টসের আগে ওয়ার্ম আপের সময়ই। টস করে ড্রেসিংরুমে ফেরার পর সেটা আরও বাড়ে।

মোহামেডান কর্মকর্তা তরিকুল ইসলামকে এ সময় তিনি বলেন, তার সম্ভবত গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা হচ্ছে। তারিকুল তখন তাকে বলেন, ‘তোমার মাঠে যাওয়ার দরকার নেই। বিশ্রাম নাও।’ কিছুক্ষণ পর তামিম আরও অসুস্থ বোধ করেন। তরিকুলকে তিনি জানান, তাঁর খারাপ লাগছে, মুখের দিকে ব্যথা হচ্ছে। তরিকুল ও টিম ম্যানেজার সাজ্জাদ হোসেনসহ মোহামেডান দল-সংশ্লিষ্টরা এরপর দ্রুত তামিমকে বিকেএসপির কাছের কেপিজে স্পেশালাইজড হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।

এ সময় বিকেএসপির চিকিৎসকও তাদের সাহায্য করেন। মোহামেডান কর্মকর্তাদের তিনিই পরামর্শ দেন তামিমকে বিকেএসপির কাছের এই হাসপাতালে নিয়ে যেতে। তার আগে সকাল ৯টা ২২ মিনিটে মোহামেডানের ফিজিও এনাম ম্যাচ রেফারি দেবব্রত পালকে ফোন করে জানান, বুকে ব্যথা অনুভব করায় তামিমকে হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে। 
হাসপাতালে যাওয়ার পর প্রাথমিকভাবে ইসিজি ও আরও কিছু পরীক্ষা করা হয়। তখনো পরিষ্কার হওয়া যায়নি তার আসলে কী হয়েছে। এরই মধ্যে ঢাকায় যোগাযোগ করে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স উড়িয়ে আনা হয় বিকেএসপির মাঠে। কেপিজে হাসপাতালে প্রাথমিকভাবে কিছু ধরা না পড়ায় তামিমও তখন ভেবেছিলেন, ঢাকায় গিয়েই ভালোভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাবেন।

সঙ্গে থাকা মোহামেডান কর্মকর্তাদের সেই ইচ্ছার কথা জানিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু কেপিজে হাসপাতাল থেকে বিকেএসপিতে ফিরে হেলিকপ্টারে ওঠার আগেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন তামিম। দেবব্রত পাল জানান, তখন তার মুখ থেকে ফেনা বের হচ্ছিল। পালস পাওয়া যাচ্ছিল না। আকস্মিক এই পরিস্থিতিতে কী করবেন, বুঝে উঠতে পারছিলেন না কেউ। বিকেএসপির চিকিৎসক তখন বলেন, অবস্থা খুব একটা ভালো নয়। সমস্যা বাড়তে পারে। তাই দ্রুত কাছের হাসপাতালে নেওয়া ভালো।

ওদিকে তামিমের এই শারীরিক অবস্থায় হেলিকপ্টারের চালকও তাকে নিয়ে ওড়াটা ঠিক হবে না বলে জানান। বেলা ১১টা ২০ মিনিটের দিকে তামিমকে আবার কেপিজে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। অ্যাম্বুলেন্সে পুরো সময়টাই তার বুকে পাঞ্চ করতে থাকেন মোহামেডানের ট্রেনার ইয়াকুব চৌধুরী। তামিমের অবস্থা তখন অনেকটাই সংকটাপন্ন ছিল বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। কারও কোনো ডাকেই সাড়া দিচ্ছিলেন না তিনি। সংকটাপন্ন অবস্থায় হাসপাতালে আনার পর প্রথমেই তামিমকে রাখা হয় লাইফ সাপোর্টে।
এর মধ্যে তামিমের পরিবারের সদস্যরাও চলে আসেন। কেপিজে হাসপাতালের কার্ডিওলজিস্ট মনিরুজ্জামান মারুফের তত্ত্বাবধানে তার অ্যানজিওগ্রাম, অ্যানজিওপ্লাস্টি ও স্টেন্ট করানো হয়। অ্যানজিওগ্রামে তামিমের হৃদযন্ত্রে একটি ব্লক ধরা পড়লে তখনই তাকে রিং (স্টেন্ট) পরানো হয়। মিরপুরে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) বোর্ড মিটিং স্থগিত করে প্রেসিডেন্ট ফারুক আহমেদসহ অন্য পরিচালকেরা দ্রুতই হাসপাতালে ছুটে যান। তামিমের সুস্থতা কামনা করছেন সবাই।

আইপিএলের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর) থেকে শুরু করে লঙ্কান কিংবদন্তি লাসিথ মালিঙ্গা, বাংলাদেশ দলের সাবেক অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা থেকে সাবেক সতীর্থ তাসকিন আহমেদ, মেহেদি হাসান মিরাজসহ অনেকেই তামিমকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট দিয়েছেন।

×