
স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ সাউথ এশিয়ান গেমসের (এসএ গেমস) যেকোন ডিসিপ্লিনের স্বর্ণজয়ের চেয়ে ফুটবলের স্বর্ণজয়ে রয়েছে ভিন্ন রকম মর্যাদা এবং অন্য রকম অনুভূতি। প্রতিবারই লাল-সবুজের দলকে সম্ভাব্য শিরোপাজয়ী হিসেবে ভাবা হয় এই ইভেন্টে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, এ পর্যন্ত মাত্র দুইবারের বেশি চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি বাংলাদেশ! গেমস শুরু হবার দীর্ঘ ১৫ বছর প্রতীক্ষার পর ১৯৯৯ সালে কাঠমান্ডুতে ফুটবলে প্রথম সাফল্যের মুখ দেখে বাংলাদেশ। এরপর আবারও দীর্ঘ ১১ বছরের বিরতি। দ্বিতীয় শিরোপা আসে ঢাকায়, নিজেদের মাটিতে, ২০১০ আসরে। গত ১২ আসরে এই ইভেন্টে ২ স্বর্ণ, ৪ রৌপ্য ও ২ তাম্রপদক লাভ করে বাংলাদেশ। এছাড়া সাউথ এশিয়ান বিচ ফুটবলে স্বর্ণজয়ের অনন্য কৃতিত্ব রয়েছে লাল-সবুজ বাহিনীর।
নয় বছর পর আবারও ফুটবলে স্বর্ণপদক জয়ের প্রত্যাশা করছে বাংলাদেশ। এ লক্ষ্যে ১০ দিনের প্রস্তুতি ক্যাম্প শুরু হওয়ার কথা ছিল গত বৃহস্পতিবার। কিন্তু বসুন্ধরা কিংস তাদের ৮ খেলোয়াড় না ছাড়ায় ক্যাম্প শুরু করা সম্ভব হয়নি। তবে সর্বশেষ খবর অনুযায়ী অবশেষে তারা ক্লাব থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। ফলে মঙ্গলবার দলের সঙ্গে যোগ দিচ্ছেন এই ফুটবলাররা। বুধবার সকালে কাঠমান্ডুর বিমানে উঠবে বাংলাদেশ ফুটবল দল। এর ফলে ১০ দিনের জায়গায় এখন মাত্র চার দিনের প্রস্তুতি নেয়ার সুযোগ পাবে তারা।
দলের ম্যানেজার সত্যজিৎ দাস রূপু বলেন, চার দিনের প্রস্তুতি নিলেও কাঠমান্ডুর আসরে আশা করি আমাদের ফল খারাপ হবে না। কারণ এই খেলোয়াড়রা তো অনেকদিন ধরেই ইংলিশ কোচের অধীনে আছে। এছাড়া তারা নিজেদের ক্লাবে অনুশীলনে থাকায় ফিটনেস নিয়েও সমস্যা হবে না। কোচ সবাইকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়েছেন। আশা করছি, কাঠমান্ডুতে গিয়ে আমরা অনুশীলনে এ নিয়ে আরও কাজ করতে পারবো।’
দলনায়ক জামাল ভুঁইয়া ছুটি নিয়েছিলেন। তার আজই ক্রাম্পে যোগ দেয়ার কথা। কোচ জেমি ডেও ইংল্যান্ড থেকে সরাসরি নেপালে গিয়ে দলের সঙ্গে যোগ দেবেন।
কাঠমান্ডুর দশরথ স্টেডিয়ামে আগামী ১-১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত হবে এসএ গেমস ফুটবল। এরই মধ্যে নির্ধারণ হয়েছে গ্রুপ। বাংলাদেশ এ- গ্রুপে স্বাগতিক নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে খেলবে। বি-গ্রুপে ভারত, মালদ্বীপ ও শ্রীলঙ্কা। যদিও ভারতের খেলা বা না খেলা নিয়ে এখনও রয়েছে সংশয়। দুই গ্রুপ থেকে সেরা দুটি করে দল খেলবে সেমিফাইনালে। সেখানে বিজয়ী দুই দল মুখোমুখি হবে সোনার লড়াইয়ে। সেমিফাইনালে হেরে যাওয়া দুই দল খেলবে তাম্রপদকের জন্য।
১৯৯৯ সালে ফুটবলে প্রথম সোনার পদক জিতেছিল বাংলাদেশ। সেবার স্বাগতিক নেপালকে ১-০ গোলে হারিয়েছিল লাল-সবুজরা। এরপর ২০১০ সালে নিজেদের মাঠে আফগানিস্তানকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে সাফল্য পেয়েছিল আমিনুল-এমিলিরা। এসএ গেমসের এবারের আসরে অংশ নিচ্ছে না বাংলাদেশের নারী ফুটবল দল। তাই এই ডিসিপ্লিনে স্বর্ণপদক জয়ের দায়িত্ব বর্তেছে ছেলেদের কাঁধে।
ইতোমধ্যেই ২০ জনের দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। অনুর্ধ-২৩ বছর বয়সীদের নিয়ে হওয়া এই ইভেন্টে তিন সিনিয়র খেলোয়াড় খেলানোর সুযোগ আছে। এ কোটায়দলে সুযোগ পেয়েছেন জাতীয় দলের তিন সিনিয়র জামাল ভুঁইয়া, ইয়াসিন খান ও নাবিব নেওয়াজ জীবন। জামালকে দেয়া হেেছ অধিনায়কত্বের ভার।
দলে নতুন মুখ ৪ জন। গোলরক্ষক পাপ্পু হাসান ও মাহফুজ হাসান প্রীতম, আক্রমণভাগে আল আমিন ও রকিব হোসেন।
১৯৯৯ আসরে ফুটবলে গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশ প্রথম ম্যাচেই হেরে গিয়েছিল মালদ্বীপের কাছে, ১-২ গোলে। পরের ম্যাচেই অবশ্য তারা ঘুরে দাঁড়ায় শ্রীলঙ্কাকে ১-০ গোলে হারিয়ে। সেমিতে শক্তিশালী ভারতে ১-০ গোলে হারিয়ে শিরোপাজয়ের সম্ভাবনা জোরালো করে তোলে। ফাইনালে প্রতিপক্ষ হিসেবে পায় নেপালকে। তাদেরও ১-০ গোলে হারিয়ে অধরা স্বর্ণপদক নিজেদের করে নেয় লাল-সবুজরা। ফাইনালে বাংলাদেশের হয়ে জয়সূচক গোলটি করেন আলফাজ আহমেদ। ওই দলের খেলোয়াড় তালিকা হচ্ছে : জুয়েল রানা (অধিনায়ক), আলফাজ আহমেদ, বিপ্লব ভট্টাচার্য্য, শাহাজউদ্দিন টিপু, নজরুল ইসলাম, আবু ফয়সাল, মতিউর মুন্না, ইকবাল হোসেন, মনোয়ার, আনোয়ার, ডন, সৌরভ, হাসান আল মামুন, রজনী কান্ত বর্মণ, মাসুদ রানা, পনিরুজ্জামান পনির, মোহাম্মদ মনোয়ার, লিটন, মিন্টু ও আপেল। কোচ : শামির শাকির। ম্যানেজার : আবদুল গাফফার। সহকারী কোচ : মোঃ জাহাঙ্গীর।
২০১০ এসএ গেমসের ফুটবলে গ্রুপ পর্বে নেপালকে ৩-০ গোলে হারিয়ে শুভসূচনা করে স্বাগতিক বাংলাদেশ। এরপর ৪-০ গোলে বিধ্বস্ত করে ভুটানকে। জয়ের ধারা অব্যাহত রাখে পরের ম্যাচেও, মালদ্বীপকে ১-০ গোলে হারিয়ে। নাম লেখায় শেষ চারে। সেখানে শক্তিশালী ভারতকে ১-০ গোলে হারিয়ে টিকেট কাটে ফাইনালের। সেখানে আফগানিস্তানকে ৪-০ গোলে হারিয়ে জয়োল্লাসে মাতে। দলের জয়ে ১টি করে গোল করেন মিশু, এনামুল, কোমল ও সবুজ।
স্বর্ণজয়ী বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড় ছিলেন এনামুল হক, অরূপ কুমার বৈদ্য, আতিকুর রহমান মিশু, ইমতিয়াজ সুলতান জিতু, আমিনুর হক (অধিনায়ক), আরিফুল ইসলাম, জাহিদ হাসান এমিলি, মামুন মিয়া, মামুনুর ইসলাম, মাজহারুল ইসলাম হিমেল, মোবারক হোসেন ভুঁইয়া, নাসিরুল ইসলাম নাসির, আবদুর বাতেন মজুমদার কোমল, মোহাম্মদ নেহাল, ওয়ালী ফয়সাল, ইউসুফ মাহমুদ, জাহিদ হোসেন, মিঠুন চৌধুরী, জাহেদ পারভেজ চৌধুরী, মোনায়েম খান রাজু, রেজাউল করিম, শাকিল আহমেদ, তৌহিদুল আলম সবুজ, তৌহিদল ইসলাম সিদ্দিক ও মিন্টু শেখ। কোচ : জোরান জর্জেভিচ। ম্যানেজার : হাসানুজ্জামান খান বাবুল।
২০১৯ এসএ গেমসের সোনা জিতে কি বাংলাদেশের ফুটবল দল এরকম তালিকায় নিজেদের নাম লিপিবব্ধ করে স্মরণীয়-বরণীয় হতে পারবে পূবসূরীদের মতো?