ঢাকা, বাংলাদেশ   শনিবার ২৯ মার্চ ২০২৫, ১৫ চৈত্র ১৪৩১

শিলংয়ে বাংলাদেশ ভারত ফুটবল মহারণ আজ

রুমেল খান

প্রকাশিত: ২৩:৪৮, ২৪ মার্চ ২০২৫

শিলংয়ে বাংলাদেশ ভারত ফুটবল মহারণ আজ

শিলংয়ে ভারতীয় ডিফেন্ডার সন্দেশ ঝিংগান ও বাংলাদেশ অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া

আরও একবার মুখোমুখি হচ্ছে দুই প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশ ও ভারত। এবারের লড়াই ফুটবলে। এএফসি এশিয়ান কাপের বাছাইপর্বের গ্রুপ পর্বের ম্যাচে আজ স্বাগতিক ভারতের বিরুদ্ধে খেলবে সফরকারী বাংলাদেশ। ভারতের মেঘালয় রাজ্যের শিলংয়ের জওহরলাল নেহেরু স্টেডিয়ামে হাইভোল্টেজ ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় আজ সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে। সরাসরি সম্প্রচার করবে টি স্পোর্টস চ্যানেলে। 
শক্তির বিচারে দক্ষিণ এশিয়ার সেরা দল ভারত। কিন্তু তাদেরকে হোঁচট খাওয়াতে কিংবা রুখে দিতে পারে যে দলটি, তারা বাংলাদেশ। পরিসংখ্যানের বিচারে অনেক এগিয়ে থাকলেও ভারত সবসময়ই বাংলাদেশ দলকে যথেষ্ট সমীহ করে। আর এবার তো রীতিমতো ‘ভয়’ই পাচ্ছে। কেননা বাংলাদেশ দলে প্রথমবারের মতো খেলবেন ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে খেলা তারকা ফুটবলার হামজা চৌধুরী, যার বাজারমূল্য পুরো ভারত জাতীয় ফুটবল দলের প্রায় কাছাকাছি! তবে দু’দলেরই কোচ-অধিনায়ক নিজ দলের জয়ের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

ফিফা র‌্যাংকিংয়ে এবং হেড টু হেডে ভারতই বেশ এগিয়ে। ১৯৭৮-২০২১ সাল পর্যন্ত নানা টুর্নামেন্টে দু’দেশ মুখোমুখি হয়েছিল ৩১ বার। যার মধ্যে মাত্র তিনবার জিতেছে বাংলাদেশ। ১২টি ম্যাচ ড্র হয়েছে। বাকি ১৬টিতে জিতেছে ভারত। তবে সর্বশেষ মোকাবিলায় ভারতকে রুখে দিয়েছিল বাংলাদেশ (১-১, সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ, ২০২১)। ভারতকে বাংলাদেশ শেষ হারের স্বাদ দিয়েছিল সেই ২০০৩ সালে, দেশের মাটিতে, সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিতে। আজ জিততে পারলে দীর্ঘ ২২ বছর পর ভারতের বিপক্ষে জয়ের স্বাদ গ্রহণ করতে পারেবন জামাল-হামজারা। 
আজকের ম্যাচের আগে সোমবার অনুষ্ঠিত হয় ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলন। সেখানে বাংলাদেশ কোচ জাভিয়ের ক্যাবরেরা বলেছেন, ‘আমার মনে হয় এটা খুবই উত্তেজনাপূর্ণ একটি খেলা হতে চলেছে। আমরা খুবই উৎসাহিত। দলটি ইতোমধ্যেই ২৪ দিন ধরে কঠোর পরিশ্রম করছে এবং অনুশীলন করছে। সত্যি বলতে, আমরা খুব খুশি। আমরা আত্মবিশ্বাসী এবং খুব কঠিন খেলা আশা করছি। আশা করি আমরা ভারতের জন্য পরিস্থিতি খুব কঠিন করে তুলব।’
ভারতে এসে অনুশীলন করতে গিয়ে নানা অসুবিধা-অসহযোগিতার সম্মুখীন হয়েছে বাংলাদেশ। এ নিয়ে বাংলাদেশ কোচের ভাষ্য, ‘এ নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে। ঠিক আছে, আমরা কোনো অজুহাত খুঁজতে চাই না। আজ, আমরা স্টেডিয়ামে অনুশীলন করতে যাচ্ছি অবশেষে, আমরা এর সেরাটা নিতে যাচ্ছি। যাই হোক, আমরা প্রস্তুত। আমরা সেরা সুযোগ-সুবিধাগুলোতে প্রশিক্ষণ নিচ্ছি না, তবে আমরা খুব ভালো প্রস্তুতি নিচ্ছি। তাই, এটি এখন আমাদের মনোযোগের বিষয় নয়। আমরা আগামীকালের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত।’ 
বাংলাদেশ-ভারতের দুই সুপারস্টার হামজা ও সুনীল প্রসঙ্গে ক্যাবরেরা বলেন, ‘আমি মনে করি হামজা এবং সুনীলকে ফিরে পাওয়া আরও বেশি উত্তেজনাপূর্ণ। এটি সত্যিই প্রতিযোগিতামূলক একটি ম্যাচ হতে চলেছে। তবে এটি কেবল তাদের সম্পর্কে হবে না, অবশ্যই। যদি আমরা আগামীকাল জিততে পারি, তবে এটি কেবল হামজার জন্য হবে না। হামজা অবশ্যই আমাদের আরও ভালো করে তোলে। কোনো সন্দেহ নেই।

এবং আমি মনে করি সুনীল ভারতকেও আরও ভালো করে তোলে। আমরা জানি যে ২০০৩ সাল থেকে, আমরা ভারতের বিরুদ্ধে জিততে পারিনি। কিন্তু আবারও, আমরা খুব আত্মবিশ্বাসী যে আমরা আগের চেয়েও শক্তিশালী। মানসিকভাবেও আমরা খুব শক্তিশালী।’
ভারত কোচ মানোলা মারকুয়েজ বলেন, ‘প্রথম জিনিসটি ছিল আমরা যে পদ্ধতিটি বাস্তবায়ন করতে চেয়েছিলাম তার জন্য সঠিক খেলোয়াড় খুঁজে বের করা। আমি বলব ৮০% খেলোয়াড় পরিবর্তন। আমরা এমন খেলোয়াড়দের চেয়েছিলাম যাদের উচ্চাকাক্সক্ষা, বিনয়, কঠোর পরিশ্রমীদের সেই পরিচয় থাকতে হবে, যা আমার মনে হয় গত তিন বছর ধরে এই দলকে সংজ্ঞায়িত করেছে এবং সেই সিনিয়রদের মধ্যে সঠিক ভারসাম্য খুঁজে বের করার চেষ্টা করেছে এবং এখনো সেই উচ্চাকাক্সক্ষা এবং জাতীয় দলের হয়ে খেলার জন্য সেই আবেগ ছিল, সম্ভাব্য এবং প্রতিভাবান তরুণ খেলোয়াড়দের সঙ্গে সঠিক মিশ্রণ।’
বাংলাদেশ অধিনায়ক জামাল ভুঁইয়া বলেন, ‘ভারতে আমার অনেক সুখস্মৃতি আছে। এই কক্ষের সবার মতো আমিও ভীষণ রোমাঞ্চিত আগামীকালের ম্যাচ নিয়ে। আমরা র‌্যাংকিংয়ের চিন্তা করি না। আমাদের মনোযোগ এই ম্যাচ জিততে হবে। কোচ স্কোয়াডের ব্যাপারে যেটা বলেছেন, এটা আমাদের এ যাবৎকালের সেরা স্কোয়াড। অনেক শক্তিশালী। হামজা তো এসেছে। এটা আমাদের অনেক বেশি উজ্জীবিত করছে।

কোচের পরিকল্পনাই হচ্ছে তিন পয়েন্ট। এটা আমি এবং সবাই চায়। এটার জন্য আমরা আমাদের সেরাটা দেব। প্রতিপক্ষ ভারত হলে ম্যাচ ও ম্যাচের আগে-পরে সবাই রোমাঞ্চটা অনুভব করে। ম্যাচের মধ্যে আমরা সমর্থকদের চেয়ে খেলাতেই বেশি মনোযোগী থাকি। সমর্থকরা কে কি বলেছ, সেটায় মনযোগ থাকে না। তবে ম্যাচের আগে আপনি অবশ্যই পুরোর ব্যাপারটাই গভীরভাবে অনুভব করতে পারবেন। কিছুটা চাপও অনুভূত হয়। বোঝা যায় ধীরে ধীরে প্রত্যাশা বাড়ছে। তবে যখন খেলাটা শুরু হয়, তখন সব মনোযোগ খেলাতেই চলে যায়।’
তিন পয়েন্ট পাওয়া নিয়ে জামাল বলেন, ‘দলের যে মানসিক অবস্থা, তাতে মনে করি আমাদের তিন পয়েন্ট নেওয়ার ক্ষমতা আছে। যদি ড্র হয় ওকে। তবে ভাবনায় তিন পয়েন্ট। প্রত্যেক প্লেয়ারকে জিজ্ঞাসা করতে পারেন, সবাই একই উত্তর দিবে, যে এখানে আমরা এসেছি তিন পয়েন্টের জন্য। অবশ্যই হামজার সংযুক্তি ইতিবাচক ব্যাপার। কিন্তু লোকাল প্লেয়ার যারা আছে, তারাও এই ম্যাচ নিয়ে ভীষণ আশাবাদী।

সবার মানসিকতায় পরিবর্তন দেখতে পাচ্ছি। আমাদের খেলায় আমূল পরিবর্তন এসেছে আমাদের কোচ এখানে আসার পর থেকেই। অনেককিছুই বদলে গেছে। খেলোয়াড়রা অনেক বেশি প্রস্তুত দুই বছর আগের সাফের তুলনায়। আসলেই এটা অনেক শক্তিশালী স্কোয়াড। যদিও আমরা চাপ অনুভব করছি, একইসঙ্গে শান্তও আছি।’

×