ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ২০ চৈত্র ১৪৩১

যে দেশে প্রতি ১২ জনের ১ জন বাংলাদেশি!

প্রকাশিত: ০৭:৪৬, ৩ এপ্রিল ২০২৫; আপডেট: ০৭:৫২, ৩ এপ্রিল ২০২৫

যে দেশে প্রতি ১২ জনের ১ জন বাংলাদেশি!

বিশ্বের নানা প্রান্তে বাংলাদেশিরা ছড়িয়ে পড়েছে, তবে এক বিস্ময়কর তথ্য হলো, ওশেনিয়ার ছোট্ট একটি  দ্বীপদেশের সঙ্গে বাংলাদেশের একটি চমকপ্রদ যোগসূত্র রয়েছে।প্রশান্ত মহাসাগরের পশ্চিমে অবস্থিত ওশেনিয়ার ছোট্ট দ্বীপদেশ পালাউ।এই স্বাধীন দেশটি আয়তনে ক্ষুদ্র হলেও, এর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও বৈচিত্র্য পর্যটকদের আকৃষ্ট করে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। স্বচ্ছ নীল জলরাশি, প্রবালপ্রাচীর এবং বৈচিত্র্যময় সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের কারণে এটি বিশ্বের অন্যতম দর্শনীয় স্থান।


পালাউ মূলত ৩৪০টি ছোট-বড় দ্বীপ নিয়ে গঠিত। এর মধ্যে আটটি প্রধান দ্বীপ এবং ২৫০টিরও বেশি ক্ষুদ্র দ্বীপ রয়েছে। এই দ্বীপদেশ বিশ্বের অন্যতম সেরা স্কুবা ডাইভিং গন্তব্য হিসেবে পরিচিত। পালাউ-এর উপকূলে প্রায় ১৩০ প্রজাতির হাঙর পাওয়া যায়। এখানকার এক বিশেষ হৃদে লাখ লাখ জেলিফিশ ভেসে বেড়ায়, যা বিশ্বের অন্য কোথাও বিরল। সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে পালাউ অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে এবং একে বিশ্বের অন্যতম পরিবেশবান্ধব দেশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।


অর্থনৈতিকভাবে পালাউ বেশ সমৃদ্ধ। এখানকার আয়ের প্রধান উৎস পর্যটন শিল্প। পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে সরকার বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করেছে। এছাড়াও, কৃষিকাজ এবং মাছ ধরা এখানকার মানুষের অন্যতম জীবিকা।
পালাউ-এর ইতিহাস সমৃদ্ধ এবং বহু দেশের শাসনের সাক্ষী। ১৫০০ সালের দিকে স্পেন দেশটি দখল করে এবং স্প্যানিশ ইস্ট ইন্ডিজের অংশ হিসেবে শাসন শুরু করে। এরপর ১৮৯৯ সালে স্পেন-আমেরিকা যুদ্ধের পর পালাউ জার্মানির দখলে চলে যায় এবং জার্মান নিউগিনির অংশ হিসেবে শাসিত হতে থাকে। 


প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপান পালাউ দখল করে নেয় এবং এটি তাদের সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের পরাজয়ের পর পালাউ জাতিসংঘের ট্রাস্ট এলাকায় পরিণত হয় এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অধীনে চলে যায়। অবশেষে, ১৯৯৪ সালের অক্টোবর মাসে দীর্ঘ শাসনের পর পালাউ একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
ভাষা ও সংস্কৃতির দিক থেকে পালাউ বৈচিত্র্যময়। এর সরকারি ভাষা পালাউন এবং ইংরেজি। তবে কিছু মানুষ এখনো জাপানি ভাষায় কথা বলেন। দেশটিতে কোনো নির্দিষ্ট রাষ্ট্রধর্ম নেই, তবে খ্রিস্টধর্ম প্রধান ধর্ম হিসেবে বিদ্যমান। এখানকার সাক্ষরতার হার ৯৭% যা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। পালাউ-এর অন্যতম জনপ্রিয় খেলা বেসবল।

বাংলাদেশিদের বিস্ময়কর উপস্থিতি!
সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য হলো, পালাউ-এর মোট ২৪,০০০ জনসংখ্যার মধ্যে প্রায় ২,০০০ জনই বাংলাদেশি। অর্থাৎ, প্রতি ১২ জনের ১ জন বাংলাদেশি! মূলত পর্যটন, ব্যবসা এবং বিভিন্ন শ্রমশক্তির চাহিদা পূরণে বাংলাদেশিরা এখানে বসবাস করছেন এবং পালাউ-এর অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।
প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য পালাউ যেন এক স্বর্গরাজ্য, যেখানে বাংলাদেশের নামও বিশেষভাবে উচ্চারিত হচ্ছে!এই ছোট্ট দ্বীপদেশে বাংলাদেশিদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি একদিকে যেমন আমাদের শ্রমশক্তির ব্যাপক বিস্তারের ইঙ্গিত দেয়, তেমনি বিশ্বদরবারে বাংলাদেশের গুরুত্বকেও তুলে ধরে।

 

সূত্র:https://tinyurl.com/4pftdyh5

আফরোজা

×