
ছবি: সংগৃহীত
মহাবিশ্বের সম্প্রসারণের গতি কমে আসছে বলে সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা একটি গবেষণায় জানিয়েছেন। এর ফলে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে, তবে কি পৃথিবীর সময়ও ফুরিয়ে আসছে? একের পর এক কেয়ামতের বিভিন্ন আলামত প্রকাশ পাচ্ছে, আর বিজ্ঞানীদের গবেষণায়ও এমনই ইঙ্গিত মিলছে।
ইউনিভার্সিটি অফ পেনসিলভানিয়ার গবেষক জশুয়া কিম এবং ম্যাথিউ মাধবচেরিলের নেতৃত্বে এক গবেষণায় উঠে এসেছে যে মহাবিশ্বে পদার্থ ছড়িয়ে পড়ার গতি আগের তুলনায় অনেকটাই কমে এসেছে। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, মহাবিশ্ব এখন তাদের পূর্বানুমানের চেয়ে কম বিশৃঙ্খল। তাদের এই গবেষণা মহাবিশ্বের বিবর্তন সম্পর্কিত প্রচলিত ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করেছে। বিজ্ঞানভিত্তিক সাইট 'নরিচ' জানায়, গবেষণাটি প্রকাশ পেয়েছে 'জার্নাল অফ কসমোলজি অ্যান্ড অ্যাস্ট্রোপার্টিক্যাল ফিজিক্স'-এ।
গবেষকরা মহাবিশ্বের এই অমিল পরিমাপ করেছেন 'সিগমা এইট' নামক একটি মেট্রিক ব্যবহার করে, যা মহাবিশ্বের বিশৃঙ্খলতার মাত্রা নির্ণয় করতে সক্ষম। গবেষণায় দেখা গেছে, এর মান প্রত্যাশার তুলনায় কম, যা বোঝায় যে মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ ও বিবর্তনের গতি ধীর হয়ে যাচ্ছে।
গবেষণায় দুটি প্রধান উৎস থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। প্রথমত, চিলিতে অবস্থিত আটাকামা কসমোলজি টেলিস্কোপ (এসিটি) থেকে পাওয়া তথ্য, যা বিগ ব্যাং-এর প্রায় ৩,৮০০,০০০ বছর পর মহাবিশ্বের অবস্থা বিশ্লেষণ করেছে। এই কসমিক মাইক্রোওয়েভ ব্যাকগ্রাউন্ড (সিএমবি) গবেষকরা মহাবিশ্বের শৈশবকালীন চিত্র সম্পর্কে নতুন তথ্য পেয়েছেন। দ্বিতীয়ত, অ্যারিজোনার ডার্ক এনার্জি স্পেক্ট্রোস্কপিক ইন্সট্রুমেন্ট (ডিইএসআই) ব্যবহার করে লাখ লাখ ছায়াপথ গবেষণা করা হয়েছে, যার মাধ্যমে মহাবিশ্বের বর্তমান কাঠামোর একটি মানচিত্র তৈরি করা হয়েছে।
এই গবেষণার মাধ্যমে বোঝা যাচ্ছে যে মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ ধীর হয়ে আসছে, যা মহাবিশ্বের আয়ুষ্কাল সম্পর্কে নতুন চিন্তার জন্ম দিচ্ছে। ইসলামী বিশ্বাস অনুসারে, কেয়ামতের অন্যতম প্রধান আলামত হলো সূর্যের পশ্চিম দিকে উদয় হওয়া। গবেষণার এই নতুন তথ্যের সঙ্গে ধর্মীয় বিশ্বাসের মিল খুঁজে পাচ্ছেন অনেকে।
আল কোরআনে বলা হয়েছে, "তারা কি ভেবে দেখে না যে মহাকাশ ও পৃথিবী এবং এ দুয়ের মধ্যবর্তী সবকিছুই আল্লাহ যথাযথভাবে ও নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সৃষ্টি করেছেন? কিন্তু মানুষের মধ্যে অনেকেই তাদের রবের সাক্ষাতে অবিশ্বাসী।" (সূরা আর-রূম: ৮)
বিশ্বখ্যাত মুফাসসিরগণ ব্যাখ্যা করেছেন, কোরআনে 'নিদর্শন' শব্দটি সূর্যের পশ্চিম থেকে উদিত হওয়ার দিকেই ইঙ্গিত করে। সহিহ হাদিসেও উল্লেখ আছে যে, "যেদিন পশ্চিম দিক থেকে সূর্য উদিত হবে, সেদিন সকলেই ঈমান আনবে, কিন্তু তখন সেই ঈমান কোনো উপকারে আসবে না।"
মহাবিশ্বের অপার বিশালতা, জটিলতা এবং সৃষ্টির সৌন্দর্য আমাদের কল্পনারও বাইরে। বিজ্ঞানীরা প্রতিনিয়ত মহাবিশ্বের রহস্য উন্মোচনে নতুন নতুন গবেষণা করছেন। কিন্তু অনেক সময় তারা বিভিন্ন তত্ত্বের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করতে পারেন না।
বিজ্ঞানীরা এবার এমন একটি তথ্য দিয়েছেন, যা কেয়ামতের সম্ভাব্য সময় আরও স্পষ্ট করে তুলছে। মহাবিশ্বের সম্প্রসারণের গতি কমে যাওয়ার এই নতুন আবিষ্কার ভবিষ্যতে আরও গভীর গবেষণার বিষয় হয়ে উঠতে পারে।
ভিডিও দেখুন: https://youtu.be/sHmHzic5QZs?si=z4MxmiGu5S-Lxa6J
এম.কে.