ঢাকা, বাংলাদেশ   রোববার ৩০ মার্চ ২০২৫, ১৬ চৈত্র ১৪৩১

মৃত্যু পথযাত্রীর সামনে কেন সুরা ইয়াসিন পড়া হয়?

প্রকাশিত: ০৯:৪৩, ২৭ মার্চ ২০২৫; আপডেট: ০৯:৪৭, ২৭ মার্চ ২০২৫

মৃত্যু পথযাত্রীর সামনে কেন সুরা ইয়াসিন পড়া হয়?

ছবি: সংগৃহীত।

প্রত্যেক মুসলমানের কাছে অত্যন্ত প্রিয় সূরা ইয়াসিন। একে বলা হয় কোরআনের হৃদয়, কেননা এতে রয়েছে কোরআনের সারসংক্ষেপ। এমনকি এই সূরায় রয়েছে জীবন ও মৃত্যুর বর্ণনা। সূরা ইয়াসিনের গুরুত্ব নিয়ে আরও জানাচ্ছেন সাঞ্জিদ আজিজ।

সূরা ইয়াসিন কোরআনের ৩৬তম সূরা। এর আয়াত সংখ্যা ৮৩ এবং রুকু রয়েছে পাঁচটি। এটি নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর নবুয়ত লাভের প্রথম দিকে, হিজরতের বহু আগে, মক্কায় অবতীর্ণ হয়।

সূরা ইয়াসিনের মূল বার্তা
এই সূরার প্রথম অংশে অতীত ইতিহাস নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। দ্বিতীয় অংশে আমাদের চারপাশের নিদর্শনসমূহের কথা বলা হয়েছে। তৃতীয় অংশে ভবিষ্যৎ তথা আমাদের পরিণতি সম্পর্কে বার্তা রয়েছে। এর মূল বিষয়বস্তু কেয়ামত, জান্নাত ও জাহান্নাম।

প্রত্যেক অংশেই একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরা হয়েছে—মৃত ব্যক্তির পুনরুত্থান এবং সেই পুনরুত্থানের পর আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করা। এ কারণেই মৃত্যুপথযাত্রীর সামনে সূরা ইয়াসিন পড়ার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর উদ্দেশ্য হলো, ব্যক্তির রুহুকে শরীর থেকে আলাদা হওয়ার জন্য প্রস্তুত করা।

আল্লাহর নিদর্শন ও মানবসত্তা
সূরা ইয়াসিনের ভূমিকায় জীবন ও মরণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। মধ্যভাগে আল্লাহ আমাদের চারপাশের নিদর্শন তুলে ধরেছেন। তিনটি বিষয়ে বিশেষভাবে আলোকপাত করা হয়েছে—
১. নিষ্প্রাণ ভূমি বা পৃথিবী, যা আল্লাহর সৃষ্টি ও পুনর্জীবনের নিদর্শন।
২. বেহেশত, যা বিশ্বাসীদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে।
৩. মানবসত্তা সৃষ্টি, যার মধ্যে রয়েছে আল্লাহর অসীম ক্ষমতার প্রকাশ।

রাসূল (সা.)-এর বর্ণনা
রাসূল (সা.) বলেছেন, সূরা ইয়াসিন কোরআনের রুহ বা হৃদয়। যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালের কল্যাণ লাভের উদ্দেশ্যে সূরা ইয়াসিন পাঠ করবে, তার জন্য রয়েছে মাগফিরাত বা ক্ষমা।

তাই আমাদের উচিত, বেশি বেশি করে সূরা ইয়াসিন তিলাওয়াত করা এবং এর শিক্ষা মেনে চলা।

নুসরাত

×