
ছবি: সংগৃহীত
রমজান মাসে রোজা ও তারাবি নামাজের গুরুত্ব অপরিসীম। রোজা ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের একটি এবং প্রত্যেক মুসলমানের জন্য ফরজ ইবাদত। অন্যদিকে, তারাবি নামাজ সুন্নতে মুআক্কাদা, যা রাসুলুল্লাহ (সা.) ও সাহাবিরা গুরুত্বসহকারে আদায় করতেন। তবে অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে—তারাবি না পড়লে কি রোজা হবে না? এই বিষয়ে বিশিষ্ট ইসলামিক স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহ স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিয়েছেন।
তারাবি নামাজের গুরুত্ব
তারাবি নামাজ রমজানের অন্যতম বিশেষ ইবাদত। এটি রাতে কিয়ামুল লাইলের অংশ, যা রাসুলুল্লাহ (সা.) সুন্নত হিসেবে আমাদের শিখিয়ে গেছেন। হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি ঈমান ও সওয়াবের আশায় রমজানে রাতে নামাজ আদায় করবে, তার আগের গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।” (বুখারি ও মুসলিম)
এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, তারাবি পড়ার মাধ্যমে আল্লাহর কাছে ক্ষমা লাভের এক মহাসুযোগ রয়েছে। তবে এটি সুন্নত নামাজ, ফরজ নয়।
তারাবি না পড়লে কি রোজার ওপর কোনো প্রভাব পড়বে?
শায়খ আহমাদুল্লাহ তাঁর এক বক্তব্যে বলেছেন, তারাবি নামাজ না পড়লেও রোজা সহীহ হবে। কারণ, রোজা ও তারাবি দুটি ভিন্ন ইবাদত। রোজা ফরজ ইবাদত, যা প্রত্যেক সক্ষম মুসলমানের ওপর বাধ্যতামূলক। পক্ষান্তরে, তারাবি সুন্নতে মুআক্কাদা, যা পড়লে মহান সওয়াব পাওয়া যায়, কিন্তু না পড়লে রোজার উপর কোনো প্রভাব পড়ে না।
তবে তিনি আরও বলেন, যারা ইচ্ছাকৃতভাবে তারাবি পরিত্যাগ করেন, তারা সুন্নত পরিত্যাগের কারণে বঞ্চিত হবেন। তারাবি পড়লে যেমন সওয়াব বাড়ে, তেমনি না পড়লে সে সুযোগ হাতছাড়া হয়।
তারাবি ও রোজার মাঝে পার্থক্য
বিষয় | রোজা | তারাবি |
---|---|---|
ফরজ/সুন্নত | ফরজ | সুন্নতে মুআক্কাদা |
ত্যাগের পরিণাম | ইচ্ছাকৃত ত্যাগ করলে গুনাহগার | ইচ্ছাকৃত না পড়লে গুনাহ নয়, তবে সওয়াব থেকে বঞ্চিত |
আদায়ের সময় | সুবহে সাদিক থেকে মাগরিব পর্যন্ত | এশার নামাজের পর থেকে রাতের শেষ ভাগ পর্যন্ত |
তারাবি নামাজ না পড়লে রোজা বাতিল হয় না বা রোজার কোনো ক্ষতি হয় না। তবে তারাবি পড়ার মাধ্যমে রমজানের বরকত ও রহমত পাওয়া সহজ হয়। তাই প্রত্যেক মুসলমানের উচিত তারাবি নামাজ গুরুত্বসহকারে আদায় করা। শায়খ আহমাদুল্লাহর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, যারা না পড়েন, তারা গুনাহগার না হলেও, অনেক সওয়াবের সুযোগ হারাবেন। আল্লাহ আমাদের সবাইকে রোজা ও তারাবির মতো গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত পালনের তাওফিক দান করুন। আমিন।
আসিফ