
ছবি সংগৃহীত
পবিত্র রমজান মাস নিকটবর্তী, আর এ মাসকে যথাযথভাবে পালন করতে প্রয়োজন শারীরিক, মানসিক ও আত্মিক প্রস্তুতি। রোজা শুধু না খেয়ে থাকার বিষয় নয়, বরং এটি আত্মশুদ্ধি, সংযম ও ধৈর্যের পরীক্ষা। তাই রমজানের আগেই কিছু বিষয় প্রস্তুত করে নিলে রোজা রাখা সহজ হবে এবং ইবাদতেও মনোযোগ বাড়বে।
১. খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করুন
রমজানে দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকতে হয়, তাই এখন থেকেই খাবারের সময়ের পরিবর্তন করুন। খুব ভোরে এবং রাতে খাওয়ার অভ্যাস তৈরি করুন। অতিরিক্ত চা-কফি বা ফাস্টফুড কমিয়ে সুষম খাবার গ্রহণ করুন, যাতে রোজায় শরীর সুস্থ থাকে।
২. পানি পান বাড়িয়ে দিন
রোজায় পানির ঘাটতি যেন না হয়, তাই এখন থেকেই প্রচুর পানি পান করুন। শরীরে পানির ভারসাম্য বজায় রাখতে দিনে অন্তত ৮-১০ গ্লাস পানি পান করুন।
৩. ঘুমের রুটিন ঠিক করুন
রাতজাগা বা দেরিতে ঘুমানোর অভ্যাস থাকলে তা ধীরে ধীরে পরিবর্তন করুন। সাহরির জন্য ভোরে ওঠার অভ্যাস গড়ে তুলুন, যাতে রোজার সময় সহজ হয়।
৪. ইবাদতের অভ্যাস গড়ে তুলুন
রমজানে ইবাদতের সময় বাড়ানোর জন্য এখন থেকেই নিয়মিত নামাজ আদায় করুন এবং কুরআন তেলাওয়াতের অভ্যাস গড়ে তুলুন। প্রতিদিন কিছু সময় দোয়া ও জিকির করার চেষ্টা করুন।
৫. মানসিক প্রস্তুতি নিন
রোজায় ধৈর্য, সংযম ও ধ্যান-ধারণার প্রয়োজন হয়। তাই রাগ নিয়ন্ত্রণ, গীবত থেকে দূরে থাকা, সংযমী হওয়া এবং ইতিবাচক চিন্তা করার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
৬. রমজানের বাজার আগে থেকেই করুন
রমজানের আগে প্রয়োজনীয় মুদি সামগ্রী, খেজুর, ডাল, চাল, তেল ইত্যাদি সংগ্রহ করুন, যাতে রোজার সময় বেশি ঝামেলা না পোহাতে হয়।
৭. স্বাস্থ্য পরীক্ষা করুন
যাদের ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা অন্য কোনো শারীরিক সমস্যা রয়েছে, তারা রোজার আগেই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন, যাতে কোনো সমস্যা ছাড়াই রোজা রাখতে পারেন।
রমজান হচ্ছে আত্মশুদ্ধির মাস। তাই সঠিক প্রস্তুতি নিয়ে রোজার সময়টা ইবাদত, ধৈর্য ও সংযমের মাধ্যমে কাটানো উচিত। আগেভাগে প্রস্তুতি নিয়ে রাখলে রোজার সময় শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ থাকা সম্ভব হবে, যা ইবাদতে আরও মনোযোগী হতে সাহায্য করবে।
আশিক