
ছবি: সংগৃহীত
রমজানকে বলা হয় আত্মশুদ্ধির মাস। তবে শুধু আত্মশুদ্ধি নয়, দৈহিক সুস্থতার জন্যও রমজান খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
নবীজী (সা:) বলেছেন,
”রোজা রাখো,
যাতে তোমরা
সুস্থ্য থাকতে পারো”
- আবু হুরাইরা (রা:); আল তাবারানী
মধ্যযুগের বিখ্যাত চিকিৎসক ইবনে সিনা, কোনো অমুসলিম তাঁর কাছে ক্রনিক রোগের চিকিৎসার জন্য আসলে তিনি তাকে তিন সপ্তাহের উপবাস দিতেন, আর যদি সে মুসলিম হতো তাহলে তিনি তাকে তিন সপ্তাহ রোজা রাখতে দিতেন। সুতরাং, সুস্থতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি নিয়ামক হলো রোজা।
একজন ব্যক্তি যদি নিয়ম মেনে রোজা রাখেন, তাহলে তিনি সুস্থ থাকবেন। কিন্তু, বাংলাদেশসহ বিভিন্ন মুসলিম দেশগুলোতে দেখা যায়, রোজায় তেমন সুস্থতা আসেনা। রোজার আগেও আমাদের উচ্চরক্তচাপ ছিল, হৃদরোগ ছিল; রোজার পরেও তাই। এগুলোকে বলা হয় লাইফস্টাইল ডিজিজ, যেগুলো রোজার পরেও বহাল তবিয়তে থেকে যাচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে বেড়েও যাচ্ছে।
এর কারণ হলো রমজানে আমরা আমাদের খাদ্যাভ্যাস ভুলভাবে সাজাই। ক্রয়ক্ষমতা বাড়ায়, গ্রসারি শপ, ফাস্ট ফুড শপ বাড়ছে। খাদ্য কেনার সক্ষমতা বাড়লেও কমেছে খাদ্যজ্ঞান।
আমরা ইফতারে অতিরিক্ত তেল জাতীয় খাদ্য খাই, যা শরীরের জন্য খুবই ক্ষতিকর। নবীজী (সা:) বলেছেন,
”ভরা পেট হচ্ছে সবচেয়ে অনিষ্টকর পাত্র, মেরুদণ্ড সোজা রাখার জন্য কয়েকটি লোকমাই যথেষ্ট।
তারপরও যদি আরো খাবারের প্রয়োজন হয়, তবে তোমরা পাকস্থলীকে তিন ভাগে ভাগ করো। একভাগ খাবার দিয়ে পূর্ণ করো। একভাগ পানীয় দিয়ে। আর বাকি একভাগ খালি রাখো, যাতে ভালোভাবে দম নিতে পারো।”
-মিকদাম ইবনে মাদিকারিব (রা:) তিরমিজী
রমজানে আমরা এই নির্দেশনা অনুসরণ করি না। আমরা পাকস্থলীর তিনটি ভাগই খাবার দিয়ে পূর্ণ করি। এ কারণেই বর্তমানে ঘরে ঘরে লাইফস্টাইল ডিজিজ।
বিজ্ঞানও বলছে পাকস্থলীর তিনটি ভাগই খাবার দিয়ে পূর্ণ করা স্বাস্থের জন্য ক্ষতিকর।
ধর্ম ও বিজ্ঞানের আলোকে সেহরিতে যা খাবেন-
বিজ্ঞানীদের মতে, সেহরিতে সহজপাচ্য ও হালকা খাবার খাওয়া উচিত। যেমন: লাল চালের ভাত, সবজি বা দইচিড়াও খেতে পারেন। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সেহরিতে এক কোয়া রসুন ও কিছু কালোজিরা চিবিয়ে খেতে পারেন।
স্থুলতা, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস বা উচ্চরক্তচাপ থাকলে সপ্তাহে পরপর তিনদিন ২৪ ঘন্টার রোজা রাখুন। অর্থাৎ, সেহরিতে শুধুমাত্র পর্যাপ্ত পানি খাবেন।
সম্প্রতি একটি গবেষণায় দেখা গেছে, সপ্তাহে পরপর তিনদিন কেউ যদি ২৪ ঘন্টার রোজা রাখেন তাহলে তিনি ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স রিভার্স করতে সক্ষম হবেন। তার ডায়াবেটিস কমে যাবে।
ধর্ম ও বিজ্ঞানের আলোকে ইফতারে যা খাবেন-
খেজুর ও পানি হতে পারে একটি উত্তম ইফতার। খেজুরে আছে সুক্রোজ, যা ভালোভাবে চিবিয়ে খেলে দ্রুত শরীরে গ্লুকোজ সরবরাহ করবে এবং শরীরকে চাঙ্গা করে তুলবে। ইফতারে চিনি বা গুড় দিয়ে তৈরি শরবত পরিহার করবেন। এটি হিতে বিপরীত হতে পারে। তবে বেলের শরবত খেতে পারেন, এটি হজম ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। অথবা খেতে পারেন এবিসি শরবত (আপেল, বিট ও গাজরের)।
ধর্ম ও বিজ্ঞানের আলোকে রাতের খাবারে যা খাবেন-
লাল চালের ভাত, সবজি, ভর্তা, ডাল এবং এক টুকরো মাছ অথবা মাংস। সাথে কাঁচা ছোলা, ডিম, টকদই ও ফলমুল খেতে পারেন।
মায়মুনা