
বিশ্ব রেকর্ড গড়ার লক্ষ্যে হাতে লিখছেন কোরআন। বিশাল কাগজের স্তুূপ, হাতে কাঠের কলম, আর চোখে গভীর মনোযোগ—প্রতিটি আঁচড়ে ফুটিয়ে তুলছেন পবিত্র কোরআনের আয়াত। তবে এটি সাধারণ কোনো কাগজ নয়; এর দৈর্ঘ্য প্রায় ১৯,৬৮৫ ফুট বা ৬ কিলোমিটার, যা একটি রাস্তার সমান!
দিনের পর দিন, ঘন্টার পর ঘন্টা, শরীরের ব্যথা উপেক্ষা করে কলম চালিয়ে যাচ্ছেন এক যুবক—লক্ষ্য একটাই, পৃথিবীর দীর্ঘতম হাতে লেখা কোরআন তৈরি করা। ২৫ বছর বয়সী ইরাকি যুবক হোসেন আল খারসান এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন, যা কেবল কোরআন লেখাতেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এমন এক নিদর্শন গড়ার প্রচেষ্টা যা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে মানুষের বিস্ময় জাগাবে।
প্রথমদিকে খারসান প্রতিদিন ১৬ ঘণ্টা কাজ করতেন, কিন্তু শারীরিক ক্লান্তির কারণে এখন তিনি দিনে প্রায় ৫ ঘণ্টা করে লিখছেন। এই উদ্যোগের পেছনে শুধু খ্যাতির মোহ নেই; রয়েছে কোরআনের প্রতি গভীর ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা। ছোটবেলা থেকেই আরবি ক্যালিগ্রাফিতে দক্ষ খারসান বাগদাদের ফাইন আর্টস কলেজ থেকে পড়াশোনা শেষ করে তার প্রতিভাকে ইতিহাসের অংশ করার সিদ্ধান্ত নেন।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রায় ৬,০০০ মিটার দীর্ঘ এই কাগজের পাণ্ডুলিপিতে হাতে লেখা থাকবে কোরআনের প্রতিটি পৃষ্ঠা। নাজাফের একটি ধর্মীয় স্কুলে কাজটি চলছে, যেখানে স্কুলের প্রধান শেখ আলী মির্জা জানান, কুফার ক্যালিগ্রাফি বিশ্বজুড়ে খ্যাতি অর্জন করেছে এবং তারা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই শিল্পচর্চা করে আসছেন। খারসানের প্রচেষ্টা তাদের সংস্কৃতিরই এক অনন্য বহিঃপ্রকাশ।
২০১২ সালে হোসেন আল খারসান এই বিশাল প্রকল্প শুরু করেন, তবে এর বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। এরই মধ্যে, ২০২২ সালে ভারতের ড্রেসে মোহাম্মদ ১,১০৬ মিটার দীর্ঘ হাতে লেখা কোরআন তৈরি করে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম লেখান। এছাড়া, ২০২৩ সালে কারবালায় ৩০০ মিটার দীর্ঘ হাতে লেখা কোরআন সম্পন্ন হয়েছে। তবে যদি খারসানের প্রকল্পটি শেষ হয়, তবে তা বর্তমান রেকর্ডের চেয়েও দীর্ঘ হবে, যা বিশ্বকে নতুন এক বিস্ময়ের সামনে দাঁড় করাবে।
সূত্রঃ https://www.facebook.com/share/v/18RELqiZAm/
রাজু