
ছবি: সংগৃহীত
ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হজের অংশ হিসেবে কাবাঘর তাওয়াফ করা হয়। কিন্তু কেন এই তাওয়াফ করা হয়? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে কোরআন, হাদিস এবং আধুনিক বিজ্ঞানের আলোকে এক চমকপ্রদ মিল খুঁজে পাওয়া যায়।
মহানবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মেরাজের রাতে ঊর্ধ্বাকাশ ভ্রমণের সময় ফেরেশতাদের তাওয়াফ করতে দেখেছিলেন, যা কেবল নামাজ বা সিজদার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। কোরআনের ভাষ্যমতে, আসমান ও জমিনের সবকিছুই আল্লাহর ইবাদতে নিযুক্ত, যা বিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকেও সত্য প্রমাণিত।
প্রাচীনকালে মানুষ বিশ্বাস করত যে পৃথিবী মহাবিশ্বের কেন্দ্রবিন্দু। কিন্তু ৪০০ বছর আগে ইতালির বিজ্ঞানী গ্যালিলিও গ্যালাক্সি পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে দেখান যে, পৃথিবী সূর্যের চারদিকে ঘোরে। আরও গবেষণায় জানা যায়, সূর্যও একটি বৃহৎ ব্ল্যাক হোলকে কেন্দ্র করে প্রদক্ষিণ করে। এমনকি পুরো মহাবিশ্বেই সবকিছু কোনো না কোনো কেন্দ্রের চারপাশে ঘুরছে।
এই সত্যটি কোরআনের আয়াতে উল্লেখিত “কুল্লুন ফি ফালাক” বা “প্রত্যেকেই আপন কক্ষপথে বিচরণ করে” কথার সঙ্গে মিলে যায়। বিজ্ঞানীরা এটমের গঠন বিশ্লেষণ করেও দেখেছেন, যেখানে প্রোটন ও নিউট্রন স্থির থেকে ইলেকট্রন তাদের চারপাশে ঘুরছে। অর্থাৎ, ক্ষুদ্র থেকে বৃহৎ সবকিছুই কোনো না কোনো কেন্দ্রের চারপাশে আবর্তিত হচ্ছে।
তাই কাবাঘর তাওয়াফ শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় আচার নয়, বরং এটি মহাবিশ্বের প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এক আধ্যাত্মিক অনুশীলন। এটি এমন একটি ইবাদত যা আসমান ও জমিনের সমস্ত সৃষ্টি আল্লাহর নির্দেশে পালন করে আসছে। মুসলমানরা যখন কাবার চারপাশে তাওয়াফ করেন, তখন তারা মহাবিশ্বের সৃষ্টির এই চিরন্তন প্রবাহের সঙ্গে নিজেদের যুক্ত করেন এবং আল্লাহর প্রতি তাদের আনুগত্য প্রকাশ করেন।
এই কারণেই কাবাঘর তাওয়াফ করা হয়—যাতে মানুষ আল্লাহর নিদর্শনগুলো অনুধাবন করতে পারে এবং তার আনুগত্য প্রকাশের মাধ্যমে নিজেদের মহাবিশ্বের একাত্মতায় সংযুক্ত করতে পারে।
ভিডিও দেখুন: https://youtu.be/IvJdJG_DYbk?si=we37kWCVqPyaDAZD
এম.কে.