
ছবি: সংগৃহীত।
কবি, সিনিয়র সাংবাদিক ও বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুল হাই শিকদার বলেছেন, “জাতীয় ঐক্যে কোনো ফাটল ধরতে দেওয়া যাবে না। যদি ঐক্যে ফাটল ধরে, তাহলে বাংলাদেশের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়বে।” সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
বিমসটেক সম্মেলন প্রসঙ্গে বক্তব্য দিতে গিয়ে আবদুল হাই শিকদার বলেন, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হতে পারত। কিন্তু উনি যে তর্জন-গর্জন করলেন, তা দুঃখজনক। হাসিনা সম্পর্কে উনার মন্তব্য ও অবস্থান নিয়ে জনগণের কাছে জবাব দিতে হবে। যদি তিনি বলেই দেন, হাসিনা তার স্ত্রী—তাহলে জাতি বিবেচনা করবে। অন্যথায়, তাকে আমাদের কাছে ফেরত দিতে হবে। তার বিরুদ্ধে মানুষের হত্যার দায়ে বিচার হতেই হবে। তাকে আমরা গাছে লটকাবো”
তিনি আরও বলেন, “আমরা কোনো অন্যায় বা প্রতিশোধের রাজনীতি করবো না। আমাদের নীতি হবে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা। তারা যেভাবে খুন, গুম, দমন-পীড়ন চালিয়েছে, আমরা সেই পথে হাঁটবো না। বরং আমরা ন্যায়বিচার ও মানবাধিকারের ভিত্তিতেই সামনে এগোবো।”
জুলাই বিপ্লবের প্রসঙ্গ তুলে আবদুল হাই শিকদার বলেন, “দেশ একসময় দিকহীন ছিল, যখন কোনো আশার আলো দেখা যাচ্ছিল না। তখন ছাত্র-ছাত্রীরা রাজপথে ঝাঁপিয়ে পড়ে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছে। এই আন্দোলনে প্রাণ দিয়েছে প্রায় ২,০০০ তরুণ-তরুণী। আহত হয়ে অনেকেই পঙ্গু কিংবা দৃষ্টিহীন হয়ে গেছে।”
তিনি শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, “তাদের আত্মত্যাগেই আমরা আজ কথা বলার স্বাধীনতা পেয়েছি। সেই আত্মত্যাগ যেন বিস্মৃত না হই। আবু সাঈদ, মুগ্ধ, রুদ্র, ওয়াসিম আকরাম, রিয়া গোপ—এই নামগুলো আমাদের হৃদয়ে চিরজাগরুক থাকতে হবে। ভুলে গেলে তা হবে ইতিহাসের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা।”
শেষে রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্দেশে আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “দলাদলি, বিভাজন যথেষ্ট হয়েছে। এখন সময় এসেছে সকলকে এক হয়ে জাতীয় ঐক্য ধরে রাখার। এই ঐক্য ভাঙলে বাংলাদেশ আবার পরাধীনতার শৃঙ্খলে জড়িয়ে পড়বে। তাই জাতীয় স্বার্থে আমাদের ঐক্যই একমাত্র পথ।”
সায়মা ইসলাম