ঢাকা, বাংলাদেশ   রোববার ০৬ এপ্রিল ২০২৫, ২৩ চৈত্র ১৪৩১

আমরা ভারতকে একটি সুযোগ দিতে চাই: ব্যারিস্টার ফুয়াদ

প্রকাশিত: ২১:৪০, ৫ এপ্রিল ২০২৫

আমরা ভারতকে একটি সুযোগ দিতে চাই: ব্যারিস্টার ফুয়াদ

ছবি: সংগৃহীত

এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেছেন, “আমরা ভারতকে একটি সুযোগ দিতে চাই।”

তিনি বলেন, গত ১৬ বছর ধরে বাংলাদেশে ভারত যেভাবে জুলুম ও ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় মদত দিয়েছে, তাতে ভারতের সদিচ্ছা নিয়ে জনগণের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তবে এখনো ভারতের সামনে সুযোগ আছে এই প্রমাণ করার যে, তারা কেবল আওয়ামী লীগ বা শেখ পরিবারকে নয়, বাংলাদেশের জনগণ ও রাষ্ট্রকে সঙ্গী হিসেবে বিবেচনা করে।

শনিবার লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারি স্থলবন্দর পরিদর্শনকালে এক বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। তিনি বলেন, “বুড়িমারি দেশের তৃতীয় বৃহত্তম স্থলবন্দর, যার মাধ্যমে বাংলাদেশ-ভারত-ভুটান তিন দেশের বাণিজ্য চলে। অথচ এখানে দীর্ঘদিন ধরে একটি ‘আওয়ামী সিন্ডিকেট’ ভারতের একটি চক্রের সাথে মিলে বন্দরের সম্ভাবনাকে নষ্ট করেছে।”

ফুয়াদ দাবি করেন, স্থলবন্দরকে কার্যকর ও প্রতিযোগিতামূলক করতে হলে সিন্ডিকেট ভাঙতে হবে। প্রতিটি ব্যবসায়ী যেন ন্যায্যতার ভিত্তিতে এবং রাষ্ট্রীয় আইন অনুযায়ী ব্যবসা করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, “বন্দরের অবকাঠামো নাজুক। রাস্তার অবস্থা করুণ, ধুলাবালির কারণে সাধারণ মানুষ ও শ্রমিকরা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন। এখানে প্রায় সাত-আট হাজার শ্রমিক কাজ করেন, কিন্তু তাদের শ্রম অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে। শ্রমিকদের সুনির্দিষ্ট লিখিত চুক্তির আওতায় আনতে হবে—কত ঘণ্টা কাজ করবেন, কত বেতন পাবেন, স্বাস্থ্য সেবা কেমন পাবেন—এসব সুনির্দিষ্ট করে দিতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, এই অঞ্চলের শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ইন্স্যুরেন্স ব্যবস্থা করা দরকার। কারণ শ্রমিকরাও রাষ্ট্রের নাগরিক এবং তাদের জীবনও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, “বুড়িমারিকে ঘিরে একটি এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোন গড়ে তোলা যেতে পারে। এতে এলাকা উন্নয়ন, বাসস্থান পুনর্বাসন এবং বাসিন্দাদের সম্মানজনক আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।”

তিনি অভিযোগ করেন, ১৮টি পণ্য এই বন্দর দিয়ে ভারত থেকে আমদানি নিষিদ্ধ থাকায় হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং রাজস্ব হারাচ্ছে রাষ্ট্র। এই নিষেধাজ্ঞার পেছনে অন্য বন্দরের কিছু প্রভাবশালী সিন্ডিকেট কাজ করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

চীন সফরের প্রসঙ্গ টেনে ফুয়াদ বলেন, “আমাদের প্রধান উপদেষ্টা সম্প্রতি বেইজিং থেকে ফিরেছেন। সেখানে ব্যবসা সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বুড়িমারিকে যদি চীনের সাথে সরাসরি যুক্ত করা যায়, তবে তিন দেশের মধ্যে একটি বড় বাণিজ্যিক পথ গড়ে উঠবে, যা সকল পক্ষের জন্য লাভজনক হবে।”

পাথর শিল্প প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “২০১৫-১৬ সালে একটি মামলার কারণে দেশের পাথর কোয়ারি বন্ধ হয়ে যায়। এতে ভারত থেকে পাথর আমদানির ওপর নির্ভরতা বেড়েছে, যা ৫০-৬০ হাজার কোটি টাকার পাচারের সুযোগ করে দিয়েছে। ফলে লক্ষাধিক শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছেন।”

তিনি জানান, এবি পার্টির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন এবং পাথর কোয়ারি আধুনিক পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহার করে পুনরায় চালু করার দাবি জানান।

পরিবহন খাতে সিন্ডিকেটের অভিযোগ করে তিনি বলেন, “একটি নির্দিষ্ট আকারের চেয়ে বড় ট্রাকগুলোকে বন্দরে ঢুকতে দেওয়া হয় না, ফলে ব্যবসায়ীদের খরচ ও সময় উভয়ই বাড়ে। এই সীমাবদ্ধতা তুলে নিতে হবে এবং প্রতিটি ব্রিজ, টোল গেট থেকে ট্রাকের আকারের বাধা তুলে দেওয়া উচিত।”

ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, “আমরা চাই, বাংলাদেশে ন্যায্যতা, প্রতিযোগিতা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হোক। সেই পরিবেশ তৈরি করতে হলে ভারতসহ অংশীদার দেশগুলোকেও দায়িত্ব নিতে হবে।”

এম.কে.

×