ঢাকা, বাংলাদেশ   রোববার ০৬ এপ্রিল ২০২৫, ২৩ চৈত্র ১৪৩১

জুলাইয়ের চেতনা ধরে রাখতে হবে: এনসিপি নেতা শাহীন

এনামুল হক এনা, উপকূলীয় প্রতিনিধি, বরিশাল

প্রকাশিত: ২০:২৯, ৫ এপ্রিল ২০২৫; আপডেট: ২০:৩১, ৫ এপ্রিল ২০২৫

জুলাইয়ের চেতনা ধরে রাখতে হবে: এনসিপি নেতা শাহীন

ছবি: জনকণ্ঠ

পটুয়াখালীর বাউফলে 'জুলাই বিপ্লব'-এ পুলিশের গুলিতে আহত হওয়া মো. আশিকুর রহমান হৃদয় (১৭) আর নেই। গতকাল শুক্রবার (৪ এপ্রিল) বিকেল ৩টার দিকে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। আজ শনিবার (৫ এপ্রিল) পারিবারিক কবরস্থানে হৃদয়কে দাফন করা হয়েছে।

শহীদ হৃদয়ের জানাজায় অংশ নিয়ে দৈনিক জনকণ্ঠকে 'জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের' সাবেক নির্বাহী সদস্য ও জুলাই আন্দোলন সংক্রান্ত লিগ্যাল সাপোর্ট টিমের প্রধান অ্যাড. মুহা. মুজাহিদুল ইসলাম শাহীন একটি সাক্ষাৎকার প্রদান করেন।

এ সময় তিনি বলেন, "শহীদ হৃদয় হোসেন চেয়ারম্যান কিংবা মেম্বার হওয়ার জন্য হাসিনার বিরুদ্ধে যুদ্ধে যাননি। হৃদয় হোসেন হাসিনার ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিলেন। চাঁদাবাজি ও খুনিদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিলেন। রাষ্ট্রের সকল অনিয়মের বিরুদ্ধে যুদ্ধে গিয়ে নিজের জীবন বিসর্জন দিয়েছেন শহীদ হৃদয়।"

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এই যুগ্ম আহ্বায়ক আরো বলেন, "হৃদয় হোসেন রাষ্ট্রের অন্যায় এবং নির্যাতনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে গিয়েছিলেন। তিনি পরিবর্তনের জন্য রাজপথে নেমেছিলেন। বৈষম্যের বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। হৃদয় নিজের ব্যক্তিগত স্বার্থের জন্য জীবন বিলিয়ে দেননি। তাকে আমরা নতুন বাংলাদেশে অমর করে রাখব, ইনশাল্লাহ।"

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মুজাহিদুল ইসলাম শাহিন আরও বলেন, "আপনারা জানেন- স্বৈরাচার হাসিনা পাখির মতো বিভিন্ন ধর্মের মানুষকে গুলি করে হত্যা করেছেন, তাদের মধ্যে শিশু ও নারীও ছিল। খুনের বেলায় হাসিনা কোনো বিচার করেননি। তিনি অবৈধ ক্ষমতা পাকাপোক্ত করতে দেশের মানুষের জীবন নিয়ে খেলেছিলেন।"

মুজাহিদুল ইসলাম শাহিন আরও বলেন, "হৃদয় হোসেন সাহসিকতার সঙ্গে অকুতোভয় সৈনিক হিসেবে এই যুদ্ধে শহীদ হয়েছেন। তিনি বন্দুকের সামনে গিয়ে খুনি হাসিনার পতনের জন্য ভূমিকা রেখেছিলেন, যার ফলে বুকে, হাতে এবং মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে শাহাদাত বরণ করেছেন। আমরা এই বীর সেনাদের আজীবন স্মরণে রাখব, ইনশাল্লাহ। এই খুনের বিচার হতে হবে।"

জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের সাবেক নির্বাহী সদস্য বলেন, "বাংলাদেশ সরকার ও জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে প্রতিটি শহীদ পরিবারকে ৩০ লাখ টাকা দেয়ার কথা রয়েছে। প্রথম ধাপে ৫ লাখ টাকা করে দেওয়া হচ্ছে। আমি শহীদ হৃদয় হোসেনের পরিবারকে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, বিধিমোতাবেক আর্থিক সহায়তা প্রদান করব, ইনশাল্লাহ।"

তিনি আরও বলেন, "আমাদের হৃদয় হোসেন যে কারণে শহীদ হয়েছেন, সেই বিপ্লব আমাদের ধরে রাখতে হবে। সেই চেতনা আমাদের ধরে রাখতে হবে। আমরা সকল বৈষম্য ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকব। কাউকে বৈষম্যের শিকার হতে দেব না। নতুন বাংলাদেশে কোনো বৈষম্যের ঠাই নেই, চাঁদাবাজদের ঠাই নেই, দুর্নীতিবাজদের ঠাই নেই।"

সায়মা ইসলাম

×