
ছবি: সংগৃহীত
এবার বাউফল উপজেলা বিএনপির আহবায়ক আব্দুর জব্বার মৃধার একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পরেছে। তিন বছর আগের ওই ভিডিওতে বিএনপি নেতাকে বলতে শোনা যায়, আগস্ট মাস শোকের মাস, তারপরেও বগারমত একটি জায়গায় একত্রিত হয়ে আমরা কিছু কথাবর্তা বলতে পারতেছি, শুনতে পারতেছি এজন্য আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে শুকরিয়া আদায় করছি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালে বাউফলের বগা ইউনিয়ন বিএনপির দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় কোন এক নেতার বাসায় অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বাউফল উপজেলা বিএনপির আহবায়ক আব্দুর জব্বার মৃধা। ওই ভিডিওতে উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আপেল মাহমুদ ফিরোজসহ বেশ কয়েকজন বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাদের উপস্থিতি দেখা গেছে। ঘরের ফ্লোরে বসে আছেন নেতৃবৃন্দ। আর তাদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দিচ্ছেন বিএনপির আহবায়ক আব্দুর জব্বার মৃধা। বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি বলেন, “আগস্ট মাস শোকের মাস, তারপরেও বগারমত একটি জায়গায় একত্রিত হয়ে আমরা কিছু কথাবর্তা বলতে পারতেছি, শুনতে পারতেছি এজন্য আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে শুকরিয়া আদায় করছি।”
সম্প্রতি বাউফল উপজেলা বিএনপি ও সহযোগি সংগঠনের দায়িত্বশীল নেতাদের নানা অপকর্ম ও বেফাঁস কথাবার্তার ভিডিও এবং অডিও সামাজিক যোযোগ মাধ্যমে ফাঁস হয়। এ অপরাধে তাদেরকে দল থেকে বহিস্কার করা হলেও উপজেলা বিএনপির আহবায়ক আব্দুর জব্বার মৃধাকে দল থেকে বহিস্কার বা কোন শোকজ করা হয়নি। আওয়ামী লীগের সময় তিনি পাশ্ববর্তী বাকেরগঞ্জ উপজেলার একটি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে তার এক আত্বিরয়র পক্ষে নৌকা মার্কার মিছিলে অংশ নিয়ে বিতর্কিত হয়েছিলেন। এই ছবিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পরে। কিন্তু রহস্যজনক কারণে তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।
বিএনপির এক কর্মী আজ শনিবার আব্দুর জব্বার মৃধার ওই তিন বছর আগের ওই ভিডিও পোস্ট করে লিখেন , “পিছনের সারি থেকে কর্মীর অনিচ্ছাকৃত ভুলবসত সংগঠন বিরোধী শ্লোগানের জন্য বাউফল উপজেলা যুবদলের আহবায়ককে বহিস্কার হতে হয়। কিন্তু আগস্ট মাস শোকের মাস বলা উপজেলা বিএনপির আহবায়কের বিরুদ্ধে একটি শোকজ পর্যন্ত করা হলোনা। কারণ তিনি পটুয়াখালী জেলা বিএনপির আহবায়ক চুন্নু মিয়া ও কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক মুনির হোসেনের লোক। হায়রে রাজনীতি!”
এবিষয়ে উপজেলা বিএনপির আহবায়ক আব্দুর জব্বার মৃধা বলেন, “ওই সময় আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ছিল। উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের বাড়ি ছিল বগা বন্দরে। সেখানে আগস্ট মাসে আমাদের ইউনিয়ন বিএনপির দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন ছিল। যেখানে বিএনপির নেতাকর্মীরা ঘর ছাড়া ছিল, সেখানে বিএনপির সম্মেলন করা ছিল অত্যান্ত ঝুঁকিপূর্ণ । তাই কৌশলগত কারণে আমাকে এ কথা বলতে হয়েছে। আসলে এটা আমার মনের কথা ছিলনা।”
আসিফ