ঢাকা, বাংলাদেশ   রোববার ০৬ এপ্রিল ২০২৫, ২৩ চৈত্র ১৪৩১

আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন মানবো না: আখতার

প্রকাশিত: ১৮:৫৪, ৫ এপ্রিল ২০২৫

আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন মানবো না: আখতার

ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর নেতা আখতার হোসেন এক জোরালো বক্তব্যে বলেছেন, “বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ যে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত করেছে, তাতে তাদের পুনর্বাসন কখনোই মেনে নেওয়া হবে না।”

তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “জাতীয় নাগরিক পার্টির কোনো কর্মসূচিতে আওয়ামী লীগের কেউ অংশগ্রহণের সাহস দেখালে, আমরা তা প্রতিহত করব এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে তাদের সোপর্দ করব।”

আখতার আরও বলেন, “যারা ফ্যাসিবাদ চাপিয়ে দিয়েছে, যারা দেশের গণতন্ত্র ধ্বংস করেছে, তাদের রাজনীতি করার কোনো নৈতিক অধিকার নেই।”

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুসের ভারতের সঙ্গে আলোচনার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ড. ইউনুস যে কথাগুলো বলেছেন, তা দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশের জনগণের প্রত্যাশা। আমরা আশা করছি, ভারত থেকে শেখ হাসিনাসহ ২০২৪ সালের গণহত্যার সঙ্গে জড়িত সবাইকে দ্রুত বাংলাদেশে প্রত্যর্পণের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

তিনি বলেন, “এই বিষয়ে শুধু কথা বললেই চলবে না, কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ নিতে হবে। ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় ও আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় বিচার নিশ্চিত করতে হবে। বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক যেন কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে নয়, বরং বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে প্রতিষ্ঠিত হয়।”

আখতার অভিযোগ করেন, “তিস্তা, গঙ্গার পানি সমস্যাসহ সীমান্ত হত্যাকাণ্ডে ভারতের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ। উপরন্তু, বাংলাদেশে বসে ভারতীয় হস্তক্ষেপের অভিযোগ বহুবার উঠেছে। এসব থেকে মুক্তি চায় বাংলাদেশের মানুষ।”

তিনি বলেন, “২০২৪ সালের অভ্যুত্থানে যারা গণহত্যা চালিয়েছে, তাদের বিচার দেশের জন্য সবচেয়ে জরুরি। এটা শুধুমাত্র ব্যক্তির নয়, আওয়ামী লীগের দলীয় অপরাধের বিচার হওয়া উচিত।”

সংস্কার কমিশনগুলোর রিপোর্ট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নেওয়া সংস্কার উদ্যোগগুলোকে রাজনৈতিক দলগুলোর সমর্থন প্রয়োজন। এ সুযোগ যেন হাতছাড়া না হয়। আমাদের উচিত নতুন বাংলাদেশ গঠনের এই সুযোগকে বাস্তবে রূপ দেওয়া।”

আখতার বলেন, “নতুন সংবিধানের আলোকে আগামীর নির্বাচনকে আমরা গণপরিষদ ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনের যৌথ রূপে দেখছি। এক নির্বাচনেই উভয় কাঠামো বাস্তবায়ন সম্ভব।”

জাতীয় নাগরিক পার্টির ভবিষ্যৎ কর্মকাণ্ড প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটির ভিত্তিতেই এনসিপির সৃষ্টি হয়েছে। এগুলো পৃথক সংগঠন হলেও, অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে সক্রিয় থাকবে।”

তিনি জানান, “হাসনাত আব্দুল্লাহ, সাদিস আলম, বাতার হোসেনসহ অনেকে এখন এনসিপিতে যুক্ত হয়েছেন। তাদের আগের সংগঠনের কার্যক্রম এখানেই শেষ হয়েছে। যারা এখনও জাতীয় নাগরিক কমিটি ও বৈষম্য ছাত্র আন্দোলনে রয়েছেন, তারা ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্ত নেবেন।”

আখতারের এই বক্তব্য বাংলাদেশে চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কর্মপন্থা ঘিরে নতুন মাত্রা যুক্ত করেছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

ভিডিও দেখুন: https://youtu.be/OCgrfmJPSO8?si=-rsLDUbEEZveyl4q

এম.কে.

×