
ঈদ মানেই আনন্দ, পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে সময় কাটানোর এক বিশেষ উপলক্ষ। ছোটবেলার ঈদের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেন, “আমার মা আছে, বাবা আজ আর আমাদের মাঝে নেই। যখন ছোটবেলার ঈদের কথা মনে করি, তখন বাবার সঙ্গে কাটানো মুহূর্তগুলোই প্রথমে মনে পড়ে। এখন পরিবারের দায়িত্ব অনেক বেড়ে গেছে, বিশেষ করে আমার মায়ের দায়িত্ব এখন আমাদের ওপর। আমি পরিবারের সবচেয়ে ছোট, তাই আমার বড় ভাই-বোনেরাই বেশি দায়িত্বশীল। তবে আমি নিজেও আমার জায়গা থেকে চেষ্টা করছি।”
ঈদের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি জানান, ছোটবেলায় পরিবারসহ চট্টগ্রামের গ্রামের বাড়িতে ঈদ করতে যেতেন। “ঈদের কয়েকদিন আগে থেকেই আমাদের উৎসব শুরু হয়ে যেত। আব্বা নিজেই গাড়ি চালিয়ে আমাদের চট্টগ্রামে নিয়ে যেতেন। তখন ফেরি পার হতে প্রায় ছয়-সাত ঘণ্টা লাগত। ফেরিতে উঠলেই আব্বা কড়া নির্দেশ দিতেন—‘কেউ ডিম খাবে না!’ কারণ সবাই জানত, ফেরির ডিম খেলে পেট খারাপ হবে।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের গাড়িতেই ছিল ডিজে সিস্টেম, আর তার ইনচার্জ ছিলেন আম্মা। তিনি পুরোনো দিনের গান চালাতেন, যা আমরা শুনতে চাইতাম না। বড় ভাই-বোন আর আমি পিছনে বসে বিরক্ত হতাম, এমনকি আব্বাও কানে তুলা দিয়ে রাখতেন! একটি ক্যাসেট বারবার বাজানো হতো, যা আমাদের সাত ঘণ্টার যাত্রায় বারবার শুনতে হতো।”
বর্তমান সময়ের ঈদ সম্পর্কে বলতে গিয়ে হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেন, “এখন আমি গাড়ি চালাই, আর ভাই-বোনের বাচ্চারা পিছনে বসে নিজেদের পছন্দের গান শোনে। তাদের বলেছি—তোমরা তোমাদের গান বাজাও, আমি সহ্য করব! এভাবেই সময় বদলেছে, বয়স বেড়েছে, যদিও এখনও আমাদের তরুণ বলা হয়!”
ঈদের স্মৃতিচারণে হাস্যরসের পাশাপাশি দায়িত্ববোধের বিষয়টিও উঠে আসে তাঁর কথায়। সময়ের পরিবর্তনে ঈদের আনন্দের রূপ বদলালেও পরিবারের সঙ্গে কাটানো মুহূর্তগুলোর গুরুত্ব যে একই রয়ে গেছে, তা স্পষ্ট হয় তাঁর স্মৃতিচারণে।
সূত্র: https://youtu.be/GW3F0uYYeaA?si=m6YrmKOZZmqzlE6A
আবীর