
ছবি : সংগৃহীত
অধ্যাপক ফরহাদ হোসেন তার বিশ্লেষণে উল্লেখ করেছেন যে ড. মুহাম্মদ ইউনুসের সম্প্রতি চীন সফর ভারত সরকার ও প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসকে উদ্বিগ্ন করেছে। তাদের আশঙ্কা, ড. ইউনুসের রাজনৈতিক কৌশল ভারতের জন্য চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠতে পারে। এনিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে নানা মতামত উঠে আসছে।
ড. ইউনুসের চীন সফরকে অত্যন্ত সফল হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তিনি পিকিং ইউনিভার্সিটি থেকে সম্মাননা পেয়েছেন, বাওয়েতে বক্তৃতা দিয়েছেন এবং চীনের সঙ্গে ৯টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছেন। গত কয়েক দশকে বাংলাদেশের কোনো রাষ্ট্রনায়ক বা সরকারপ্রধান এতটা সাফল্য পেয়েছেন কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। যদিও তিনি নির্বাচিত সরকারপ্রধান নন, তবুও চীনা সরকার তাকে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দিয়েছে, যা ভারতকে ভাবিয়ে তুলেছে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রথমে ড. ইউনুসের সঙ্গে বৈঠক করতে অস্বীকৃতি জানালেও পরবর্তীতে একটি সাইডলাইন মিটিংয়ে রাজি হন। প্রশ্ন উঠেছে—ভারত যদি গণতন্ত্রের দোহাই দিয়ে ড. ইউনুসের সরকারকে স্বীকৃতি না দেয়, তাহলে মোদি নিজে কেন চীনের (একটি অ-গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র) সঙ্গে সম্পর্ক রেখেছেন? এটি ভারতের দ্বিচারিতাকে ফুটিয়ে তোলে।
ড. ইউনুস বাংলাদেশ ও চীনের সঙ্গে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর (সেভেন সিস্টার্স) বাণিজ্যিক সহযোগিতার কথা বলেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, এই অঞ্চলগুলো ল্যান্ডলকড হওয়ায় বাংলাদেশের বন্দর ব্যবহার করে তারা অর্থনৈতিক সুবিধা পেতে পারে। কিন্তু ভারতীয় নেতারা এতে "বিচ্ছিন্নতাবাদের গন্ধ" পেয়ে আতঙ্কিত হয়েছেন। অথচ ঐতিহাসিকভাবে এই রাজ্যগুলো ব্রিটিশ আমলেই ভারতের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল, এবং তাদের স্বতন্ত্র সাংস্কৃতিক ও নৃতাত্ত্বিক পরিচয় রয়েছে।
ড. ইউনুসের সফরের পরিপ্রেক্ষিতে ভারতীয় মিডিয়ায় বাংলাদেশবিরোধী প্রচারণা তীব্র হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, হিন্দুস্তান টাইমস-এ ত্রিপুরার মহারাজা প্রদ্যোত মানিক্যের একটি বিতর্কিত বক্তব্য প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে তিনি চট্টগ্রামকে আলাদা করার ইঙ্গিত দিয়েছেন। এ ধরনের মন্তব্য অপ্রয়োজনীয় উত্তেজনা সৃষ্টি করছে।
বর্তমানে বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্যে ভারসাম্য পরিবর্তন হচ্ছে। বাংলাদেশ এখন চীন, ভিয়েতনাম ও পাকিস্তান থেকে পণ্য আমদানি বাড়াচ্ছে, যা ভারতের জন্য চিন্তার বিষয়। বিশেষ করে পেঁয়াজ, রসুন, গরু ও চিকিৎসা সেবার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্বনির্ভরতা বেড়েছে। কলকাতা ও চেন্নাইয়ের হাসপাতালগুলোতে বাংলাদেশি রোগীর সংখ্যা কমে যাওয়ায় ভারতের চিকিৎসা খাতেও আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে।
ড. ইউনুসের কূটনৈতিক সাফল্য বাংলাদেশের জন্য নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে। ভারত যদি বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে আন্তরিক না হয়, তবে তা উভয় দেশের জন্যই ক্ষতিকর হবে। অধ্যাপক ফরহাদ হোসেনের মতে, ড. ইউনুসের মতো ব্যক্তিত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশ বিশ্বে ইতিবাচক ভাবমূর্তি প্রতিষ্ঠা করতে পারে, যা ভারতকেও নতুন করে ভাবতে বাধ্য করবে।
সূত্র:https://youtu.be/z5kyXFAPTik?si=kK3gORwr7aJijQbn
আঁখি