ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ২০ চৈত্র ১৪৩১

যে বাংলাদেশকে আমরা দেখেছি তা পরিবর্তন হয়ে গেছে: অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী

প্রকাশিত: ১৮:৫৫, ২ এপ্রিল ২০২৫

যে বাংলাদেশকে আমরা দেখেছি তা পরিবর্তন হয়ে গেছে: অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী

ছবি: সংগৃহীত

রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. দিলারা চৌধুরী বলেছেন, ২৪ জুলাইয়ের অভ্যুত্থান শুধু শেখ হাসিনার পতনের জন্য নয়, বরং এটি ভারতীয় আধিপত্যের বিরুদ্ধে ছিল। তিনি বলেন, "শেখ হাসিনাকে ভারতীয় আধিপত্যের প্রতীক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, এবং তার বাবাকেও একইভাবে আইডেন্টিফাই করা হয়েছে।"

ড. চৌধুরী আরও বলেন, "জনরোষের মাধ্যমে শেখ হাসিনার পতন হয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের বক্তব্যে এটি প্রকাশ পেয়েছে, যেখানে তিনি বলেছেন যে, 'জনরোষ ছিল, আমরা বুঝতে পেরেছিলাম কিন্তু কিছু করতে পারিনি।'"

তিনি উল্লেখ করেন, "ভারত বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে সরাসরি প্রভাব ফেলতে সক্ষম ছিল, এবং শেখ হাসিনার সরকারের সহায়তায় বাংলাদেশে বিভিন্ন রাজনৈতিক ঘটনা ঘটেছিল। বিশেষ করে ২০০৯ সাল থেকে ক্রমবর্ধমানভাবে শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদী চরিত্রের উদ্ভব হয়েছে, যা সন্ত্রাসী ও রাজনৈতিক সহিংসতার সৃষ্টি করেছে।"

ড. চৌধুরী বলেন, "ভারত বাংলাদেশে তার আধিপত্য প্রতিষ্ঠার জন্য নানা পদক্ষেপ নিয়েছিল, যার ফলে বাংলাদেশের জনগণ বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম ভারতীয় আধিপত্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে উঠেছে। বর্তমান প্রধান উপদেষ্টা চীনে যাওয়ার পর ভারত মনে করছে যে, বাংলাদেশে এক নতুন বাস্তবতা তৈরি হয়েছে, যা ভারতীয় আধিপত্যের বিপরীতে দাঁড়িয়ে।"

তিনি আরো বলেন, "ভারত সার্কের পরিবর্তে বিমসটেককে প্রাধান্য দিয়েছে, কারণ সার্কের মধ্যে পাকিস্তানের উপস্থিতি ভারতের জন্য সমস্যা তৈরি করতে পারে। তবে সার্ক যদি শক্তিশালী হতো, তবে প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে সমতা বজায় থাকতো, যা ভারতের আধিপত্যবাদী প্রবণতার বিরুদ্ধে একটি কার্যকরী প্রতিরোধ গড়ে তুলত।"

অধ্যাপক ড. দিলারা চৌধুরী বলেন, "ভারতীয় প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার জন্য সার্কের মতো আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ভারত যদি সার্ককে শক্তিশালী করতো, তবে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নত হতো, যা একটি সুস্থ আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভিত্তি গড়ে তুলতে সহায়তা করতো।"

 

সূত্র: https://www.youtube.com/watch?v=ftVHCs6enxc

আবীর

আরো পড়ুন  

×