
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিএনপি কখনো বলেনি আগে নির্বাচন পরে সংস্কার, এটা যদি কেউ বলে থাকে তাহলে এটা ভুল ব্যাখ্যা দেয়া হচ্ছে। জনগণকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে।
বুধবার সকালে ঠাকুরগাঁওয়ে নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল।গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে কেউ যদি সরাসরি ফলো করে, সেখানে স্বৈরাচারী হয়ে ওঠার কোনো সম্ভাবনা থাকে না। আপনারা তো নিশ্চয়ই ভালো করে দেখেন যে, আজকে গোটা পৃথিবীতে ডানপন্থীদের একটা উত্থান হচ্ছে। এবং তারাই বলছেন যে "গণতন্ত্র ইজ গোইং ডাউন"।
জাতিসংঘের মহাসচিব এসেছিলেন দেশে। উনার সঙ্গে আমাদের একটা এক্সক্লুসিভ মিটিং হয়েছিল। কয়েকটা রাজনৈতিক দল আর সংস্কার প্রধানদের। সেখানে তিনি নিজেই বলেছিলেন যে-"গণতন্ত্র এখন খুব বিপদের সম্মুখীন। গণতন্ত্র বিভিন্ন দেশে ডানপন্থীদের উত্থান হচ্ছে, কর্তৃত্ববাদের উত্থান হচ্ছে। গণতন্ত্র রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য একমাত্র ব্যবস্থা, যেখানে মানুষের বক্তব্য কাজে নেওয়া হয়। যারা নির্বাচিত, তারাই দেশ চালায়।"
এই যে আমরা একটা জুজুর ভয়ে থাকি যে রাজনৈতিক দলগুলো স্বৈরাচার হয়ে ওঠে, স্বৈরাচার হয়ে উঠলে তো আওয়ামী লীগের মত অবস্থা হয়! এখানে স্বৈরাচার হয়ে উঠলে জনগণ তাদেরকে বের করে দেয়।
সুতরাং, এটার জন্য গণতন্ত্রের কোনো দোষ নেই। গণতন্ত্র অবশ্যই বেস্ট সিস্টেম। কেয়ারটেকার গভর্নমেন্ট আমাদের দেশের যে কালচার, সেই কালচার অনুযায়ী আমাদের এখানে কেয়ারটেকার গভর্নমেন্ট সিস্টেমটাই হচ্ছে বেস্ট সিস্টেম।তা না হলে, এই আওয়ামী লীগের মত স্বৈরাচার ফ্যাসিবাদের উত্থান হয়। আর আপনি যে কথাটা বলছেন, এটা আমরা কোনোদিনই আমাদের সময় সেই ধরনের কোনো উত্থান হয়নি। ফ্যাসিবাদের কোনো উত্থান হয়নি।
কোনো উত্তরাধিকারী রাষ্ট্র যখন চালায়, তখন তাকে কিছু কিছু কাজ করতে হয়, যেগুলো সবসময় জনপ্রিয় হয় না। পপুলিস্ট চাহিদা অনুযায়ী সব কিছু হয় না। তবে, গণতন্ত্রের সৌন্দর্য এখানেই যে, এখানে ভিন্ন মত থাকবে।প্রত্যেকটা রাজনৈতিক দল যদি একই মত রাখে, তাহলে তো একরকম হয়ে গেল! এখানে একটি মত থাকবে, ভিন্ন মত থাকবে, জনগণ বেছে নেবে কোনটি তাদের জন্য উপযুক্ত। এখানেই তো নির্বাচন।
আমি আমার ম্যানিফেস্টো নিয়ে জনগণের কাছে যাব। আমি আমার কাজগুলো নিয়ে জনগণের সামনে যাব। অন্য দলগুলো তাদের নীতিমালা নিয়ে যাবে। যেখানে জনগণ যাদেরকে ভোট দেবে, তারাই সরকার গঠন করবে, তারাই পার্লামেন্ট গঠন করবে।এটাই হচ্ছে গণতন্ত্র। দ্যাট ইজ এসেন্স অফ ডেমোক্রেসি।"
আমাদের ব্রিটিশ পিরিয়ড থেকেই আমরা যে ওয়েস্টমিনস্টার টাইপ অফ গভর্নমেন্ট ফলো করে আসছি, গণতন্ত্র সেই ধারাবাহিকতারই অংশ। এখানে সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা অবশ্যই থাকবে।
সংস্কারের সঙ্গে নির্বাচনের কোনো পার্থক্য নেই। যে কথাটা আমরা বলতে চেষ্টা করি, হয়তোবা বোঝাতে পারি না, অথবা আমরা বুঝি না। আপনারা বোঝেন না, অথবা ইচ্ছাকৃতভাবে বোঝেন না।
বিএনপিকে টার্গেট করে একটা প্রচারণা চালানো হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি প্রচারণা হচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়াতে।যেখানে বলা হচ্ছে—"বিএনপি আগে নির্বাচন চায়, তারপরে সংস্কার চায়। অথবা, বিএনপি সংস্কার চায় না, শুধু নির্বাচন চায়।হুইচ ইজ এ ব্লাড লাই!আমি আপনাদের সামনে পরিষ্কার করে বলছি, এটা একটা ভ্রান্ত ধারণা সৃষ্টি করা হচ্ছে জনগণের মধ্যে।
আমরাই তো সংস্কারের প্রবক্তা। আমরাই সংস্কার চেয়েছি। আমাদের ৩১ দফা সংস্কার প্রস্তাব গভীরভাবে দেখলে বোঝা যাবে, সরকারের সংস্কার প্রস্তাবের সঙ্গে এর কোনো বৈপরীত্য নেই।সংবিধানের কিছু সংস্কার প্রয়োজন, আর কিছু মীমাংসিত বিষয় নিয়ে নতুন করে আলোচনা দরকার নেই।গণতন্ত্রকে বাদ দিয়ে কিছুই সম্ভব নয়।
বহুত্ববাদ বলতে মাল্টিল্যাটারিজম বোঝায়। কিন্তু এই দেশের কয়টা লোক এটা বোঝে?সংস্কারের মূল কাজ জনগণের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন। রাজনৈতিক দলগুলোর জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক থাকে।
"সংস্কারের জন্য জ্ঞানী, পণ্ডিত, ডিগ্রিধারীরা আছেন। তাদের শ্রদ্ধা করি। কিন্তু তারা যদি জনগণের মতামতের বাইরে গিয়ে কিছু করেন, তাহলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না। জনগণ যেটা চাইবে, সেটাই গ্রহণযোগ্য।"
সূত্র:https://tinyurl.com/2vkdmenz
আফরোজা