
ছবি : সংগৃহীত
সাংবাদিক ও বিশ্লেষক আশরাফ কায়সার সংবিধান সংস্কার প্রক্রিয়া নিয়ে তার মূল্যবান মতামত প্রকাশ করেছেন। তিনি বিএনপির প্রস্তাবিত ৭০ অনুচ্ছেদ সংস্কারকে আংশিক সমর্থন হিসেবে মূল্যায়ন করেন, যেখানে দলটি শর্তসাপেক্ষে সংসদে ভোটদানের সুযোগ রাখার পক্ষে মত দিয়েছে। তবে তিনি গুরুত্বপূর্ণভাবে উল্লেখ করেন যে, "রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা"র অস্পষ্ট সংজ্ঞা এই সংস্কার প্রক্রিয়ায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কায়সার বাংলাদেশের রাজনৈতিক শ্রেণির দ্বৈত ভূমিকা নিয়ে তীক্ষ্ণ মন্তব্য করেন: "দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে রাজনীতিবিদদের অবদান থাকলেও দুর্নীতি ও স্বৈরাচারীমনোভাব এর জন্য তারাই দায়ী।" তিনি শেখ হাসিনা সরকারের আমলে ২৩৪ বিলিয়ন ডলার বিদেশে পাচারের অভিযোগ তুলে ধরেন এবং বলেন, "একাদশ সংসদ থেকে বর্তমান ফ্যাসিবাদী মনোভাব পর্যন্ত সব কিছুর পেছনে রাজনীতিবিদদের ভূমিকা রয়েছে।"
সংবিধান সংস্কার প্রসঙ্গে কায়সার সতর্ক করেন যে সংসদীয় অনুমোদন ছাড়া কোনো সংস্কার কার্যকর হবে না। তিনি বলেন, "জনগণ নেতাদের প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবায়নের মধ্যে পার্থক্য বুঝতে পারছে। পাঁচ বছর পর পর নির্বাচন এই পার্থক্য চোখে আঙুল দিয়ে দেখাবে।"নারী প্রতিনিধিত্ব নিয়ে বিএনপির প্রস্তাব নিয়ে তিনি হতাশা প্রকাশ করেন: "৩০টি আসন বাড়িয়ে ৫০ জন নারী প্রতিনিধির প্রস্তাব আসলে ক্ষমতায় গেলে ১০০ জন করার পথই প্রশস্ত করছে।"
"জাতীয় নিরাপত্তার নামে বাংলাদেশে যত নিবর্তনমূলক আইন হয়েছে, তা আসলে ক্ষমতাসীনদের স্বার্থরক্ষার হাতিয়ার। প্রকৃত নাগরিক নিরাপত্তা এতে উপেক্ষিত।" তিনি জোর দিয়ে বলেন, "জাতীয় নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে ৭০ অনুচ্ছেদের পূর্ণ সংস্কার বাধাগ্রস্ত করা উচিত নয়।"
কায়সারের মতে, বাংলাদেশের রাজনীতিতে কিছু কলঙ্ক ও লেভেল থেকে মুক্তি প্রয়োজন। তার ভাষায়, "নাগরিকদের উপর নজরদারি বন্ধ করে প্রকৃত গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরি করতে হবে। ক্ষমতাসীনরা যেন নির্বিচারে অগণতান্ত্রিক নীতি চাপিয়ে দিতে না পারে।"
আঁখি