ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ২০ চৈত্র ১৪৩১

মুক্তিযুদ্ধের সময় আমার বয়স ছিল সাড়ে বারো বছর, আমি কি যুদ্ধাপরাধী! :ডা. শফিকুর রহমান

প্রকাশিত: ১০:২৪, ২ এপ্রিল ২০২৫; আপডেট: ১০:২৬, ২ এপ্রিল ২০২৫

মুক্তিযুদ্ধের সময় আমার বয়স ছিল সাড়ে বারো বছর, আমি কি যুদ্ধাপরাধী! :ডা. শফিকুর রহমান

ছবি : সংগৃহীত

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন। তিনি দাবি করেন, ১৯৭১ সালে তার বয়স ছিল মাত্র সাড়ে বারো বছর, যা কোনোভাবেই যুদ্ধাপরাধের সাথে জড়িত হওয়ার মতো বয়স নয়। তিনি বলেন, "আমার গ্রাম থেকে ১৪ মাইল দূরে কোনো ঘটনাস্থলে গিয়ে খুন করার অভিযোগ সম্পূর্ণ অবাস্তব এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।"  

 

 

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে সে সময় তিনি জামায়াতে ইসলামী বা এর কোনো সহযোগী সংগঠনের সদস্য ছিলেন না। বরং তিনি একটি ভিন্ন সংগঠনের সাথে যুক্ত ছিলেন, যার নাম উল্লেখ করতে তিনি এখন লজ্জাবোধ করেন। তার মতে, এই অভিযোগগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের চেষ্টা ছিল একটি ষড়যন্ত্র।  

ডা. শফিকুর রহমানের পরিবারের সদস্যরাও তার পক্ষে সাক্ষ্য দিয়েছেন। তার ছোট ভাই এডভোকেট বকরুল ইসলাম এবং স্ত্রী কারাগারে তার সাথে দেখা করতে গিয়েছিলেন। তারা তাকে জানান যে তার বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের মামলা দায়েরের চেষ্টা চলছে। তিনি এই খবর শুনে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করেন এবং বলেন, "এই মামলা প্রমাণ করবে যে অতীতের সব অভিযোগ মিথ্যা ছিল।"  

 

 

রাজনৈতিক প্রসঙ্গে তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করে বলেন, "আমার বিরুদ্ধে মামলা দেওয়ার চেষ্টা একটি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা মাত্র।" তিনি দুর্নীতি ও দুঃশাসনের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন এবং বলেন, "শহীদ পরিবার, বিধবা, বোন ও এতিমদের চোখের পানি মুছানো পর্যন্ত আমাদের সংগ্রাম চলবে।"  

ডা. শফিকুর রহমান তার বক্তব্যে ইসলামী আইন প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, "আমার জীবনের সর্বোচ্চ ইচ্ছা হলো কোরআনের আইন বাংলাদেশে কায়েম করা।" তিনি তার সমর্থকদের কাছে দোয়া চেয়ে বলেন, "আমার শেষ ইচ্ছা হলো আল্লাহ যেন আমাকে শহীদের মর্যাদা দেন।"  

 

 

তিনি মৃত্যুকে আল্লাহর ইচ্ছা হিসেবে মেনে নিয়ে বলেন, "জানিনা আমার কবর হবে কিনা, শত্রুরা আমাকে টুকরো টুকরো করলেও আমি শাহাদাতের স্বপ্ন দেখি।" তার এই বক্তব্য যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ সম্পর্কে তার অবস্থানকে আরও স্পষ্ট করেছে, পাশাপাশি রাজনৈতিক সংঘাতের ইঙ্গিত দিয়েছে। তার ভাষ্যে, এটি "সত্যের জন্য লড়াই" এবং "ইসলামী ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম"।

সূত্র:https://youtu.be/6Te7oHImEZ0?si=5ttSiIzH5-33b_xu

 

আঁখি

আরো পড়ুন  

×