
জাতীয় ঈদগাহে ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায়ের পর জুরাইন কবরস্থানে জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদদের কবর জিয়ারত করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। সেখানে তিনি শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং তাঁদের সান্ত্বনা দেন।
শহীদ পরিবারের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, "এই পরিবারগুলোর সামনে তো আমরা দাঁড়াতে পারবো না, যদি জাতি হিসেবে আমরা তাদের ন্যায়বিচার দিতে না পারি। প্রত্যেকটি মা-বাবা আজ শুধু বিচারের আশায় দিন কাটাচ্ছে।"
তিনি আরও বলেন, "শহীদ পরিবার যাতে ন্যায়বিচার পায়, তাদের সন্তানদের যারা গুলি করেছে, হত্যা করেছে, তাদের বিচার অবশ্যই হতে হবে।"
শহীদ পরিবার এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে নাহিদ ইসলাম বলেন, "আজ ঈদুল ফিতর। আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের দিন। বাংলাদেশে আমরা সবাই ঈদ আনন্দের সঙ্গে পালন করি। এবারের ঈদ আমাদের জন্য আরও বিশেষ কারণ, ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের পরে দলমত নির্বিশেষে ঐক্য এবং সহাবস্থানের মাধ্যমে যে ঈদ উদযাপিত হচ্ছে, তা বহু বছর পর এক নতুন নজির স্থাপন করেছে।"
তবে এই আনন্দের মাঝেও দুঃখের ছায়া রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। "আমরা আমাদের গণঅভ্যুত্থানে অনেক ভাই-বোনকে হারিয়েছি। অনেক পরিবার এবার প্রথমবারের মতো পরিবারের সদস্য ছাড়া ঈদ পালন করছে।"
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, "সেই কষ্টের ভাগ নিতেই মূলত এখানে আসা। আমরা জুরাইন কবরস্থানে এসে প্রায় ১০ থেকে ১২ জন শহীদের কবর জিয়ারত করেছি, তাঁদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছি। ঈদের আনন্দের মাঝে এই পরিবারগুলো কেমন আছে, শহীদদের স্মরণ করা এবং তাঁদের পরিবারের কষ্টের ভাগ নেওয়াই আজকের উপস্থিতির উদ্দেশ্য। আমরা তো বিচার চেয়ে আসছি সবসময়ই।"
শহীদ পরিবারগুলোর ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার বিষয়ে তিনি বলেন, "সরকারের সহযোগিতা শহীদ পরিবারগুলোর জন্য বড় বিষয় নয়, তারা চায় ন্যায়বিচার। যারা তাদের সন্তানদের হত্যা করেছে, তাদের বিচার হোক, এটিই তাদের চাওয়া।"
তিনি আরও বলেন, "আমাদের দলীয় এজেন্ডার মধ্যে বিচার, সংস্কার ও গণপরিষদ নির্বাচন—এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ। আমরা ন্যায়বিচারকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি। সরকার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তা দ্রুত বাস্তবায়ন করা দরকার।"
জাতীয় উৎসব হিসেবে ঈদের গুরুত্ব তুলে ধরে নাহিদ ইসলাম বলেন, "আমরা চাই ঈদকে সাংস্কৃতিকভাবে আরও গুরুত্ববহ করে তুলতে। এটি আমাদের জাতীয় সংস্কৃতির অংশ। ঐতিহ্য ও আধুনিকতার সমন্বয়ে ঈদ উদযাপনকে আরও সৃজনশীলভাবে কীভাবে এগিয়ে নেওয়া যায়, সে উদ্যোগকে আমরা সাধুবাদ জানাই। ভবিষ্যতে এ ধরনের সৃজনশীল উদ্যোগ আরও বাড়বে বলে আশা করছি।"
আফরোজা