
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, প্রয়োজনীয় সংস্কার চাই, মানবতা বিরোধী অপরাধীদের বিচার চাই, তারপরে আমরা গ্রহণযোগ্য নির্বাচন চাই।
সরকারকে তার যথার্থ সময়, উপযুক্ত সংস্কার শেষে তিনি যখন নির্বাচন করতে পারবেন, সেই নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য জামায়াতে ইসলামী প্রস্তুত আছে। আমরা কোন অস্থিরতা তৈরি করতে চাই না।
বুধবার (২৬ মার্চ) ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতে ইসলামী কর্তৃক আয়োজিত ‘মহান স্বাধীনতা দিবস ও জাতীয় দিবস’ উপলক্ষ্যে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।
জামায়াত সেক্রেটারি বলেন, নির্বাচন যদি আবার সেই ১৪, ১৮, ২৪ এর মত হয় তো আমার এই সময় দিয়ে তো কোন লাভ। টাইম ইজ নট ইম্পর্টেন্ট। ইম্পর্টেন্ট হচ্ছে ইলেকশনটা নিরপেক্ষ হবে কিনা। তার আগে এই মানবতা বিরোধী অপরাধ যারা করেছে, হাজার হাজার লোককে যারা খুন করেছে, মৃত লাশ আগুনে পুড়িয়ে যারা ছাই করেছে, হেলিকপ্টার থেকে শিশুকে যারা হত্যা করেছে, এই ইতিহাসের বরবর্তক খুনিদেরকে ট্রাইবুনালে যে মামলা হয়েছে, বিচার শুরু হয়েছে এই বিচার দৃশ্যমান হওয়া চাই। বিচার না করে অপরাধীদেরকে আপনি যদি শাস্তি না দিয়ে আপনি নির্বাচনের নামে তাড়াহুড়ো করে পার হয়ে যেতে চান, বলা যায় না আধিপত্যবাদী শক্তিরা কিন্তু এখানে আবার স্পেস খুঁজে নেবে।
জামায়াত সেক্রেটারি আরো বলেন, আমাদের জন্য এটা দুর্ভাগ্যজনক যে, যারাই আমরা বাংলাদেশে আল্লাহ তায়ালার দ্বীনকে বিজয়ী করতে চাই, বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামী এই অপ্রতিরুদ্ধ ইসলামী আন্দোলনের অগ্রযাত্রা, জনপ্রিয়তা, গণজাগরণকে প্রতিরোধ করার জন্য সবসময় একটা শক্তি, সবসময় একটা মহল স্বাধীনতা আর মুক্তিযুদ্ধকে জামাত ইসলামের বিপক্ষে দাঁড় করাবার একটা অপপ্রচার, অপপ্রয়াস, একটা অপচেষ্টা তারা করে থাকেন। এটা খুব দুঃখজনক।
তিনি্আরো বলেন,ওয়ামী লীগ তো এ কাজে খুব সিদ্ধহস্ত। সেই আওয়ামী রেজিম তো বিদায় নিয়েছে। তারা এখন রাজনীতির সভা মঞ্চে মিটিংয়ে বক্তব্য বিবৃত্তিতে মিছিলে কথা বলার আর অফিশিয়াল সুযোগ পাচ্ছেন না। চোরাগুপ্তা কথাবার্তা তো আছেই আমরা সেটাকে মূল্য নাই দিলাম। কিন্তু আওয়ামী লীগ ছাড়াও ফ্যাসিবাদ বিরোধী এই সংগ্রামে আমরা যারা রাজপথে ছিলাম, দুর্ভাগ্যজনক হলেও সেই সংগ্রামী নেতাদের মধ্য থেকেও কিছু লোকের জামাত বিরোধিতার কথাগুলো, ভাষাগুলো আওয়ামী ফ্যাসিবাদের ভাষার সাথে হুবহু মিলে যায়। তারা যে ভাষায় কথা বলতেন এখন কিছু কিছু নেতা এবং নেতৃত্বের বক্তব্য একেবারে একই সুর।
কিন্তু তারা ভুলে যান যে জামায়াতে ইসলামী যখন স্বৈরাচার বিরোধী, ফ্যাসিবাদ বিরোধী, গণতন্ত্রের জন্য ভোটাধিকারের আন্দোলনে যখন তাদের সঙ্গে যখন আমরা থাকি তখন বলে আমাদের সঙ্গী। যখন কোন কারণে তাদের সঙ্গে আমরা না থাকি বলে এরা জঙ্গী। সাথে থাকলে সঙ্গী, সাথে না থাকলে জঙ্গী। সাথে থাকলে আমাদের সব গুনাহ মাফ। নাম আর বলতে চাই না, জনগণ তো চেনে তাদেরকে।
শেষে তিনি আরো বলেন,কমিশনের কাছে আমাদের মতামত দিয়েছি। সব দল দিচ্ছেন। আমরা সহযোগিতা করতে রাজি আছি। আমরা আশা করি সংস্কারের মৌলিক ইস্যুতে আসুন নিজেদের একটু ছাড় দিয়ে হলেও, ওই যে বলি যে ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ বড়, তা এখন দেশপ্রেমের পরীক্ষার টাইম এসে গেছে।
দেশের প্রয়োজনে আসেন, একটু ছাড় দেই। স্যাক্রিফাইস এবং কম্প্রমাইজ — এই দুইটা কথা আছে। প্রয়োজনে একটু স্যাক্রিফাইস করব, প্রয়োজনে একটু কম্প্রমাইজ করে ঐক্যমতের মৌলিক ইস্যুতে যেন আবার বিভেদ তৈরি করে বাংলাদেশে রাজনীতির দিগন্তে কোন কালো মেঘ যেন আমরা তৈরি না করি।
আসুন, সব দল মিলে আমরা কে কতটা ছাড় দিতে পারি, সরকারকে সহযোগিতা করে ন্যাশনাল কনসেনসাসকে যে কমিশন হয়েছে, সে কমিশনকে সহযোগিতা করে একটি অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচনের দিকে যদি যেতে পারি, তাহলে ২৬শে মার্চের মহান স্বাধীনতার যে লক্ষ্যে আমাদের মুক্তিযোদ্ধারা রক্ত দিয়েছিল, দ্বিতীয় স্বাধীনতার পরে নতুন এই সংগ্রামের মধ্য দিয়ে আমরা সেই স্বপ্ন ও মুক্তিযোদ্ধাদের আমরা ইনশাল্লাহ গ্রহণ করতে পারব।
আফরোজা