
ছবি:সংগৃহীত
সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় পার্টির নেতা গোলাম সারওয়ার মিলন একটি টক শোতে বলেন, আওয়ামী লীগ এখনো অনুশোচনা বোধ করেনি এবং ক্ষমা চায়নি। তিনি মনে করেন, নতুন নেতৃত্ব আসলেও তাদেরকে জাতির কাছে অনুশোচনা ও ক্ষমা চাইতে হবে।
তাদের পূর্বসূরীরা হত্যা, লুটপাট, লুণ্ঠন এবং দেশের প্রতিষ্ঠানগুলো নষ্ট করার মতো কাজ করেছে। এ ব্যাপারে তাদের স্বীকারোক্তি দিয়ে জনগণের কাছে ক্ষমা চাইলে জনগণ সিদ্ধান্ত নেবে। তিনি উল্লেখ করেন, আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে জনগণের সিদ্ধান্তই মুখ্য হবে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, আওয়ামী লীগ কি কার্যকর থাকবে, নাকি অপ্রাসঙ্গিক হয়ে যাবে অথবা মুসলিম লীগে পরিণত হবে?
গোলাম সারওয়ার মিলন বলেন, ত্রুটিপূর্ণ গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার জন্যই তারা আন্দোলন করেছেন। তিনি মনে করেন, বর্তমানে সব রাজনৈতিক দল যে অবস্থানে আছে, সেখান থেকে গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরে যাওয়া সম্ভব। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরে যাওয়ার আগে জাতীয় ঐক্যমত গঠন অপরিহার্য। তিনি বিএনপি ও অন্যান্য প্রগতিশীল রাজনীতিবিদদের সাথে ঐকমত্যের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব আজ হুমকির মুখে, তাই নির্বাচনের আগেই এই বিষয়গুলো নিষ্পত্তি হওয়া দরকার।
তিনি তুলসী গ্যাবার্ড এর বক্তব্য নিয়ে আলোচনা করেন, যেখানে তুলসী ভারতে বসে বাংলাদেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। গোলাম সারওয়ার মিলন বলেন, বাংলাদেশ একটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ এবং এখানে ধর্মভীরু মানুষ আছে, ধর্মান্ধ নয়। তিনি উগ্রবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে বলেন, বাংলাদেশে উগ্রবাদের স্থান নেই। তিনি বামপন্থী রাজনীতিবিদদের উদ্দেশ্যে বলেন, গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে মধ্যপন্থাই সফল হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে ইসলামী রাজনীতির জায়গা আছে, কিন্তু হটকারি ও মাজার হামলার মতো ঘটনাগুলো ইসলামী ফোবিয়া তৈরি করছে, যা দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে। তিনি জাতীয় ঐক্যমত গঠনের প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেন। তিনি তুলসী গ্যামারের বক্তব্যকে নাইন ইলেভেন পরবর্তী আমেরিকার নিরাপত্তা কৌশলের সাথে তুলনা করেন এবং বলেন, বাংলাদেশকে নিয়ে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।
গোলাম সারওয়ার মিলন ভারতীয় মিডিয়ার মাধ্যমে আওয়ামী লীগের প্রচারণার সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, নির্বাচন ঘিরে নানা রকম ষড়যন্ত্র হতে পারে, তাই সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। তিনি ভারতীয় সেনাপ্রধানের বক্তব্য উল্লেখ করে বলেন, গণতান্ত্রিক সরকার এলে সব সম্পর্ক স্বাভাবিক হবে। তিনি আগামী দিনের পথচলায় একটি নির্দিষ্ট রোডম্যাপের মাধ্যমে নির্বাচনের আহ্বান জানান। তিনি সব রাজনৈতিক দলকে গণতন্ত্র ও স্বাধীনতা রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।