
দেশে চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে জনগণের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা চলছে। বিশেষ করে, গত ছয়-সাত মাসে ইউনূস সরকারকে নিয়ে নানা বিতর্ক ও সমালোচনা সামনে এসেছে। সরকারের কার্যকারিতা, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে বিভিন্ন মতামত উঠে আসছে।
বর্তমান সরকারের অধীনে আইন-শৃঙ্খলার পরিস্থিতি অনেকের মতে অবনতি হয়েছে। অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড, ঘুষ ও দুর্নীতির অভিযোগ অব্যাহত রয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিভাজন ক্রমশ বাড়ছে, যা সমাজের স্থিতিশীলতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। জনগণের একাংশ মনে করছে, সরকারের উপদেষ্টারা দক্ষতার অভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণে ব্যর্থ হচ্ছেন।
অনেকে অভিযোগ করছেন, দেশে এখনো ঘুষ, চাঁদাবাজি ও স্বজনপ্রীতির রাজনীতি চলছে। নতুন সরকার ক্ষমতায় এলেও এই প্রবণতা কমেনি বরং অনেক ক্ষেত্রে বেড়েছে। রাজনীতির এই চক্র থেকে বেরিয়ে আসতে না পারলে সরকার জনগণের আস্থা হারাবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
বাংলাদেশের ১৬ থেকে ৩৬ বছর বয়সী তরুণ জনগোষ্ঠী নতুন ধরণের রাজনীতি প্রত্যাশা করছে। তারা পুরনো দলগুলোর ঐতিহ্যগত রাজনীতির পরিবর্তে একটি আধুনিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক কাঠামোর স্বপ্ন দেখে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, বর্তমান সরকার কি সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে পারবে?
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে একটি নতুন রাজনৈতিক শক্তির উত্থানের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে। অনেকেই মনে করেন, ঐতিহ্যগত রাজনৈতিক দলগুলো এখনো পুরনো ধ্যান-ধারণার বাইরে আসতে পারেনি। নতুন রাজনৈতিক শক্তি গড়ে উঠলেও তারা কতটা কার্যকর হতে পারবে, সেটি একটি বড় প্রশ্ন।
সেনাপ্রধান সম্প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন যে, দেশের অভ্যন্তরীণ বিরোধ ও সংঘাত স্বাধীনতা বিপন্ন করতে পারে। তিনি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তার বক্তব্য অনেকের কাছে তাৎপর্যপূর্ণ মনে হয়েছে, বিশেষ করে সরকারের নীতিনির্ধারকদের জন্য।
বর্তমান সরকারের ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে তারা কীভাবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করতে পারে এবং জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার করতে পারে তার উপর। রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত হবে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশকে এগিয়ে নেওয়া, ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে গণতান্ত্রিক চেতনা প্রতিষ্ঠা করা।
আগামী দিনগুলোতে বাংলাদেশ কি একটি স্থিতিশীল গণতন্ত্রের পথে এগিয়ে যাবে, নাকি পুরনো রাজনৈতিক সংকটের ঘূর্ণাবর্তে পড়বে? সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
সূত্র ঃ https://www.facebook.com/watch/?v=584703791190891&rdid=O5KlDaNMFDfr9NU0
রাজু