
ছবি: সংগৃহীত
পেশাদার রাজনীতিবিদ নন, বড় কোনো রাজনৈতিক পরিবারের সদস্যও নন— এমন একজন ব্যক্তি হয়েও নাহিদ ইসলাম বাংলাদেশে এক নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার অন্যতম মুখ হয়ে উঠেছেন। ২০২৪ সালের এক সংকটময় সময়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে তিনি দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে পরিণত হন। তার নেতৃত্বে গড়ে ওঠা গণআন্দোলনের চাপে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছাড়তে বাধ্য হন।
প্রথম থেকেই আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন নাহিদ। রাজপথে থেকে শুরু করে সংবাদ সম্মেলন ও গোপন বৈঠক—সবখানেই তার দৃঢ় উপস্থিতি ছিল। ২১ জুলাই নিরাপত্তা বাহিনী তাকে আটক করে এবং নির্যাতনের শিকার হন তিনি। তবে সেই নির্যাতনই তাকে আন্দোলনের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতীকে পরিণত করে।
নাহিদ গণমাধ্যমে প্রদত্ত সাক্ষাৎকারে শিক্ষার্থীদের দাবি স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন এবং কোটা বাতিলের পক্ষে জোরালো অবস্থান নেন। আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ২০ জুলাই তাকে সবুজবাগের একটি বাসা থেকে আটক করা হয় এবং ২৬ জুলাই গোয়েন্দা পুলিশের একটি গোপন স্থানে আটকে রাখা হয়। সেখানে তাকে পূর্বনির্ধারিত বক্তব্য পড়তে বাধ্য করা হলেও, আন্দোলন আরও বেগবান হয়ে ওঠে।
১ আগস্ট তিনি মুক্তি পান এবং ৩ আগস্ট এক দফা আন্দোলনের ঘোষণা দেন, যেখানে শেখ হাসিনার পদত্যাগ ছিল প্রধান দাবি। মাত্র দুই দিন পর, ৫ আগস্ট, অভূতপূর্ব গণআন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা দেশত্যাগে বাধ্য হন।
৮ আগস্ট নাহিদ নতুন সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নেন এবং আইসিটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান। এরপর ১৬ আগস্ট তিনি আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। প্রশাসনিক সংস্কারের ইঙ্গিত দিয়ে তিনি ঘোষণা দেন, সরকারি কর্মকর্তারা তাকে ‘স্যার’ বলে ডাকবেন না।
দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক পরিসরেও প্রভাব বিস্তার করতে থাকেন নাহিদ। ৪ অক্টোবর টাইম ম্যাগাজিন তাকে বিশ্বের ১০০ প্রভাবশালী ব্যক্তির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে। ২৫ নভেম্বর তিনি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় কঠোর অবস্থান নেন এবং ২৬ নভেম্বর গণমাধ্যমের ওপর হামলা নিয়ে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
২০২৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি তিনি ভারতকে সতর্ক করেন যে, শেখ হাসিনাকে ভারতে বসে রাজনীতি করতে দিলে তার দায়ভার ভারতকেই নিতে হবে। এছাড়া তিনি সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের পুনঃতদন্তের প্রতিশ্রুতি দেন।
তবে রাজনৈতিক দল গঠনের বিষয়ে দীর্ঘদিন সংযত থাকলেও, ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয় যে, জুলাই আন্দোলনের কর্মীদের নিয়ে গঠিত নতুন রাজনৈতিক দলের আহ্বায়ক হিসেবে তার নাম প্রায় নিশ্চিত। এর আগেই, ২৫ জানুয়ারি বিবিসি বাংলাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, যদি তিনি কোনো রাজনৈতিক দলে যোগ দেন, তবে সরকার থেকে পদত্যাগ করবেন।
অবশেষে, তিনি সরকার থেকে পদত্যাগ করেন এবং আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন রাজনৈতিক দলের আহ্বায়ক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও রাজনৈতিক সংস্কার তার নতুন দলের মূল লক্ষ্য।
ভিডিও দেখুন: https://youtu.be/nkLOEGHNz_E?si=5kajqOuTstYeVzA5
এম.কে.