ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১৬ ফাল্গুন ১৪৩১

যে দলটি ঘোষণা হলো সেটি এক প্রকার সরকারের ছত্রছায়ায় গঠিত হল: অ্যাড. মোঃ রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া

প্রকাশিত: ০৪:১৩, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫; আপডেট: ০৪:১৭, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫

যে দলটি ঘোষণা হলো সেটি এক প্রকার সরকারের ছত্রছায়ায় গঠিত হল: অ্যাড. মোঃ রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া

সম্প্রতি এসএটিভির টকশো লেট এডিশনে উপস্থিত ছিলেন প্রেসিডিয়াম সদস্য, অতিরিক্ত মহাসচিব (চট্টগ্রাম বিভাগ) অ্যাড. মোঃ রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া । তার কাছ থেকে সমসাময়িক রাজনৈতিক প্রসঙ্গ, ছাত্রদের নতুন দল গঠন, তাদের বর্তমান অবস্থান সর্ম্পকে জানতে চাওয়া হয়।

শুরুতেই জানতে চাওয়া হয়, যে নতুন রাজনৈতিক বলয় বা নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত, যেটি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এর নেতৃবৃন্দ ঘোষণা দিয়েছেন। নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের যে প্রক্রিয়া, সেটি আসলে ৬ মাসে আপনার দৃষ্টিতে দৃশ্যমান কোন কিছু দেখতে পেয়েছেন কিনা বা কোন অগ্রগতি আছে কিনা? নাকি শুধু রাজনৈতিক দলই দিয়ে সেটি শুরু হবে শুক্রবার?  

জবাবে মো: রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, “ধন্যবাদ আপনাকে, ধন্যবাদ দুই বিজ্ঞ সহ আলোচক এবং যারা দেখছেন। রাজনৈতিক নতুন বন্দোবস্তের কথা আমরা মুখে শুনি কিন্তু বাস্তবে এরকম কোন কার্যক্রম বা নতুন বন্দোবস্তটা কি-এরকম কোন কিছু মাঠে আমরা এখন পর্যন্ত লক্ষণীয় কিছু পাইনি।

ছাত্রদের মধ্য থেকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দল হওয়া এটা নতুন কিছু না। যারা দল করছে, আমরা তাঁদের স্বাগত জানাই। এর আগেও বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করার জন্য ‘জাসদ’ ছাত্রদের মধ্যে থেকে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, ‘গণঅধিকার পরিষদ’ ছাত্রদের মধ্য থেকে এসেছে, কিন্তু একটা সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে আসার পরেও ‘জাসদ’ কিন্তু তার কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছাইতে পারে নি।

তিনি আরো বলেন, এখন যে নতুন বন্দোবস্তের কথা হচ্ছে এবং শুক্রবারে নতুন দল ঘোষণা হবে, কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ এখন পর্যন্ত ওই বন্দোবস্তটা কি সেই ব্যাপারটা কিছু জানতে পারে নি । বরং পুরনো রাজনৈতিক ধারার মধ্যেই কিন্তু ছাত্ররা চলছে এবং অতীতে যা হয়েছে, এখনো তাই হচ্ছে। ছাত্ররা যেখানে মনে করছে যে, তাঁদের সমস্যা হচ্ছে, সেখানেই দলবল বেঁধে হাঙ্গামা করছে। সেটা আবার বাস্তবায়িত হচ্ছে। 

তিনি আরো বলেন, দুই তিন মাস আগে থেকেই দেখছি যে, কোন কোন ছাত্রনেতা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কোন স্ট্যাটাস দিলে সেটা সরকার গুরুত্ব সহকারে দেখছে। এগুলো তো নতুন বন্দোবস্তের ব্যবস্থা না।

কাজেই নতুন বন্দোবস্তটা কি সেটা তারা যখন দল ঘোষণা করবে, দলের গণতন্ত্র করবে, দলের নীতি আদর্শ ঘোষণা করবে, তখন যদি ব্যতিক্রম কিছু থাকে যা মূলত প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলগুলো যারা আছে, তাদের বাইরে অন্য কিছুর ব্যবস্থা থাকে, তাহলে বলা যায় যে নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের ব্যবস্থা আছে। 

তিনি আরো বলেন যে, “এখন নাহিদ ইসলাম সাহেবকে আহবায়ক করে যে দলটি ঘোষণা হতে যাচ্ছে এই দলটি তো এক প্রকার সরকারের ছত্র ছায়ায়-ই হচ্ছে।“

তিনি এও বলেন যে, বাংলাদেশে সরকারের ছত্রছায়ায় দল গঠন করলে, এটা কি নতুন বন্দোবস্তের ব্যবস্থা হলো? আমার মনে হয় না।

তিনি আবার বলেন যে, “মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা তো বলেছেন, ছাত্ররা নাকি তাকে নিয়োগ দিয়েছেন। এখন ছাত্ররা উনাকে নিয়োগ দেওয়ার পরে সেই ছাত্ররাই যখন দল গঠন করবেন, তাহলে নিয়োগকারীর দল মানে উনি ওই দলের নিয়োগকারী হিসেবে থাকবেন। ওই দলের নিয়োগকারী হিসেবে থাকলে সেই দলটি অন্যান্য দলের মত একটা স্বাধীন জায়গায় থেকে কাজ করবে না।“ 

তিনি আরো বলেন যে, “নিয়োগকর্তারা যখন দল গঠন করবে, তখন সেই দলের নিয়োগপ্রাপ্ত যিনি, তিনি উনাদেরকে ছায়া দিবেন, না ছায়ার বাইরে রাখবেন সেটা নিয়ে প্রশ্ন আছে। আমার তো মনে হয় না নিয়োগকর্তার বাইরে যাওয়ার কোন সুযোগ আছে। আমরা দেখছি যে, তাদের যে কিছু কিছু দাবি ছিল, সংগঠন করার আগে সেই দাবিগুলো সরকার গুরুত্ব সহকারে দেখছে এবং গুরুত্ব সহকারে এগুলো বাস্তবায়ন করারও বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে।“

সূত্রঃ https://youtu.be/aWWd92lGgQk?si=-7EUQCtX6gVI4NUG

ইমরান

×