
বিএনপির বর্ধিত সভায় ভার্চুয়ালি বক্তব্য রাখেন দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান
দেশের সর্বস্তরের নেতাদের সরব উপস্থিতিতে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে বিএনপির বর্ধিত সভা। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে রাত পর্যন্ত জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হল প্রাঙ্গণে ‘সুদৃঢ় ঐক্যই রুখে দিতে পারে সকল ষড়যন্ত্র’ স্লোগানে অনুষ্ঠিত এ সভার প্রধান ফোকাস ছিল জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সবার বক্তব্যেই দ্রুত নির্বাচনের কথা উঠে এসেছে।
লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি সংযুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দেশ আজ সঙ্কটকাল অতিক্রম করছে। তাই রাষ্ট্র মেরামতের ন্যূনতম সংস্কার করে দ্রুত গ্রহণযোগ্য সংসদ নির্বাচনের জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। ভার্চুয়ালি সংযুক্ত থেকে সভাপতির বক্তব্যে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন,জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় নির্বাচনের নামে পরিস্থিতি ঘোলা করা হচ্ছে।
এদিকে দ্বিতীয় পর্বের রুদ্ধদ্বার কর্মঅধিবেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে আসা তৃণমূল নেতারা দলের ভেতর ষড়যন্ত্রকারী আছে অভিযোগ করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করার দাবি জানান। সেই সঙ্গে দলের দুর্দিনে যারা মাঠে ছিলেন সেই পরীক্ষিত নেতাদের মূল্যায়ন করার দাবি জানান। এ সময় তারা আরও বলেন, কোনো অবস্থায় সংসদ নির্বাচনের আগে স্থানীয় নির্বাচন করতে দেওয়া হবে না।
বর্ধিত সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তৃণমূল নেতা দিনাজপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র আব্দুস সাত্তার মিলন তারেক রহমানকে উদ্দেশ করে বলেন, আমাদের দলের ভেতর ষড়যন্ত্রকারী রয়েছে। এই ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির নেতা দেওয়ান সামসুল আরেফিন বলেন, দলের দুর্দিনে যারা মাঠে সক্রিয় ছিলেন সেই পরীক্ষিত নেতাদের মূল্যায়ন করতে হবে।
মধ্যাহ্ন বিরতিকালে আলাপকালে নেত্রকোনা জেলা বিএনপির সদস্য সচিব জনকণ্ঠকে বলেন, এই মুহূর্তে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ছাড়া বিএনপির কাছে আর কোনো বিকল্প নেই। তাই অন্তর্বর্তী সরকারকে অবিলম্বে সংসদ নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে আমরা দলকে এগিয়ে নিতে কাজ করছি।
স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সহ-সভাপতি এ কে এম আবুল কালাম আজাদ জনকণ্ঠকে বলেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় নির্বাচন কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। তাই আমরা আমাদের প্রিয় নেতা তারেক রহমানের নির্দেশে সংসদ নির্বাচনের পক্ষে সোচ্চার আছি।
খালেদা জিয়ার বক্তব্য ॥ খালেদা জিয়া বলেন, বিএনপি ও ছাত্রদের সমন্বিত আন্দোলনের ফলে ফ্যাসিস্ট শাসক বিদায় নিয়েছে। এর পর অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়েছে, তাদের কাছে জনগণের প্রত্যাশা, জরুরি ন্যূনতম সংস্কারসম্পন্ন গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ফিরে যাওয়ার জন্য সবার কাছে নির্বাচন সম্পন্ন করা।
তিনি বলেন, দীর্ঘ ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামে যারা শহীদ হয়েছেন এবং জুলাই-আগস্টে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনকালে গণহত্যায় যারা শহীদ হয়েছেন, তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছি। যারা আহত হয়েছেন তাদের প্রতি জানাচ্ছি আন্তরিক সমবেদনা। আমি চিকিৎসার কারণে যুক্তরাজ্যে অবস্থান করলেও সবসময় আপনাদের পাশেই আছি।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে খালেদা জিয়া তার বক্তব্য শুরু করেন। তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৫ বছর গণতন্ত্রের জন্য, আমার মুক্তির জন্য আপনারা যে নিরন্তর সংগ্রাম করেছেন এবং অসংখ্য নেতাকর্মী প্রাণ দিয়েছেন, গুম-নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, সোয়া লাখ মামলায় জড়িয়ে ন্যায়বিচারের জন্য এখনো আদালতের বারান্দায় দৌড়াচ্ছেন, আপনাদের গণতন্ত্রের জন্য এই ত্যাগ শুধু দল নয়, জাতি চিরকাল স্মরণ রাখবে।
দলের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে খালেদা জিয়া বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাফল্যের জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণের জন্য সবাইকে থাকতে হবে। ‘ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ বড়’ সবাইকে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের এ স্লোগানের কথা মনে রাখতে হবে।
খালেদা জিয়া বলেন, প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধের পথে না গিয়ে সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধ থেকে গণতান্ত্রিক ও বাসযোগ্য দেশ গড়ে তুলতে হবে। বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষ বিশেষ করে তরুণ সমাজ আজ ইতিবাচক গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের জন্য উন্মুখ হয়ে আছে।
দলের নেতাদের উদ্দেশে খালেদা জিয়া বলেন, আমার অবর্তমানে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সিনিয়র নেতৃবৃন্দ এবং আপনাদের সকলকে সঙ্গে নিয়ে নিরন্তন কাজ করে দলকে সুসংহত করেছেন। আমি বিশ্বাস করি আপনারা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শে আরও উজ্জীবিত হয়ে আগামী নির্বাচনে সাফল্যের জন্য ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবেন। এমন কোনো কাজ করবেন না যাতে আপনাদের এতদিনকার সংগ্রাম, আত্মত্যাগ বিফলে যায়।
খালেদা জিয়া বলেন, আজ দীর্ঘ ছয় বছর পর আপনারা আবার ফ্যাসিস্ট মুক্ত বাংলাদেশে একত্রিত হতে পেরেছেন। সেজন্য আল্লাহর কাছে হাজার শুকরিয়া আদায় করছি। আমি চিকিৎসার কারণে যুক্তরাজ্যে অবস্থান করলেও আমি সবসময় আপনাদের পাশেই আছি।
খালেদা জিয়া বলেন, আন্দোলন করতে গিয়ে আমাদের অসংখ্য সহকর্মী প্রাণ দিয়েছেন, জুলুম-নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এবং প্রায় সোয়া লাখ নেতাকর্মী মিথ্যা মামলায় জর্জরিত হয়েছে। তারা এখনো আদালতের বারান্দায় ন্যায়বিচারের জন্য ঘুরে বেড়াচ্ছেন। আপনাদের এবং ছাত্রদের সমন্বিত আন্দোলনের ফলে ফ্যাসিবাদ বিদায় নিয়েছে। তিনি বলেন, ক্ষুদ্র সংকীর্ণতা ভুলে দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে কাজ করতে হবে।
এখনো ফ্যাসিস্টের দোসররা এবং বাংলাদেশের শত্রুরা গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে প্রাপ্ত অর্জনকে নস্যাৎ করার জন্য গভীর চক্রান্তে লিপ্ত রয়েছে। ইস্পাত কঠিন ঐক্যের মাধ্যমে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এই চক্রান্তকে ব্যর্থ করে দিতে হবে। গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণের জন্য আমাদের সকলকে একযোগে কাজ করতে হবে।
জনগণকে সম্পৃক্ত করে ‘ঐক্যবদ্ধ বিএনপি’ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আমি যুক্তরাজ্য থেকে অসুস্থ অবস্থায় আপনাদের আহ্বান জানাতে চাই, আসুন দলকে আন্দোলন, সংগ্রাম ও রাষ্ট্র পরিচালনায় নেতৃত্ব প্রদানে আরও ঐক্যবদ্ধ এবং সুসঙ্গতভাবে গড়ে তুলি।
খালেদা জিয়া বলেন, বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষ বিশেষ করে তরুণ সমাজ আজ এক ইতিবাচক গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের জন্য উন্মুখ হয়ে আছে। তবে ফ্যাসিস্টদের দোসররা এবং বাংলাদেশের শত্রুরা গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে প্রাপ্ত অর্জনকে নস্যাৎ করার জন্য গভীর চক্রান্তে লিপ্ত রয়েছে।
দেশের বর্তমান অবস্থা থেকে উত্তরণে খালেদা জিয়া পরামর্শ রেখে বলেন, আসুন আমরা আগামী দিনগুলোতে শহীদ জিয়াউর রহমানের স্বপ্নের আধুনিক সমৃদ্ধ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণের জন্য আমাদের সর্বশক্তি নিয়োগ করি এবং এত ত্যাগের বিনিময় এই অর্জনকে সুসংহত এবং ঐক্যকে আরও বেগবান করি।
প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধ নয় পারস্পরিক ভালোবাসা ও ভ্রাতৃত্বের মাধ্যমে আমরা সকলে মিলে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি যোগ্য, উন্নত ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত করি। দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে খালেদা জিয়া বলেন, এমন কোনো কাজ করবেন না যাতে আপনাদের এতদিনকার সংগ্রাম, আত্মত্যাগ বিফলে যায়।
তারেক রহমান ॥ সংস্কার কিংবা স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে জনগণের সামনে এক ধরনের ধূম্রজাল সৃষ্টি করা হচ্ছে মন্তব্য করে তারেক রহমান অন্তর্বর্তী সরকারকে উদ্দেশ করে বলেন, সারাদেশে গণহত্যাকারীদের দোসর মাফিয়াচক্রকে পুনর্বাসনের জন্য স্থানীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা থেকে সরে আসুন। অবিলম্বে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করুন।
জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় নির্বাচনের নামে পরিস্থিতি ঘোলাটে করা হচ্ছে মন্তব্য করে তারেক রহমান বলেন, বিএনপি এ ফাঁদে পা দেবে না। অবিলম্বে সংসদ নির্বাচনের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনকে নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত রাখতে হবে।
তারেক রহমান বলেন, গণতন্ত্রকামী জনগণ মনে করে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে সেটি হবে সারাদেশে পলাতক স্বৈরাচারের দোসরদের পুনর্বাসনের একটি প্রক্রিয়া যা সরাসরি গণঅভ্যুত্থানের আকাক্সক্ষাবিরোধী। গণহত্যাকারী, টাকা পাচারকারী, দুর্নীতিবাজ, মাফিয়া চক্রকে পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার এই ফাঁদে বিএনপি পা দেবে না।
অন্তর্বর্তী সরকারকে উদ্দেশ করে তারেক রহমান বলেন, স্থানীয় নির্বাচনের পরিকল্পনা থেকে সরে আসুন। সারাদেশে খুন, হত্যা, ধর্ষণ, চুরি, ছিনতাই, রাহাজানি বেড়েই চলেছে। বাজার সিন্ডিকেটের কবলে পড়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণহীন। সরকার এখনো দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি।
সরকার যেখানে দেশের বাজার পরিস্থিতি কিংবা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাক্সিক্ষত সফলতা অর্জন করতে পারছে না সেখানে জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের নামে কেন দেশের পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে করতে চাইছে এটি জনগণের কাছে বোধগম্য নয়।
তারেক রহমান বলেন, বিএনপি জনগণের কাছে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জনরায়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে গণহত্যাকারী-মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি করবে। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালানোর পর দেশে এ পর্যন্ত ১৬ থেকে ১৭টি নতুন রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ ঘটেছে।
বহুদলীয় গণতন্ত্রে বিশ্বাসী বিএনপি সকল নতুন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনকে স্বাগত জানায়। তবে নির্বাচনের মাধ্যমে গ্রহণ কিংবা বর্জনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে জনগণ। সুতরাং, প্রতিটি দলের অংশগ্রহণে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে সবার আগে নির্বাচন কমিশনকে প্রস্তুত রাখতে হবে।
তারেক রহমান বলেন, বিএনপি জনগণের কাছে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, আগামী জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি জনরায়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে গণহত্যাকারী-মানবতাবিরোধী সকল অপরাধীকে বিচারের মুখোমুখি করবে।
মির্জা ফখরুল ॥ স্বাগত বক্তব্যে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে নির্বাচন নিয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা পাচ্ছি না। কিন্তু দেশের মানুষ অনেক আশা-ভরসা নিয়ে আছেন ৫ আগস্ট পরিবর্তনের পর, ফ্যাসিস্ট হাসিনা দেশ থেকে পলায়নের পরে দেশের অবস্থার পরিবর্তন হবে।
অতিদ্রুত দেশের জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেওয়া হবে, তারা ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন এবং তাদের জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করতে পারবেন। কিন্তু আমরা দুঃখের সঙ্গে দেখছি, সে লক্ষ্যে আমরা সুস্পষ্ট নির্দেশনা পাচ্ছি না।
ফখরুল বলেন, আপনারা দেখেছেন, বিএনপিকে গণতন্ত্রের জন্য, জনগণের অধিকার আদায়ের জন্য কী পরিমাণ ত্যাগের মধ্যদিয়ে সংগ্রাম করতে হয়েছে। এরই মধ্যে দেশের অর্থনীতির অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে, আইনশৃখলা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে।
ক্রমান্বয়ে শিক্ষাঙ্গনগুলো বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার পরিবেশ থাকছে না। তিনি অভিযোগ করেন, অবিভক্ত বাংলায় যেসব বরেণ্য, বিজ্ঞানী, সাহিত্যিক, বিশেষ করে যাদের পূর্ববাংলার ভূখ-ে জন্ম হয়েছিল, তাদের নামগুলো বাদ দিয়ে এখন কোনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের নামকরণ করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
ফখরুল বলেন, আমরা ফ্যাসিবাদকে তাড়িয়েছি, শেখ হাসিনাকে তাড়িয়েছি। দেশের জনগণের যে আশা-আকাক্সক্ষা আমাদের দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের যে স্বপ্ন একটি আধুনিক-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ রূপান্তরিত করার, আমরা এখন সেই অপেক্ষায় আছি। সেই গণতন্ত্রকে বিঘিœত করার জন্য, বাধাগ্রস্ত করার জন্য একটি মহল বিভিন্নভাবে চক্রান্ত করার চেষ্টা করছে। বাইরে থেকেও চেষ্টা করা হচ্ছে। দেশের অভ্যন্তর থেকেও কিছু কিছু গোষ্ঠী ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে।
পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে বর্ধিত সভা শুরু হয়। কুরআন তেলাওয়াত করেন ওলামা দলের সভাপতি মাওলানা কাজী মো. সেলিম রেজা। সভায় শোক প্রস্তাব পাঠ করতে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও বর্ধিত সভা প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেন, ফ্যাসিবাদ আওয়ামী লীগের পতনের পর কিছুটা হলেও মুক্তি এবং স্বস্তির পরিবেশ বিরাজ করছে। যারা এই ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে শেখ হাসিনার বর্বরোচিত শাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ জানিয়েছিল তাদের অনেকেই আমাদের কাছ থেকে হারিয়ে গেছে। এখনো তাদের কোনো হদিস মেলেনি।
বর্ধিত সভা মঞ্চে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সালাহউদ্দিন আহমেদ, বেগম সেলিমা রহমান ও মেজর (অব) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।
মঞ্চের সামনে উপস্থিত ছিলেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা, নির্বাহী কমিটির সকল কর্মকর্তা ও সদস্য, সকল মহানগর, জেলা, থানা-উপজেলা ও পৌর কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক অথবা আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবগণ। এর বাইরেও বিএনপির ১১টি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক অথবা আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবরা উপস্থিত ছিলেন। সব মিলিয়ে প্রায় ৪ হাজার প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।