ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১৫ ফাল্গুন ১৪৩১

সংবিধান নিয়ে ভিত্তিহীন প্রস্তাব গ্রহণ করা যাবে না: ডা. ফওজিয়া

প্রকাশিত: ২৩:০২, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫

সংবিধান নিয়ে ভিত্তিহীন প্রস্তাব গ্রহণ করা যাবে না: ডা. ফওজিয়া

ডা. ফওজিয়া

সংবিধান সংশোধনের নামে অবাস্তব ও ভিত্তিহীন প্রস্তাব কখনোই গ্রহণ করা হবে না বলে মন্তব্য করেছেন ডা. ফওজিয়া। তিনি বলেন, "আজ যারা সংবিধান নিয়ে অবাস্তব এবং পিছিয়ে যাওয়ার মতো প্রস্তাব দিচ্ছেন, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া সম্ভব নয়।"

তিনি আরও বলেন, "আপনারা যে সুপারিশ দিয়েছেন, সেখানে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, ২৫ বছরের রাজনৈতিক সংগ্রাম, নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধ, ৩০ লাখ শহীদের আত্মদানের কথা। তবে আমি মনে করি, মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের আত্মত্যাগ রয়েছে। শুধু কয়েক লক্ষ মা-বোন নয়, বরং পুরো জাতি এতে অংশ নিয়েছে। কিন্তু যেসব মা-বোন যুদ্ধকালীন সময়ে সহিংস যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছেন, সেটাকে ‘নারীর আত্মত্যাগ’ বলে ছোট করা উচিত নয়। এটি ছিল যুদ্ধাপরাধীদের বর্বরতা, যা আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ।”

ডা. ফওজিয়া নারীদের অবদানের যথাযথ স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, "যুদ্ধকালীন সময়ের নির্যাতিত নারীদের ভূমিকা ও বেদনা সঠিকভাবে স্বীকার না করলে, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও নারীর অবদানকেও ছোট করা হবে। তাই আমি অনুরোধ করব, এ বিষয়টিকে যথাযথ গুরুত্বসহকারে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা হোক।"

তিনি আইন বিশেষজ্ঞদের উদ্দেশ্যে বলেন, "আপনারা যখন সংবিধান সংস্কারের প্রস্তাব দিচ্ছেন, সেখানে নারীর বিষয়টি প্রায় অনুপস্থিত। এটা আমাদের দুর্ভাগ্য যে, নারীদের নিয়ে সিদ্ধান্ত হয়, কিন্তু তাদের কথা কেউ তোলে না। সংবিধান সংশোধন করতে হলে অবশ্যই নারী-পুরুষ উভয়ের অধিকার ও প্রয়োজনীয় সংস্কারের বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে হবে।”

সংবিধানের মূল কাঠামো রক্ষা করার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, "১৯৭২ সালের সংবিধান যে চারটি মূলনীতি—জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা—এর ভিত্তিতে গঠিত হয়েছিল, সেগুলো অক্ষুণ্ণ রাখতে হবে। কোনোভাবেই ধর্মনিরপেক্ষতার নীতি থেকে সরে আসা যাবে না। রাষ্ট্রধর্মের ধারণা সংবিধানে থাকা উচিত নয়, বরং ১৯৭২ সালের মূল সংবিধানের আদলেই সংবিধান পুনর্গঠন করা দরকার।”

তিনি আরও বলেন, "যদি সংবিধানের কোনো অংশ বাস্তব প্রয়োগে বাধা হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে তা সংশোধন করা যেতে পারে। তবে সংবিধানের মূলনীতি পরিবর্তন করে নয়। আমাদের সংবিধান লঙ্ঘিত হয়েছে, তবে এর সমাধান সংবিধান বাতিল করা নয়, বরং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা।"

সংবিধান সংশোধনের নামে অবাস্তব প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, "সংবিধানের মূল চেতনা রক্ষা করেই যে কোনো পরিবর্তন আনতে হবে। সংবিধান আমাদের জাতীয় সত্তার প্রতিফলন, একে নষ্ট করা যাবে না।”

সূত্রঃ https://www.youtube.com/watch?v=5gKL_Sxq-0I

রাজু

×