
তারেক রহমান সংসদ নির্বাচনের দিকনির্দেশনা দেবেন
আজ বৃহস্পতিবার বিএনপির বর্ধিত সভা। সকাল ১০টা থেকে জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হল প্রাঙ্গণে বসবে চার হাজার নেতার মিলনমেলা। চলবে রাত পর্যন্ত। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতিই হবে এ অনুষ্ঠানের মূল ফোকাস। নির্বাচন সামনে রেখে লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি সার্বক্ষণিক সংযুক্ত থেকে সর্বস্তরের নেতাদের দিকনির্দেশনা দেবেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াও কিছু সময় ভার্চুয়ালি সংযুক্ত থাকতে পারেন এবং শারীরিক অবস্থা অনুকূলে থাকলে বক্তব্যও রাখতে পারেন।
সূত্র জানায়, বিএনপির বর্ধিত সভায় দলীয় হাইকমান্ডের পক্ষ থেকে সারাদেশের সর্বস্তর থেকে আগত নেতাদের নিজ নিজ এলাকায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে সোচ্চার থাকার নির্দেশ দেবেন দলীয় হাইকমান্ড। যখনই নির্বাচন হবে, দল থেকে যাকে প্রার্থী করা হবে তার পক্ষে ঝাঁপিয়ে পড়ার নির্দেশ দেওয়া হবে।
সেই সঙ্গে নিজ নিজ এলাকায় সকল নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ঐক্যবদ্ধ থেকে কেন্দ্র থেকে যখন যে কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়, তা সফল করতে বলা হবে। এ ছাড়া কোনোভাবেই যাতে দলের কোনো নেতাকর্মী কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা সহিংসতায় না জড়ান, সে নির্দেশনাও দেওয়া হবে বলে সূত্র জানায়।
সূত্রমতে, শীঘ্রই বিএনপির পক্ষ থেকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন-তারিখ ঘোষণা করতে অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর কঠোর চাপ প্রয়োগ করা হবে। আর কোনো অবস্থায়ই জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন মেনে নেবে না দলটি। আর এ জন্যই বিএনপির বর্ধিত সভায় সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের কেন্দ্রের নির্দেশ মেনে কর্মসূচি পালনে, বিশেষ করে দলের কেউ যেন বিচ্ছিন্নভাবে কোনো কর্মসূচি পালন না করেন সে বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হবে। আর যে কোনো পরিস্থিতিতে কোনো অবস্থায়ই যেন বিএনপির কেউ অন্য দলের বা মতের কারও ফাঁদে পা না দেন সে বিষয়ে সাবধান থাকতে বলা হবে।
এদিকে দীর্ঘ ৯ বছর বিএনপির জাতীয় কাউন্সিল না হওয়ায় এবং মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি দিয়ে দল পরিচালিত হওয়ায় দলের একটি বড় অংশের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। তাই আজকের বর্ধিত সভায় দলের তৃণমূল পর্যায়ের বেশ কয়েকজন নেতা তাদের ক্ষোভের বহির্প্রকাশ ঘটাবেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়। বিশেষ করে সঠিক সময়ে জাতীয় কাউন্সিল না হওয়ায় যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও যারা নির্বাহী কমিটিতে স্থান পাননি, তারা তাদের ক্ষোভের বিষয়টি তুলে ধরবেন বলে জানা যায়।
বর্ধিত সভা আয়োজনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অংশ নেওয়া প্রায় চার হাজার প্রতিনিধির মধ্যে শতাধিক নেতাকে প্রাণ খুলে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হবে। প্রত্যেক জেলা থেকে কমপক্ষে একজন নেতার পাশাপাশি বিভিন্ন উপজেলা, থানা ও পৌরসভা পর্যায়ের নেতারাও বক্তব্য রাখার সুযোগ পাবেন।
আয়োজক কমিটির নেতারা জানিয়েছেন, সকাল ১০টা থেকে বিএনপির বর্ধিত সভা শুরু হয়ে চলবে রাত পর্যন্ত। এজন্য সারাদেশ থেকে আগত সকল প্রতিনিধির জন্য সকালের নাস্তা, দুপুরের খাবার ও সন্ধ্যায় নাস্তার ব্যবস্থা করা হবে। নামাজ ও দুপুরের খাবারের সময় কিছু সময়ের জন্য বিরতি দিয়ে সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত বর্ধিত সভা চলতে পারে ধরে সেভাবেই সার্বিক প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।
জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হল প্রাঙ্গণের মাঠে অনুষ্ঠিত বর্ধিত সভা প্যান্ডেলে প্রবেশ করতে সকল প্রতিনিধিকে বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে সরবরাহকৃত পরিচয়পত্র প্রদর্শন করতে হবে। পরিচয়পত্র ছাড়া কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন।
জানা যায়, বিএনপির বর্ধিত সভায় জাতীয় সংসদ নির্বাচন ছাড়াও আরও কয়েকটি বিষয় প্রাধান্য পাচ্ছে। সেগুলো হচ্ছে- আওয়ামী লীগের পতনের কারণ, জামায়াতের রাজনীতি, বাংলাদেশ নিয়ে ভারতের অবস্থান, বাংলাদেশ সম্পর্কে অন্যান্য প্রভাবশালী দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর দৃষ্টিভঙ্গি, দলের কেন্দ্রীয় কমিটি পুনর্গঠন, ৩১ দফা সংস্কার, নেতাকর্মীদের সকল মামলা প্রত্যাহারে করণীয় ও অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ দীর্ঘায়িত হলে রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণ।
এ ছাড়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের নতুন রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও ভূ-রাজনীতিসহ বিভিন্ন বিষয় আলোচনায় স্থান পাবে বলে জানা যায়। এসব ইস্যুতে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাদের বক্তব্য গুরুত্বসহ বিবেচনা করা হবে। এ ছাড়া বর্ধিত সভায় নেতাদের বক্তব্য থেকে গুরত্বপূর্ণ যেসব পয়েন্ট উঠে আসবে, সেগুলো লিখে রাখার ব্যবস্থা করা হবে এবং দলের পরবর্তী স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ পয়েন্টগুলো মূল্যায়ণ করে ভবিষ্যত করণীয় ঠিক করা হবে।
২০১৬ সালের ১৯ মার্চ রাজধানীতে জাঁকজমকভাবে বিএনপির জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। এর পর গঠন করা হয় দলের ৫৯২ সদস্যের জাতীয় নির্বাহী কমিটি। তাই জাতীয় কাউন্সিল করার লক্ষ্যে নতুন উদ্যমে এ বছর জানুয়ারি মাস থেকে সারাদেশের সকল জেলা-উপজেলাসহ সর্বস্তরে কমিটি পুনর্গঠনের কাজ শুরু করে বিএনপি। ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে সকল ইউনিট কমিটি গঠনের কাজ শেষ করতে বিএনপির উচ্চপর্যায় থেকে জানানোও হয়েছিল।
এও বলা হয়েছিল, সর্বস্তরে দল পুনর্গঠনের কাজ শেষ করে জাতীয় কাউন্সিল করা হবে। তাই দলের বেশিরভাগ নেতাকর্মী মনে করেছিল, শীঘ্রই বিএনপির জাতীয় কাউন্সিল হবে এবং নতুন নির্বাহী কমিটি গঠন করা হবে। কিন্তু জাতীয় কাউন্সিল না করে আজ জাঁকজমকভাবে করা হচ্ছে দলের বর্ধিত সভা।
আজকের বর্ধিত সভার কারণে সহসাই যে বিএনপির জাতীয় কাউন্সিল হচ্ছে না, এটা প্রায় নিশ্চিত বলে অভিজ্ঞ মহল মনে করছে। কারণ, বিএনপির গঠনতন্ত্রের ১১(চ) অনুচ্ছেদ অনুসারে- যে বছর জাতীয় কাউন্সিল হবে, সে বছর ব্যতীত প্রতিবছর অন্তত একবার জাতীয় নির্বাহী কমিটির বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হবে। দলের গঠনতন্ত্রের এ অনুচ্ছেদ থেকে সহজেই অনুমেয়, যেহেতু আজ বর্ধিত সভা হচ্ছে সেহেতু এ যাত্রায় বিএনপির জাতীয় কাউন্সিল হচ্ছে না।
বিএনপির বর্ধিত সভা সফল করতে আগেই দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভীকে আহ্বায়ক করে ২৭ সদস্যের বর্ধিত সভা বাস্তবায়ন কমিটি এবং ছয়টি উপকমিটি গঠন করা হয়। এ কমিটি গঠনের পর থেকে বর্ধিত সভা সফল করতে প্রস্তুতি জোরদার করা হয়। এই কমিটি প্রতিদিনই সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বৈঠক করেছে।
রুহুল কবীর রিজভীর নেতৃত্বাধীন বিএনপির বর্ধিত সভা বাস্তবায়ন কমিটির সদস্যরা হলেন খায়রুল কবির খোকন, হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, শহীদ উদ্দীন চৌধুরী অ্যানি, আব্দুস সালাম আজাদ, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, রশিদুজ্জামান মিল্লাত, ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, কাজী ছাইয়েদুল আলম বাবুল, মাহবুবের রহমান শামীম, সৈয়দ শাহীন শওকত, আসাদুল হাবিব দুলু, জি কে গউছ, অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া, শরিফুল আলম, শামা ওবায়েদ, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন অসীম, আজিজুল বারী হেলাল, এবিএম মোশাররফ হোসেন, রকিবুল ইসলাম বকুল, মীর শরাফত আলী সপু, প্রফেসর ড. মোর্শেদ হাসান খান, ডা. রফিকুল ইসলাম, রফিকুল আলম মজনু ও আমিনুল হক।
আর ছয়টি উপকমিটির মধ্যে শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানীকে আহ্বায়ক করে ব্যবস্থাপনা উপকমিটি; হাবিব-উন-নবী খান সোহেলকে আহ্বায়ক ও মো. আবদুস সাত্তার পাটোয়ারীকে সদস্য করে অভ্যর্থনা উপকমিটি; এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতকে আহ্বায়ক করে আপ্যায়ন উপকমিটি; সুলতান সালাউদ্দিন টুকুকে আহ্বায়ক করে শৃংখলা উপকমিটি; ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেলকে আহ্বায়ক করে মিডিয়া উপকমিটি এবং ডা. রফিকুল ইসলামকে আহ্বায়ক করে করা হয় চিকিৎসাসেবা উপকমিটি। এই কমিটিগুলোও বর্ধিত সভা সফল করতে নিরলসভাবে কাজ করেছে।
বর্ধিত সভা বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর জানান, যেকোনো আন্দোলনের শেষে, নির্বাচনের শেষে অথবা প্রারম্ভে নেতাকর্মীরা কী ভাবছেন তাদের মতামত জানার জন্য বর্ধিত সভা করা হয়। বর্ধিত সভায় তৃণমূলের নেতাদের ভাবনা-চিন্তাগুলো জাতীয় নেতারা শুনবেন, অবহিত হবেন, এ কারণেই বর্ধিত সভা ডাকা হয়েছে। এ ছাড়া তৃণমূল নেতাদের উদ্দেশ্যেও দলের উচ্চ পর্যায় থেকে বর্ধিত সভায় জাতীয় সংসদ নির্বাচনসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রয়োজনীয় বার্তা দেওয়া হবে।
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব বর্ধিত সভা ব্যবস্থাপনা উপকমিটির আহ্বায়ক শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী বলেন, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান জাতীয় সংসদ নির্বাচনসহ দলের প্রয়োজনে বিভিন্ন বিষয়ে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখবেন। দলের সর্বস্তরের নেতারা নিজ নিজ এলাকায় ফিরে তারেক রহমানের বার্তা অনুসারে কাজ করবেন।
বিএনপির বর্ধিত সভাকে কেন্দ্র করে সারাদেশের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। বর্ধিত সভায় অংশ নিতে সারাদেশ থেকে বুধবারই ঢাকায় এসেছেন সর্বস্তরের নেতারা। তাদের সঙ্গে সাধারণ নেতাকর্মীরাও ঢাকায় এসেছেন। তবে নির্ধারিত প্রতিনিধি ছাড়া অন্য নেতাকর্মীরা বর্ধিত সভা প্যান্ডেলে প্রবেশ করতে না পারলেও আশপাশে অবস্থান নিয়ে বর্ধিত সভায় অংশ নেওয়া নেতাদের উৎসাহ দেবেন বলে জানা যায়।
সূত্র মতে, সহসা বিএনপির জাতীয় কাউন্সিল হচ্ছে না, বিধায় বর্ধিত সভায় নতুন নির্বাহী কমিটি গঠনের অনুমোদন নেওয়া হতে পারে। সে মোতাবেক নবীন-প্রবীনের সমন্বয়ে বিএনপির নতুন নির্বাহী কমিটি গঠন অথবা বর্তমান কমিটিতে শূন্য পদগুলো পূরণ করে কমিটি পুনর্গঠন করা হতে পারে। আর এ বিষয়টি আঁচ করতে পেরে নির্বাহী কমিটির পদ প্রত্যাশী নেতারা দলের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে আগে থেকেই যোগাযোগ বৃদ্ধি করেছেন। এ ছাড়া বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের গুডবুকে থাকা নেতাদের কাছে বিরামহীন দৌড়ঝাঁপ করেছেন তারা। আবার দলীয় হাইকমান্ডও বিভিন্ন মাধ্যমে খোঁজখবর রাখছেন কারা দলের জন্য নিবেদিতপ্রাণ।
প্রসঙ্গত, নব্বয়ের দশকে সর্বশেষ বর্ধিত সভা, ২০১৬ সালে জাতীয় কাউন্সিল ও ২০১৮ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি বিএনপির সর্বশেষ নির্বাহী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। রাজধানীর এয়ারপোর্ট সংলগ্ন পাঁচ তারকা হোটেল লা মেরিডিয়ানে অনুষ্ঠিত ওই নির্বাহী কমিটির সভায় সভাপতির বক্তব্যে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দলের নেতাদের উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রেখেছিলেন। এর পাঁচদিন পর ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি তিনি কারাবন্দি হন। এর পর বিএনপির সকল নেতাদের নিয়ে দলীয় বড় কোনো সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়নি।
চিকিৎসার জন্য বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এখন লন্ডনে অবস্থান করছেন। গত ৮ জানুয়ারি তিনি লন্ডনে গিয়ে লন্ডন ক্লিনিকে ভর্তি হন। ১৭ দিন লন্ডন ক্লিনিকে চিকিৎসার পর তিনি ছেলের বাসায় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অবস্থান করছেন। তাঁর বড় ছেলে ও দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও দীর্ঘদিন ধরে সপরিবারে লন্ডনে অবস্থান করছেন। তবে তারা দু’জনই বিএনপির বর্ধিত সভায় ভার্চুয়ালি সংযুক্ত থাকবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছেন।
বিএনপি কার্যালয় সূত্র জানায়, দলের জাতীয় কাউন্সিল হলে যাঁরা উপস্থিত থাকেন তাঁদের প্রায় সবাইকে বর্ধিত সভায় আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। সব মিলিয়ে চার হাজারের মতো প্রতিনিধি বর্ধিত সভায় অংশ নেবেন। এর মধ্যে থাকবেন স্থায়ী কমিটির সকল সদস্য, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সকল সদস্য ও বিএনপি চেয়ারপারসনের সকল উপদেষ্টা। এ ছাড়া থাকবেন সকল মহানগর ও জেলা কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক অথবা আহ্বায়ক ও সদস্যসচিব।
থাকবেন সকল থানা, উপজেলা ও পৌরসভা কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক অথবা আহ্বায়ক ও সদস্যসচিব। থাকবেন বিএনপির ১১টি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা। এছাড়া দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য এবং সর্বশেষ ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যারা বিএনপির প্রার্থী ছিলেন তারাও বর্ধিত সভায় অংশ নেবেন।
দলের জাতীয় কাউন্সিল হলে মোট কাউন্সিলরের শতকরা ১০ ভাগ বিএনপি চেয়ারপারসন গঠনতান্ত্রিক ক্ষমতাবলে বাড়িয়ে নিতে পারেন। এবারের বর্ধিত সভায়ও বিএনপি চেয়ারপারসন মনে করলে আরও ১০ ভাগ দলীয় নেতাকে ডেলিগেট বানিয়ে সভায় উপস্থিত থাকার সুযোগ দিতে পারবেন। দলের গঠনতন্ত্রে চেয়ারপারসনকে এমন ক্ষমতা দেওয়া আছে।
বর্ধিত সভায় ভার্চুয়ালি সংযুক্ত থেকে সভাপতিত্ব করবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি উদ্বোধনী ও সমাপনী পর্বে বক্তব্য রাখবেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের শুরুতে ‘প্রথম বাংলাদেশ আমাদের শেষ বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শন করা হবে।
এই প্রামান্যচিত্র তৈরি করেছে ‘বর্ধিত সভা বাস্তবায়ন মিডিয়া উপ-কমিটি’। এ ছাড়া বর্ধিত সভা উপলক্ষে আমরা বিএনপি পরিবার ‘আস্থা’ নামে একটি ম্যাগাজিন প্রকাশ করেছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর হবে রুদ্ধদ্বার কর্ম অধিবেশন।