ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩১

বিশ্বের উন্নত দেশের ন্যায় আমাদের দেশে ফেয়ার সিস্টেমে নির্বাচন হতে পারে: ডা. শফিকুর রহমান

স্টাফ রিপোর্টার, নীলফামারী

প্রকাশিত: ২১:৫৯, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫; আপডেট: ২২:০০, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫

বিশ্বের উন্নত দেশের ন্যায় আমাদের দেশে ফেয়ার সিস্টেমে নির্বাচন হতে পারে: ডা. শফিকুর রহমান

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বিশ্বের ৬২টি উন্নত দেশে ফেয়ার সিস্টেমে নির্বাচন হয়। আমাদের দেশে সেই ফেয়ার সিস্টেমে নির্বাচন হতে পারে। এতে যদি কেউ মন খারাপ করেন, বুঝতে হবে তাদের মতলব সুবিধাজনক নয়। আমরা আশা করি যুক্তিসঙ্গত এই দাবি তারা মেনে নেবে।

আজ বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নীলফামারীর ডোমার উপজেলায় জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন তিনি। উপজেলা পরিষদ মাঠে অনুষ্ঠিত পথসভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা জামায়াতের আমীর খন্দকার মোঃ আহমাদুল হক মানিক।

জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যাপক আন্তাজুল ইসলামের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম, রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলের টিম সদস্য আব্দুর রশীদ ও জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যক্ষ আব্দুস সাত্তার বক্তব্য দেন।

জামায়াতের আমির আরও বলেন, বিভিন্ন আসনে যখন নমিনেশন দেয়া হয় তখন পেশিশক্তি আর কালো টাকার বলে ভোটকে প্রভাবিত করে অযোগ্য সন্ত্রাসীরা। অনেক টাকায় তারা নির্বাচিত হয়ে আসে। তিনি বলেন, যেই দল কাস্ট হওয়া ভোটের যত পার্সেন্ট পাবে সেই দল সংসদে একটা সিট পাবে। এতে কিছু ছোট দল আছে তাদেরকে কারো করুণার পাত্র হতে হবে না। তারা যেটুকু পায় সেটুকু নিয়েই তারা সংসদে কথা বলতে পারে। তার হয়তো এত সমর্থন নেই। কিন্তু সেই দলে দেশকে দেওয়ার জন্য মগজ এবং মাথা থাকতে পারে। আমরা চাই তারা সংসদে গিয়ে কথা বলুক। ফেয়ার সিস্টেম না হলে দেখা যাচ্ছে একজন পেয়েছে একচল্লিশ পার্সেন্ট, আরেকজন পেয়েছে ৪০ পার্সেন্ট ভোট। ৪১ পার্সেন্ট পেয়ে ২১৮ আসন আর ৪০ পার্সেন্ট পেয়ে মাত্র ৮৭ আসন। আর এই ২১৮ আসন পাওয়ার পরে প্রত্যেকেই স্বৈরাচার, বেপরোয়া হয়ে ওঠে। তখন আর মানুষকে মানুষ মনে করে না। তারা জনগনের সেবক মনে করে না। তখন দেশের মালিক হয়ে বসে। এই জন্য আমরা বলেছি বিশ্বের ৬২ টি উন্নত দেশে এই ফেয়ার সিস্টেমে নির্বাচন হয়। আমাদের দেশে সেই ফেয়ার সিস্টেমে নির্বাচন হতে হবে। এতে যদি কেউ মন খারাপ করেন, বুঝতে হবে তাদের মতলব সুবিধাজনক নয়। আমরা আশা করি যুক্তিসঙ্গত এই দাবি তারা মেনে নেবে। বিভিন্ন আসনে যখন নমিনেশন দেয়া হয় তখন পেশিশক্তি আর কালোটাকার বলে ভোটকে প্রভাবিত করে অযোগ্য সন্ত্রাসীরা। অনেক টাকায় তারা নির্বাচিত হয়ে আসে।

নির্বাচনে পেশিশক্তি ও কালো টাকার কথায় তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন আসনে যখন মনোনয়ন দেওয়া হয় তখন পেশিশক্তি আর কালো টাকার বলে ভোটকে প্রভাবিত করে অযোগ্য সন্ত্রাসীরা অনেক টাকায় তারা নির্বাচিত হয়ে আসে। সংসদের ভিতরে গিয়েছেন মহিলা, মাদেরকে আমি সন্মান করি, কারণ মায়েরা আমাদেরকে তাদের ভোটটা দান করেছেন। কিন্তু একজন মহিলা গিয়েছেন তিনি কিছুই পড়তে পারেন না, বলতে পারেন না। তার মেয়ে এক পৃষ্ঠা কাগজ লিখে দিয়ে বলেছে আম্মা তুমি এইটা বলিও- এইটা বলিও, এইটা বললে হবে। তিনি দাঁড়িয়ে কাঁপতেছে, ১৭ মিনিটে এক পৃষ্ঠা পড়েছেন, এক পৃষ্ঠার মধ্যে ২৮টা ভুল পড়েছেন’। একজন সংসদ সদস্যের কাজ হচ্ছে তিনি দেশের আইন রচনা করবেন। এখন বলেন এইরকম লোকেরা যদি সংসদ সদস্য হন, তারা কি দেশের ভালো আইন তৈরী করার যোগ্যতা রাখে। রাখে না বলেই তো আমরা কালো আইনের কবলে পড়ে আমরা শেষ হয়ে যাচ্ছি’।
আমির বলেন, ‘ইউনিয়ন পরিষদগুলো আওয়ামী লীগের ছিল। জোর করে ভাই-ভাতিজা, শালা-সমন্ধী মিলে তারা দখল করেছে। এরা এখন পালিয়ে গেছে। মেম্বাররা পালিয়ে গেছে, চেয়ারম্যান নাই, মেম্বার নাই মানুষ যাবে কেন। প্রশাসক, এতগুলো মানুষের দায়িত্ব প্রশাসক নিবে ? যাদেরকে জনগণ নিজেদের প্রতিনিধি মনে করে না। পৌরসভা ভেঙ্গে দেওয়া হয়েছে সেখানে কোন জনপ্রতিনিধি নেই। সিটি কপ্যোরেশন ভেঙ্গে দেওয়া হয়েছে সেখানে কোন জনপ্রতিনিধি নেই। জেলা পরিষদ ভেঙে দেওয়া হয়েছে, উপজেলা পরিষদ ভেঙে দেওয়া হয়েছে সেখানে কোন জনপ্রতিনিধি নেই। প্রতিদিন মানুষের জনদুর্ভোগ হচ্ছে। আমাদের রাজনীতি জনগণের দুর্ভোগ বাড়ানোর জন্য নয়, আমাদের রাজনীতি দুর্ভোগ কমানোর জন্য’।

বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অতিসম্প্রতি পরিকল্পিতভাবে ষড়যন্ত্র করে অবনতি ঘটানো হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই অবস্থায় যদি বাংলাদেশে কোন নির্বাচন হয়, আমাকে সাংবাদিক বন্ধুরা বলেছিলেন আপনি কি মনে করেন ? আমি বলেছিলাম 
ইট উইয়িল বি দ্যা জেনসাইড অব ইলেকশন'। 

একটা ইলেকশন দেশকে একদম খতম করে দিবে। চরম বিশৃঙ্খলা হবে, রক্তের বন্যায় বাংলাদেশ ভেসে যাবে। আমরা এইটা চাই না, আমরা চাই সকল ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সংস্কার সাধন করে, দেশে আইনশৃ্খংলা ফিরিয়ে এনে জনগণকে স্বস্তির সাথে তার ভোট প্রয়োগের সুযোগ তৈরী করে দিতে হবে। গত সাড়ে ১৫ বছরে যারা নতুন ভোটার হয়েছে তাদেকে প্রত্যেককে ভোটার লিস্টে অর্ন্তভুক্ত করতে হবে। আওয়ামী লীগ যে পৌনে দুইকোটি ফলস ভোটার তৈরী করে গেছিল এদেরকে কেটে সাফ করতে হবে। যারা দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছে, তাদেরকে বাদ দিতে হবে। এবারকার এই আন্দোলনে প্রবাসী বাংলাদেশিরা সারা দুনিয়ায় আমাদের সঙ্গে আন্দোলন করেছে তাদের প্রত্যেকের ভোট নিশ্চিৎ করতে হবে। এ কাজগুলো করেই একটা সুষ্ঠু নির্বাচনে ফিরে যেতে হবে। তবে দৈনন্দিন জীবনে মানুষকে কিছু আইনগত কিছু প্রশাসনিক সহায়তা দিতে হবে।

আবীর

×