ঢাকা, বাংলাদেশ   বুধবার ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩১

স্বৈরাচারী হাসিনা চোখ বন্ধ করেন কিন্তু ঘুম আসে না

প্রকাশিত: ১৭:১৯, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫

স্বৈরাচারী হাসিনা চোখ বন্ধ করেন কিন্তু ঘুম আসে না

ছবি: সংগৃহীত

দিল্লির দুপুর, বাইরের গরম বাতাসও যেন ঘরের ভেতরে ঢুকে পড়েছে। ভারী পর্দা টানা একটি রুম। ঘরের কোণে বসে আছেন স্বৈরাচার শেখ হাসিনা। সামনে ধোঁয়া ওঠা চায়ের কাপ, তার চেহারায় কোন অনুশোচনা নেই; বরং চোখে-মুখে এক অদ্ভুত আত্মবিশ্বাসের আভা।

বিপরীত দিকে সোফায় বসে থাকা ব্যক্তি সন্তুষ্ট চোখে তাকিয়ে আছেন হাসিনার দিকে। এই ব্যক্তি ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল। ভারতীয় হিন্দুত্ববাদীদের কাছে তিনি দেবতা, প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছে ষড়যন্ত্রের মাস্টারমাইন্ড। মোদির ডান হাত দোভালের চোখে-মুখে তৃপ্তির ছাপ। সবকিছু পরিকল্পনা মাফিক এগোচ্ছে। শেখ হাসিনা হাল ছাড়েননি বরং এখনো তার নেতিবাচক চাল চালছেন।

তবে প্রশ্ন একটাই, কিভাবে এতটা দৃঢ় আর নির্লিপ্ত আছেন হাসিনা। জবাবটা জানেন অজিত দোভাল। সবটাই তাদের পরিকল্পনার ফল।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে শেখ হাসিনার এই আত্মবিশ্বাসের পেছনে তিনটি বড় কারণ রয়েছে। এক, মোদি সরকারের সরাসরি সহযোগিতায় শেখ হাসিনাকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দিচ্ছে ভারত। ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির শীর্ষ মহল এবং রাজনৈতিক উপদেষ্টা অজিত দোভাল নিয়মিত তার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। মোদি সরকারের একটি অংশ মনে করে শেখ হাসিনা ভারতের জন্য পরীক্ষিত বন্ধু। তাই তাকে পুনরায় ক্ষমতায় আনার পরিকল্পনা এখনো টেবিলে আছে। দুই, মানসিক প্রস্তুতি ও ট্রেনিং। শেখ হাসিনাকে এমন ভাবে বোঝানো হচ্ছে যেন কিছুই হয়নি। যেন তিনি এখনো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। ভারতে তাকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের সঙ্গে বসিয়ে ট্রেনিং দেওয়া হচ্ছে যাতে আত্মবিশ্বাস ধরে রাখতে পারেন। তিন, গোপন রাজনৈতিক সমর্থন। দিল্লির ভেতরেও একটি অংশ মনে করে শেখ হাসিনা তাদের জন্য এখনো দরকারি। তারা চান বাংলাদেশে ক্ষমতার পালাবদলের ক্ষেত্রে তিনি কোনো না কোনোভাবে নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখুন। তাই কৌশলগতভাবেও তাকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে একদল প্রভাবশালী নেতা ও নীতি-নির্ধারক। এত কিছুর পরেও বাস্তবতা ভিন্ন কথা বলছে। বাংলাদেশের জনগণ কি তাকে ফিরে আসতে দেবে?

ভারত বহুবার বাংলাদেশে তাদের কৌশলগত প্রভাব বজায় রাখার জন্য নির্দিষ্ট কিছু নেতাকে সমর্থন দিয়েছে। শেখ হাসিনা ছিলেন তাদের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য কান্ডারী। কিন্তু এখন পরিস্থিতি বদলেছে। বাংলাদেশের জনগণ ইতোমধ্যেই তার প্রতি নিজেদের মতামত জানিয়ে দিয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন ভারতের উচিত হাসিনাকে নিয়ে নতুন করে ভাবা। যদি তারা আবারও ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করে তাহলে সেটি হবে বিশাল এক ভুল। কারণ বাংলাদেশের জনগণ এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি রাজনৈতিকভাবে সচেতন। ভারতীয় প্রভাবের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের তরুণ সমাজ অনেক বেশি সরব। শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে আওয়ামী লীগের ভেতরেই ভয়াবহ সংকট তৈরি হয়েছে।

শেখ হাসিনা চলে যাওয়ার পর আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ বিভাজন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এতদিন যারা হাসিনার প্রতি অন্ধ অনুগত্য দেখাতেন তারাই এখন দোটানায় পড়েছেন। দলের শীর্ষ নেতারা বিস্মিত। শেখ হাসিনা একবারও তাদের সতর্ক করেননি, কাউকে জানিয়ে যাননি। বড় নেতাদের অনেকে মনে করছেন শেখ হাসিনা তাদের একরকম ছেড়ে চলে গেছেন। দলের ভেতরে এখন অরাজক পরিস্থিতি। অনেকে তার কাছ থেকে নতুন দিক নির্দেশনা না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েছেন। একজন শীর্ষ নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে গণমাধ্যমে বলেছেন তিনি তো একবারও আমাদের কথা ভাবলেন না, অন্তত আমাদের সতর্ক করতে পারতেন।

এটাই বাস্তবতা শেখ হাসিনা কখনোই তার দলের নেতাদের নিরাপত্তা নিয়ে ভাবেননি। এতদিন শুধু নিজের ক্ষমতা ধরে রাখার চিন্তাতেই ব্যস্ত ছিলেন।

দিল্লির সন্ধ্যা নামে, জানালার পাশের সোফায় বসে আছেন শেখ হাসিনা। চোখে মুখে এখনো সেই চিরচেনা আত্মবিশ্বাস, যেন কিছুই হয়নি। চায়ের কাপটা টেবিলে রাখেন, আঙ্গুলে আলতো করে ছোঁয়ান। কিন্তু বাস্তবতা কি.৮০ বছর পেরিয়ে যাবে অথচ তার মাথা থেকে এখনো এসব বুদ্ধি যাওয়ার নাম নেই। এখনো তার একমাত্র লক্ষ্য দেশকে অস্থিতিশীল করা। নিজের দলীয় নেতাদের নিরাপত্তার কথা একবারও ভাবেননি, দেশের কথা ভাবেননি। শুধু নিজের ক্ষমতা ধরে রাখার চিন্তা করেছেন। এমন স্বার্থপর নির্লজ্জ নেতা বিশ্ব ইতিহাসে খুব কমই পাওয়া যায়।

বাংলাদেশ বদলে গেছে, মানুষ বদলে গেছে। জনগণ এখন আর সেই পুরনো ভুল করবে না। শেখ হাসিনার সময় শেষ। কিন্তু প্রশ্ন একটাই, তিনি কি এটা বুঝতে পারছেন? সময়ের অপেক্ষা ঘরের ভেতরে ধীর সুরে বাজতে থাকা ঘড়ির কাঁটা একবার কাঁপে। রাত ঘনিয়ে আসে। দিল্লির আকাশের তারাগুলো দূরে কোথাও হারিয়ে যায়। স্বৈরাচারী হাসিনা চোখ বন্ধ করেন কিন্তু ঘুম আসে না।

আবীর

×