
ছবি: সংগৃহীত
ঈদ মানেই আনন্দ, ঈদ মানেই প্রিয়জনের সান্নিধ্যে কাটানো কিছু সুখের মুহূর্ত। শহরের ব্যস্ত জীবনে কর্মব্যস্ত মানুষ ঈদ উপলক্ষে ছুটে যান নিজের গ্রামে, প্রিয়জনদের কাছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর পরিবারের সঙ্গে কাটানো এই সময় যে কতটা মূল্যবান, তা বলে বোঝানো কঠিন। কিন্তু ঈদের আনন্দ যেন বিষাদে পরিণত না হয়, সে বিষয়ে আমাদের সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। বিশেষ করে ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরার পথে নিরাপত্তার বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
প্রতি বছরই দেখা যায়, ঈদের পর কর্মস্থলে ফেরার পথে দুর্ঘটনার হার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যায়। অতিরিক্ত যাত্রীচাপ, গাড়ির ত্রুটি, চালকদের অসাবধানতা ও ট্রাফিক আইন না মানার কারণে বহু মানুষ দুর্ঘটনার শিকার হন। এই পরিস্থিতি এড়াতে আমাদের সবাইকে কিছু বিষয় মাথায় রাখা জরুরি।
যাত্রীদের করণীয়:
১. অতিরিক্ত ভিড় এড়িয়ে চলুন। বাস, ট্রেন বা লঞ্চের ছাদে ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে ভ্রমণ থেকে বিরত থাকুন।
২. যাত্রার আগে যানবাহনের টিকিট ও সিট নিশ্চিত করুন।
৩. যানবাহনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে সচেতন থাকুন এবং যাত্রার আগে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করুন।
৪. ধৈর্য ধরে ট্রাফিক আইন মেনে চলুন এবং অহেতুক তাড়াহুড়ো করবেন না।
৫. রাস্তা পারাপারের সময় সাবধানতা অবলম্বন করুন এবং জেব্রা ক্রসিং বা ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার করুন।
৬. যাত্রার সময় মোবাইল ফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন এবং চারপাশের পরিস্থিতির প্রতি সচেতন থাকুন।
চালক ও পরিবহন মালিকদের করণীয়:
১. অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই করা থেকে বিরত থাকুন।
২. গাড়ির ফিটনেস পরীক্ষা করুন এবং যানবাহনগুলোর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করুন।
৩. পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিয়ে গাড়ি চালান, ক্লান্ত অবস্থায় গাড়ি চালানো থেকে বিরত থাকুন।
৪. ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে মেনে চলুন এবং যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন।
৫. ওভারটেকিং এড়িয়ে চলুন এবং গতি সীমার মধ্যে গাড়ি চালান।
৬. দুর্ঘটনা এড়াতে গাড়ির ব্রেক, হেডলাইট ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ সঠিকভাবে পরীক্ষা করুন।
প্রশাসনের দায়িত্ব:
১. হাইওয়ে ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা জোরদার করা।
২. লঞ্চ ও ট্রেন টার্মিনালে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।
৩. অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও যানবাহনে অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাইয়ের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ।
৪. দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকাগুলোতে বিশেষ নজরদারি এবং জরুরি চিকিৎসা সহায়তা ব্যবস্থা রাখা।
৫. ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা এবং চালকদের যথাযথ প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা।
আমরা সবাই যদি নিজ নিজ দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করি, তবে ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরা হবে স্বস্তিদায়ক ও নিরাপদ। ঈদের আনন্দ যেন কোনোভাবেই শোকের কারণ না হয়—এটাই আমাদের সবার কাম্য।
লিখেছেন: নুসরাত জাহান জেরিন, শিক্ষার্থী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া আইন কলেজ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া।
রাকিব