ঢাকা, বাংলাদেশ   শনিবার ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ২২ চৈত্র ১৪৩১

নারীর অগ্রযাত্রা

প্রকাশিত: ২১:০৩, ৪ এপ্রিল ২০২৫

নারীর অগ্রযাত্রা

সম্পাদকীয়

নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশের অগ্রগতি সারা বিশ্বে প্রশংসিত। কর্মক্ষেত্রে নারীরা দক্ষতা প্রমাণ করছেন, কৃতিত্ব দেখাচ্ছেন, নেতৃত্বও দিচ্ছেন। বর্তমানে দেশের সিভিল প্রশাসনের শীর্ষ পদে সর্বোচ্চ সংখ্যক নারী কর্মকর্তা কাজ করছেন। সচিব ও জেলা প্রশাসক (ডিসি) পদে বর্তমানে নারী কর্মকর্তার সংখ্যা নতুন রেকর্ড তৈরি করেছে। বর্তমানে ১৩ জন সচিব/সিনিয়র সচিব রয়েছেন নারী। এসব পদে মোট কর্মকর্তা ৭৭ জন।

৬৪ জেলায় ডিসি পদের মধ্যে নারী কর্মকর্তা রয়েছেন ১৮ জন। প্রশাসনের এ দুটি নীতি-নির্ধারণী পদে বিগত সময়ের মধ্যে এটিই নারীর সর্বোচ্চ সংখ্যা বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টরা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রশাসনে নারীরা যোগ্যতার স্বাক্ষর রাখছেন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তারা পুরুষ কর্মকর্তার চেয়ে বেশি দায়িত্বশীল, কাজে আন্তরিক ও দক্ষ। 
সামাজিক ও অর্থনৈতিক সূচক তথা দেশের সার্বিক উন্নয়নেও নারীর ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। আশার কথা হলো, সামাজিক-সাংস্কৃতিক এমনকি মনস্তাত্ত্বিক ক্ষেত্রে নানা বৈষম্য থাকা সত্ত্বেও নারীরা দেশের অর্থনৈতিক কর্মকা-ে যথাসাধ্য ভূমিকা রেখে চলেছেন। ইতোমধ্যে এভারেস্টের চূড়ায় আরোহণ করেছেন নারী। গবেষণা, চিকিৎসা, শিক্ষা, আইন, প্রশাসন ও ক্রীড়াক্ষেত্রে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করছেন। দেশে তুলনামূলকভাবে অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় নারীর ক্ষমতায়ন যথেষ্ট বেড়েছে।

দেশের প্রায় সর্বত্র আজ নারীর গুরুত্ব স্বীকৃত। নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার জন্য জাতীয় সংবিধানের ২৮(২) অনুচ্ছেদেও বলা হয়েছে, রাষ্ট্র ও জনজীবনের সর্বত্র নারী-পুরুষ সমান অধিকার লাভ করবে। এরপরও দেশে এখনো অনেক ক্ষেত্রে নারীরা পিছিয়ে রয়েছেন। এখনো অনেক পরিবারে নারী তার মত প্রকাশের স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত। অনেকে নিজ পরিবারে কোনো না কোনোভাবে সহিংসতার শিকার।

অথচ ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ ও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে জীবনের ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও অধিকার আদায়ের সংগ্রামে অসংখ্য নারী বিভিন্নভাবে অংশ নিয়েছেন। যা  প্রমাণ করে, দেশের জন্য পুরুষের পাশাপাশি তাদের অবদানও সমান গৌরবের। 
বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম আলোচিত বিষয় নারীর ক্ষমতায়ন। সংশ্লিষ্টদের মতে, নারীর ক্ষমতায়ন মানে তাদের অধিকারের বৈষম্য নিরসন। সমাজ ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় নারী-পুরুষের বৈষম্য যে কোনো দেশের উন্নয়নের অন্তরায়। কাজেই বাংলাদেশের কাক্সিক্ষত উন্নয়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারী-পুরুষ উভয়ের সম্মিলিত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি।

এক্ষেত্রে শিক্ষার হার বাড়ানোর পাশাপাশি স্বাস্থ্য, প্রশিক্ষণ, মানসিক ও সাংস্কৃতিক বিকাশের মাধ্যমে নারীদের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলা আবশ্যক। পাশাপাশি রুখতে হবে নারীর প্রতি সকল ধরনের সহিংসতা। নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত আইনের সুষ্ঠু প্রয়োগ ও বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।

শিক্ষা ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক অঙ্গনসহ নানাক্ষেত্রে নারীর প্রতি মানুষের দৃষ্টিভঙ্গীর আমূল পরিবর্তন এবং সমাজের সর্বস্তরে নারীর অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করা আবশ্যক। এক্ষেত্রে শুধু সরকারি পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়। বেসরকারি সংস্থা ও বিভিন্ন নারী সংগঠনগুলোরও সমতালে কাজ করা প্রয়োজন।

×