ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ২১ চৈত্র ১৪৩১

বাংলার অবহেলিত কুটির শিল্প

হেনা শিকদার

প্রকাশিত: ১৯:২২, ৩ এপ্রিল ২০২৫

বাংলার অবহেলিত কুটির শিল্প

বাংলার কুটির শিল্প এক ঐতিহ্যপূর্ণ শিল্প, যা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এই অঞ্চলের সংস্কৃতি ও অর্থনীতির মেরুদণ্ড হিসেবে কাজ করে আসছে। এক সময় বাংলার গ্রামগঞ্জে ঘরে ঘরে এই শিল্পের প্রসার ছিল। বাঁশ-বেত, কাঠ, মাটি, কাপড়, শাঁখা, স্বর্ণ, রৌপ্য ইত্যাদি বিভিন্ন প্রকার উপকরণ ব্যবহার করে বাংলার কারিগররা তৈরি করতেন নান্দনিক সব জিনিসপত্র। এই শিল্প শুধু অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং এটি ছিল বাংলার মানুষের জীবনযাত্রার অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং তাদের সৃজনশীলতার প্রতীক। কিন্তু আজ বাংলার এই ঐতিহ্যবাহী কুটির শিল্প প্রায় ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছে। কালের স্রোতে আধুনিকতার ছোঁয়ায়, বিশ্বায়নের প্রভাবে এবং সরকারি উদাসীনতায় এই শিল্প আজ ধুঁকছে। বাংলার বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা কারিগর পরিবারগুলো চরম কষ্টের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। তাদের তৈরি করা পণ্য বিক্রি হচ্ছে না। নতুন প্রজন্ম এই পেশায় আসতে চাইছে না। ফলে ধীরে ধীরে এই শিল্প বিলুপ্তির পথে এগিয়ে যাচ্ছে।
বাংলার কুটির শিল্পের সঙ্গে বাংলার মানুষের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর এবং বহুমাত্রিক। এই সম্পর্ক শুধু অর্থনৈতিক নয়, বরং সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং ঐতিহাসিকভাবেও তাৎপর্যপূর্ণ। বাংলার মানুষ এবং কুটির শিল্প একে অপরের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত, যা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে চলে আসছে। কুটির শিল্প মূলত বংশ পরম্পরায় চলে আসা ঐতিহ্যবাহী দক্ষতা ও কারিগরি জ্ঞানের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। পারিবারিক পরিবেশে বয়স্কদের কাছ থেকে নতুন প্রজন্ম এই শিল্পকলার হাতেখড়ি নেয়। এই দক্ষতা শুধু কাজ নয়, বরং এটি একটি সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, যা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে পরিবাহিত হয়। বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলের কুটির শিল্প সেখানকার নিজস্ব সংস্কৃতি ও পরিচয়ের ধারক ও বাহক। যেমন, ঢাকাই মসলিন, টাঙ্গাইলের তাঁত, রাজশাহীর রেশম, শান্তিনিকেতনের চামড়ার কাজ, বাঁকুড়ার পোড়ামাটির কাজÑ এগুলো শুধু পণ্য নয়, বরং ঐ অঞ্চলের মানুষের সাংস্কৃতিক পরিচিতির প্রতীক। কুটির শিল্প বাংলার লোকশিল্প ও কারুশিল্পের প্রাণ। পূজা-পার্বণ, উৎসব-অনুষ্ঠান এবং দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন অনুষঙ্গে এই শিল্পের তৈরি জিনিসপত্র ব্যবহৃত হয়। যেমন, দুর্গাপূজা বা অন্যান্য উৎসবে প্রতিমা তৈরি, লক্ষ্মীপুজোয় শোলার কাজ, বিবাহ অনুষ্ঠানে হস্তনির্মিত উপহারসামগ্রী ইত্যাদি। এই শিল্পগুলো বাংলার লোকসংস্কৃতির সঙ্গে গভীরভাবে মিশে আছে। বাংলার গ্রামীণ অর্থনীতিতে কুটির শিল্প কর্মসংস্থানের একটি প্রধান উৎস। বিশেষ করে মহিলা ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কৃষি কাজের পাশাপাশি বহু মানুষ কুটির শিল্পের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করে। গ্রামের বহু পরিবার সম্পূর্ণরূপে এই শিল্পের ওপর নির্ভরশীল। কুটির শিল্প গ্রামীণ দারিদ্র্য বিমোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কম বিনিয়োগ এবং স্থানীয় উপকরণ ব্যবহার করে উৎপাদন করা সম্ভব হওয়ায় এটি দরিদ্র মানুষের জন্য আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করে। মহিলাদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নেও এই শিল্পের বিশেষ অবদান রয়েছে।
কুটির শিল্প স্থানীয়ভাবে উপলব্ধ কাঁচামাল ও প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহার করে। যেমন, বাঁশ, বেত, কাঠ, মাটি, পাট, রেশম, তুলা ইত্যাদি স্থানীয়ভাবে সংগ্রহ করা হয়। ফলে স্থানীয় সম্পদের সদ্ব্যবহার হয় এবং পরিবেশের ওপর চাপ কম পড়ে। কুটির শিল্প গ্রামীণ অর্থনীতিকে স্বনির্ভর করে তোলে। স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি, উৎপাদিত পণ্য শহর এবং অন্যান্য অঞ্চলে বিক্রি করে গ্রামীণ মানুষ অর্থনৈতিকভাবে সচ্ছল হতে পারে। কুটির শিল্প প্রায়ই পারিবারিক বা গোষ্ঠীগতভাবে পরিচালিত হয়। পরিবারের সদস্যরা একসঙ্গে কাজ এবং একে অপরের সঙ্গে সহযোগিতা করে। এটি সামাজিক বন্ধন দৃঢ় এবং সম্প্রদায়ের মধ্যে সহযোগিতা ও সহমর্মিতা বৃদ্ধি করে। কুটির শিল্পের মাধ্যমে ঐতিহ্যবাহী জ্ঞান ও দক্ষতা এক প্রজন্ম থেকে হস্তান্তরিত হয় অন্য প্রজন্মে। এই শিল্পগুলো শিক্ষার একটি মাধ্যম হিসেবে কাজ করে, যেখানে হাতে-কলমে কাজ শেখা এবং অভিজ্ঞতার মাধ্যমে জ্ঞান অর্জন করা হয়। কুটির শিল্পের সঙ্গে যুক্ত কারিগররা সমাজে বিশেষ মর্যাদা ও স্বীকৃতি পান। তাদের তৈরি করা হস্তশিল্প শুধু পণ্য নয়, বরং তাদের সৃজনশীলতা ও দক্ষতার প্রমাণ। ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্পীদের সম্মান ও শ্রদ্ধা করা হয়। বাংলার মানুষের দৈনন্দিন জীবনে কুটির শিল্পের তৈরি জিনিসের ব্যবহার ব্যাপক। ঘর-গেরস্থালির কাজে ব্যবহৃত জিনিসপত্র, পরিধেয় বস্ত্র, অলঙ্কার, খেলনা, আসবাবপত্র, খাদ্য সামগ্রী এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিস কুটির শিল্পের মাধ্যমে তৈরি হয়।
বিভিন্ন উৎসব ও অনুষ্ঠানে কুটির শিল্পের তৈরি জিনিস অপরিহার্য। পূজা-পার্বণে প্রতিমা, বিবাহ ও অন্যান্য অনুষ্ঠানে হস্তনির্মিত উপহার সামগ্রী, মেলা ও হাটে হস্তশিল্পের পসরাÑ সবকিছুতেই কুটির শিল্পের অবদান স্পষ্ট। বাংলার কুটির শিল্প পর্যটন শিল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। দেশী-বিদেশী পর্যটকদের কাছে বাংলার হস্তশিল্প ও কারুশিল্প অত্যন্ত আকর্ষণীয়। পর্যটকরা এই শিল্পকর্ম কেনেন এবং এর মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনীতি উপকৃত হয়। সেই কুটির শিল্প আজ কেন ধ্বংসের মুখোমুখি? এর পেছনে একাধিক কারণ বিদ্যমান। উল্লেখযোগ্য কারণগুলো হলোÑ
আধুনিকতার অভাব : কুটির শিল্পমূলত সনাতন পদ্ধতিতে পরিচালিত হয়। আধুনিক যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তির ব্যবহার এখানে খুব কম। অন্যদিকে, বৃহৎ শিল্পগুলোতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার হওয়ার কারণে তারা কম খরচে বেশি উৎপাদন করতে সক্ষম। ফলে কুটির শিল্পের উৎপাদিত পণ্যের সঙ্গে তারা প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছে না।
বাজারের অভাব : কুটির শিল্পের কারিগররা প্রায়ই তাদের উৎপাদিত পণ্য বিক্রির জন্য উপযুক্ত বাজার খুঁজে পায় না। গ্রাম থেকে শহরে পণ্য নিয়ে আসা, ক্রেতাদের কাছে পৌঁছানো এবং ন্যায্য দাম পাওয়া তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। অন্যদিকে, বৃহৎ শিল্পগুলোর বিপণন ব্যবস্থা অনেক শক্তিশালী হওয়ায় তারা সহজেই বাজার দখল করে নেয়।
সরকারি উদাসীনতা : কুটির শিল্পের বিকাশে সরকারের সাহায্য ও সহযোগিতা খুব জরুরি। কিন্তু দেখা যায়, এই শিল্পের প্রতি সরকারের নজর কম। কারিগরদের প্রশিক্ষণ, আর্থিক সাহায্য, বিপণন সহায়তা ইত্যাদি ক্ষেত্রে সরকারি উদ্যোগের যথেষ্ট অভাব রয়েছে। ফলে এই শিল্প পিছিয়ে পড়ছে।
ঋণের অভাব : কুটির শিল্পের কারিগরদের প্রায়শই মূলধনের অভাব দেখা যায়। ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ পেতে তাদের সমস্যা হয়। ফলে তারা শিল্পের উন্নতি বা সম্প্রসারণ করতে পারেন না। অন্যদিকে, বৃহৎ শিল্পগুলো সহজেই ঋণ এবং অন্যান্য আর্থিক সুবিধা পেয়ে থাকে।
কাঁচামালের অভাব ও মূল্যবৃদ্ধি : অনেক সময় কুটির শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল পাওয়া যায় না। অথবা পাওয়া গেলেও তার দাম খুব বেশি থাকে। যেমন, বাঁশ, বেত, কাঠ, সুতো, রং ইত্যাদির দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পায়। অন্যদিকে, বৃহৎ শিল্পগুলো একসঙ্গে বেশি পরিমাণে কাঁচামাল কেনে বলে কিছুটা সুবিধা পায়।
নতুন প্রজন্মের অনীহা : বর্তমান প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা কুটির শিল্পের পেশায় আসতে চাইছে না। শারীরিক পরিশ্রম, কম আয় এবং অনিশ্চিত ভবিষ্যতের কারণে তারা এই শিল্প থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। ফলে কারিগরের সংখ্যা কমছে এবং ঐতিহ্যবাহী জ্ঞান ও দক্ষতা ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে।
বিশ্বায়ন ও বৃহৎ শিল্পের আগ্রাসন : বিশ্বায়নের যুগে বৃহৎ শিল্পগুলো সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে। তাদের উৎপাদিত সস্তা ও আকর্ষণীয় পণ্যের সঙ্গে পাল্লা দিতে পারছে না বাংলার কুটির শিল্প। ফলে স্থানীয় বাজারেও কুটির শিল্পের চাহিদা কমছে।
বাংলার কুটির শিল্প ধ্বংস হলে এর মারাত্মক প্রভাব পড়বে অর্থনীতিতে। কিছু সম্ভাব্য প্রভাব নিচে উল্লেখ করা হলোÑ
কর্মসংস্থান হ্রাস : কুটির শিল্প বাংলার গ্রামীণ অর্থনীতির একটি বড় অংশ। লাখ লাখ মানুষ এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত। শিল্পটি ধ্বংস হলে বহু মানুষ কাজ হারাবে। যা বেকারত্ব বৃদ্ধি করবে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে দুর্বল করে দেবে।
সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের বিলুপ্তি : কুটির শিল্প শুধু অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড নয়, এটি বাংলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ। এই শিল্প ধ্বংস হলে বাংলার ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্প, কারুশিল্প এবং লোকশিল্প ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হয়ে যাবে। আমরা হারাব আমাদের শিকড় এবং পরিচিতি।
দারিদ্র্য বৃদ্ধি : কুটির শিল্পের ওপর নির্ভরশীল পরিবারগুলোর আয় কমে যাবে, যা দারিদ্র্য বৃদ্ধি করবে। গ্রামীণ সমাজে অর্থনৈতিক বৈষম্য আরও বাড়বে এবং জীবনযাত্রার মান নেমে যাবে।
গ্রাম থেকে শহরে অভিবাসন বৃদ্ধি : গ্রামে কাজ না থাকলে মানুষ কাজের সন্ধানে শহরের দিকে ছুটবে। ফলে শহরগুলোর ওপর চাপ বাড়বে এবং গ্রামীণ জীবনযাত্রা আরও দুর্বল হয়ে পড়বে।
বাংলার কুটির শিল্পকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে হলে এখনই কিছু প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া জরুরিÑ
সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা বৃদ্ধি : সরকারকে কুটির শিল্পের প্রতি আরও বেশি মনোযোগ দিতে হবে। কারিগরদের জন্য আর্থিক সহায়তা, প্রশিক্ষণ, বাজার সংযোগ এবং বিপণন সহায়তা প্রদান করতে হবে। কুটির শিল্পের জন্য বিশেষ নীতি তৈরি করতে হবে এবং তার সঠিক বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।
আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার : কুটির শিল্পে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। কারিগরদের নতুন যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তি সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দিতে হবে এবং তা ব্যবহারের জন্য উৎসাহিত করতে হবে। তবে, ঐতিহ্য ও পরিবেশের প্রতি খেয়াল রাখতে হবে।
ঋণ ও আর্থিক সুবিধা সহজলভ্য করা : কারিগরদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ এবং অন্যান্য আর্থিক সুবিধা প্রদান করতে হবে। সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে এই ক্ষেত্রে এগিয়ে আসতে হবে।
বাজার সংযোগ স্থাপন : কারিগরদের উৎপাদিত পণ্যের জন্য উপযুক্ত বাজার তৈরি করতে হবে। গ্রাম থেকে শহরে এবং শহর থেকে বিদেশে পণ্য পাঠানোর ব্যবস্থা করতে হবে। ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম এবং অনলাইন বিপণন ব্যবস্থাকে কাজে লাগাতে হবে। মেলা, প্রদর্শনী এবং মেলা ও হাটের আয়োজন করে ক্রেতাদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করতে হবে।
ব্র্যান্ডিং ও বিপণন : বাংলার কুটির শিল্পকে একটি ব্র্যান্ড হিসেবে তৈরি করতে হবে। ‘মেড ইন বেঙ্গল’ বা ‘বাংলার হস্তশিল্প’ এই ধরনের ব্র্যান্ডিং করে দেশ ও বিদেশে এই শিল্পের পরিচিতি বাড়াতে হবে। সঠিক বিপণন কৌশলের মাধ্যমে পণ্যের চাহিদা তৈরি করতে হবে।
প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন : নতুন প্রজন্মকে কুটির শিল্পে আকৃষ্ট করতে হলে তাদের জন্য উপযুক্ত প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি চালু করতে হবে। ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্পের পাশাপাশি আধুনিক ডিজাইন ও প্রযুক্তির প্রশিক্ষণ দিতে হবে।
সহযোগিতা ও সমবায় : কারিগরদের মধ্যে সহযোগিতা ও সমবায় গড়ে তুলতে উৎসাহিত করতে হবে। সমবায় সমিতি গঠনের মাধ্যমে কাঁচামাল সংগ্রহ, উৎপাদন ও বিপণন সহজ হবে এবং কারিগররা সম্মিলিতভাবে বেশি সুবিধা পাবে।
স্থানীয় কাঁচামালের ব্যবহার : স্থানীয়ভাবে উপলব্ধ কাঁচামাল ব্যবহার করে উৎপাদন খরচ কমাতে হবে এবং পরিবেশবান্ধব উৎপাদন প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।
বাংলার কুটির শিল্প শুধু একটি শিল্প নয়, এটি আমাদের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং অর্থনীতির অংশ। এই শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখা আমাদের সকলের দায়িত্ব। সঠিক পরিকল্পনা, সরকারি সহযোগিতা এবং সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাংলার কুটির শিল্পের পুরনো গৌরব আবারও ফিরিয়ে আনা সম্ভব। আমরা যদি এখনই সচেতন না হই এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নিই, তাহলে হয়তো খুব শীঘ্রই এই ঐতিহ্যবাহী শিল্পকে সম্পূর্ণরূপে হারিয়ে ফেলব। আসুন, আমরা সকলে মিলে বাংলার কুটির শিল্পকে রক্ষা করি এবং একে আরও উন্নতির পথে এগিয়ে নিয়ে যাই।

×