
বাংলাদেশের জনগণ এবার শান্তিপূর্ণ, স্বস্তিদায়ক, আনন্দঘন ও নিরাপদে ঈদ উদযাপন করেছে। বাস, ট্রেন, লঞ্চ কিংবা বিমানের টিকিট প্রাপ্তির বিড়ম্বনা প্রায় ছিল না। যথাসময়ে ছেড়ে গেছে নির্দিষ্ট গন্তব্যের যানবাহনগুলো। রেলস্টেশন, বাস টার্মিনাল কিংবা সদরঘাটের পন্টুনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দীর্ঘ অপেক্ষার প্রহর গুনতে দেখা যায়নি ঘরমুখো নারী, শিশু, আবাল-বৃদ্ধ-বনিতাদের। যৎসামান্য কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া এবার ঈদুল ফিতর বাংলাদেশী মুসলিমদের মাঝে আনন্দের এক অনিন্দ্যধারা তৈরি করেছে। দেশের সড়ক-মহাসড়কে বিগত সময়ের রাজনৈতিক সরকারগুলোর মতো দৃশ্যমান কোনো চাঁদাবাজি খুব একটা দেখা যায়নি। রাজধানী ঢাকা থেকে উত্তরাঞ্চল, দক্ষিণাঞ্চল, পশ্চিমাঞ্চল কিংবা পূর্বাঞ্চলমুখী মহাসড়কে পরিলক্ষিত হয়নি তেমন যানজট। ঈদপূর্ব বাজারে, পণ্যদ্রব্যের পর্যাপ্ত প্রাপ্তি ও মূল্য নাগালের মধ্যে থাকায় সন্তোষ দেখা গেছে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে। জাতির বৃহৎ এ উৎসব আয়োজনে ক্রয়ক্ষমতা সাধ্যের মধ্যে থাকা এবং জল ও স্থল পথে নির্বিঘ্ন যাতায়াত দেশবাসীকে করেছে সন্তুষ্ট। শান্তিপূর্ণ এ ঈদ উদযাপনের অনন্য কৃতিত্বের জন্য অন্তর্বর্তী সরকার সাধুবাদ পেতে পারে।
ঈদের সাধারণ ছুটির সঙ্গে স্বাধীনতা দিবস, শবে কদরের ছুটির সঙ্গে সাপ্তাহিক এবং সরকার কর্তৃক অতিরিক্ত ছুটি ঘোষণা করায় মোট ১১ দিন অবকাশ যাপনের সুযোগ পেয়েছে দেশের অধিকাংশ মানুষ। নিকট অতীতে এমনটি পাওয়া যায়নি। ঈদুল ফিতরের দীর্ঘ ছুটিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী জেলাসমূহের বাসস্ট্যান্ড, ট্রেন স্টেশন ও লঞ্চ টার্মিনালসহ মহাসড়কে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করে যানবাহন চলাচল নির্বিঘ্ন করেছে। দেশের শিল্পাঞ্চল ও গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় স্থাপনাসমূহ ঢেকে রেখেছে নিরাপত্তার চাদরে। ঘনবসতিপূর্ণ ও সরু গলিতে হেঁটে নিরাপত্তা তদারকি করেছে পুলিশ। স্পর্শকাতর এলাকায় চেকপোস্ট বসিয়ে চুরি-ডাকাতি ও ছিনতাই প্রতিরোধে যথাযথ ব্যবস্থা নিয়েছে। জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে সামাজিক নিরাপত্তা বলয় তৈরি হয়েছে।
দীর্ঘ ছুটির ফলে ঈদ পর্যটনে এবার বেশ বিস্তার ঘটেছে। বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন সূত্রে জানা যায়, এ বছর ঈদুল ফিতরে ২ হাজার কোটি টাকার ঈদ পর্যটন হতে পারে। ঈদের দীর্ঘ ছুটিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তিন ধাপে নিরাপত্তা বলয় তৈরি করেছেÑ ঈদের আগে, ঈদের দিন এবং ঈদ পরবর্তী সময়ের জন্য। এ ছাড়াও ঈদকে কেন্দ্র করে অপরাধের মাত্রাও বিগত বছরগুলোর তুলনায় অনেক কম ছিল। দেশব্যাপী নাগরিকদের জানমালের নিরাপত্তার জন্য সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারিসহ টহল বাড়ানো হয়েছে।
দেশে নারী ও শিশুদের একটি বড় অংশ ঈদের ছুটিতে পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে বেড়াতে যান। তাদের সার্বিক নিরাপত্তার জন্য পুলিশ, র্যাব ও সেনা সদস্যদের আন্তরিক ভূমিকা অতুলনীয়। আগামীর বাংলাদেশের প্রতিটি উৎসবই হোক সকল মানুষের আনন্দ-বিনোদনের অকৃত্রিম ও অনাবিল উপাদান।