ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ২১ চৈত্র ১৪৩১

রক্তদান থাকুক চলমান

আবু হামজা

প্রকাশিত: ১৭:৩৭, ৩ এপ্রিল ২০২৫

রক্তদান থাকুক চলমান

মানুষের জীবনে সুস্থতা সবচেয়ে বড় সম্পদ। বলা হয়ে থাকে স্বাস্থ্যই সম্পদ। স্বাস্থ্য রক্ষায় সবচেয়ে জরুরি উপাদান হচ্ছে রক্ত। কোনো কারণে যদি এর কমতি হয়ে থাকে তাহলে বেঁচে থাকা অসম্ভব। রক্তস্বল্পতাজনিত রোগকে অ্যানিমিয়া বলে। শুধু রোগের কারণেই শরীরে রক্তে প্রয়োজন দেখা দেয় এমন নয়। বিভিন্ন অপারেশন, অস্ত্রপাচার, দগ্ধ হওয়া, অঙ্গহানি ইত্যাদির জন্যও রক্তের প্রয়োজন হয়। আমাদের দেশে সিজার ও সড়ক দুর্ঘটনা হঠাৎ রক্তস্বল্পতার অন্যতম কারণ। দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে হঠাৎ ডোনার পাওয়া যায় না। ফলে রক্তের অভাবে বেশিরভাগ রোগীর মৃত্যু হয়। সিজারের জন্য রোগীর অভিভাবক ডোনার ম্যানেজ করে রাখার অনেক সময় পায়। কিন্তু তারা এ বিষয়ে উদাসীন থাকে। ফলে সময়মতো রক্তদান সম্ভব হয় না এবং মা ও শিশু উভয়ই পড়ে মৃত্যুঝুঁকিতে। আবার রোগী কোনো নেগেটিভ রক্তধারী হলে ডোনার ম্যানেজ করা অত্যন্ত দুরূহ কাজ। রক্তদানে সক্ষম হলেও একজন সুস্থ ব্যক্তি রক্ত দিতে চান না। এর কারণ হচ্ছে ভয় এবং সচেতনতার অভাব। যার কারণে ডোনারের পক্ষ থেকে ‘রক্ত দিলে আমি অসুস্থ হয়ে পড়ব’, ‘বাড়ি থেকে নিষেধ আছে’ ধরনের কথা শুনতে হয় যিনি ডোনার খুঁজছেন তাকে। এভাবেই প্রয়োজন অনুযায়ী ডোনার না পাওয়া যাওয়ার কারণে অকালে প্রাণ যাচ্ছে অনেক রোগীর।
জরিপ বলছে, দেশে রক্তের চাহিদা প্রতি বছর ১৩ লাখ ব্যাগের কাছাকাছি। যার পুরোটাই দেশের জনগণের রক্তদানকার্যে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মাধ্যমে পূরণ করা সম্ভব। বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, থ্যালাসেমিয়া সোসাইটিসহ অনেক সংস্থা ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা নিয়মিত রক্তদান এবং এই সম্পর্কিত কাজ পরিচালনা করে যাচ্ছে। যার ফলে স্বেচ্ছায় ও স্বতঃস্ফূর্তভাবে রক্তদানের এগিয়ে আসছেন। জীবন বাঁচানো একটি উত্তম ইবাদত। এ ইবাদতের মাধ্যমে নিজেকে আলোকিত করার ক্ষেত্রে রক্তদান একটি উত্তম কর্ম। তাই আমাদের উচিত প্রয়োজনে মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং রক্তদানে এগিয়ে এসে মানুষের জীবন বাঁচানো। এভাবেই রক্তদান থাকুক চলমান।
শিক্ষার্থী : ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া এবং
[email protected]

×