ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ২০ চৈত্র ১৪৩১

জমজমাট পর্যটনকেন্দ্র

প্রকাশিত: ১৯:৫৭, ২ এপ্রিল ২০২৫

জমজমাট পর্যটনকেন্দ্র

বাংলাদেশের প্রতিটি জেলার রয়েছে নিজস্ব ইতিহাস, ঐতিহ্য ও ঐতিহাসিক স্থাপনা। বিশেষ করে কক্সবাজার, কুয়াকাটা, কুমিল্লা, সেন্ট-মার্টিন, সুন্দরবন, বান্দরবান, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, রাতারগুল, বিছানাকান্দি ও সিলেটের চা-বাগান পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র। ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বর্ণিল সাজে সাজানো হয়েছে দেশের পর্যটনকেন্দ্রগুলো। সেগুলো এখন জমজমাট। পাহাড় ঘেরা বান্দরবানের বিভিন্ন পর্যটন আকর্ষণগুলোতে প্রকৃতিপ্রেমীদের ঢল নামে। ঈদকে কেন্দ্র করে বান্দরবানের মেঘলা, নীলাচল, নীলগিরি, চিম্বুক, সাজেক, আলুটিলা গুহা, কাপ্তাই লেক, ঝুলন্ত সেতু, শৈল প্রপাতসহ অন্যান্য পর্যটন কেন্দ্র পর্যটকদের ভিড়ে মুখরিত হয়ে উঠেছে। সীতাকুণ্ডের ছোট-বড় পাহাড়ের শ্যামল বনানীর কোলে পাখিদের কিচির-মিচির, বিচিত্র সাপের আনাগোনা, বনহরিণের চঞ্চল ছোটাছুটি, বানরের লাফালাফি আর শ্যামল পাহাড়ের প্রাকৃতিক শোভা নৈসর্গিক কাব্যময়। সীতাকুণ্ডের চন্দ্রনাথ পাহাড়, ইকোপার্ক ও বোটানিক্যাল গার্ডেন, বারৈয়াঢালা সহস্রধারা জলপ্রপাত, গুলিয়াখালী সমুদ্র সৈকত, ভাটিয়ারি-হাটহাজারি বাইপাস ও কৃত্রিম হ্রদসহ বিভিন্ন স্থানে পর্যটকদের নির্বিঘ্নে ভ্রমণের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রতি বছর ঈদ মৌসুমে সিলেটের গোয়াইনঘাটের পাহাড়-পাথর, ঝর্ণা, স্বচ্ছ জল আর প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য অবলোকনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভিড় করেন ভ্রমণপিয়াসীরা। পর্যটকদের নিরাপত্তায় বেশ প্রস্তুতিও নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতও অগণিত পর্যটকের আগমনে মুখরিত। কক্সবাজারের পর্যটন খাতের ব্যবসায়ীদের আশা ছিল এবার ঈদে দীর্ঘ ছুটির কারণে সৈকতে পর্যটকের ঢল নামবে, নেমেছেও। ট্যুর অপারেটরদের সূত্র অনুযায়ী, ঈদকে কেন্দ্র করে বিশ্বের বৃহৎ সুমদ্র সৈকত কক্সবাজারে মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
বিশ্বায়নের যুগে কর্মব্যস্ত জীবনে বিনোদনের বিকল্প নেই। তাই ঈদের ছুটি আরও আনন্দময় করতে বাংলাদেশের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে ভ্রমণের সুযোগ বেড়েছে। পর্যটন খাতের সূত্রমতে, প্রতি বছর ২০ লাখের বেশি পর্যটক দেশের অভ্যন্তরে ভ্রমণ করে থাকেন। এর সঙ্গে যুক্ত হন ৫ লাখের বেশি বিদেশী পর্যটক। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এ খাতে কর্মসংস্থান হয়েছে ৪০ লাখের বেশি মানুষের। প্রতিবছর এ খাত থেকে আসে প্রায় ১ লাখ কোটি টাকা। সারা বছরের চেয়ে দুই ঈদ ঘিরে পর্যটন ব্যবসায়ীরা সবচেয়ে বেশি আয় করে থাকেন। দুই ঈদের মৌসুম ঘিরে অস্থায়ীভাবে কর্মসংস্থান হয় কয়েক হাজার মানুষের। দেশের জনপ্রিয় পর্যটনস্পটের তথ্য, সড়ক, রেল ও আকাশপথের যাত্রীদের চিত্র, ট্যুর অপারেটরদের তথ্যের ভিত্তিতে এবার পর্যটন খাতে বাণিজ্য অন্তত ২ হাজার কোটি টাকা হবে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে বিপুল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও দেশের পর্যটন খাত এখনো অনেক পিছিয়ে রয়েছে। তারপরও ঈদকে কেন্দ্র করে পর্যটকদের জন্য আবাসন কক্ষগুলোর ভাড়া, খাবারের দাম, পর্যটন পণ্যের মূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখা এবং আন্তর্জাতিক পর্যটকদের ভিসা প্রক্রিয়া সহজিকরণ ও পর্যটন আকর্ষণগুলোর ডিজিটাল ব্র্যান্ডিং করা সম্ভব হলে পর্যটকের সংখ্যা আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এবারের পবিত্র ঈদুল ফিতরে লম্বা সরকারি ছুটির অবকাশে দেশের দর্শনীয় স্থানগুলোতে দর্শনার্থীর সংখ্যা বেড়েছে বহুগুণ।

×