
নির্ভেজাল খাদ্য! আসলে বর্তমান সময়ে এ বিষয়টা নিয়ে যখন চিন্তা করা হয়, তখন ভেজালযুক্ত খাদ্য এবং এর ভয়াবহতা সামনে বেশি আসে। বর্তমান সময়ে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যহানি, বিভিন্ন অসংক্রামক ব্যাধি ইত্যাদির জন্য খাদ্যে ভেজাল অন্যতম ভূমিকা পালন করছে।
খাদ্য মানুষের মৌলিক চাহিদাগুলোর মধ্যে অন্যতম। এটি শুধু জীবনধারণের উপকরণই নয়, বরং স্বাস্থ্য, পুষ্টি এবং সুস্থ জীবনের ভিত্তিও বটে। কিন্তু বর্তমানে খাদ্য ভেজাল একটি ভয়াবহ সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। খাদ্যে ভেজাল বলতে খাদ্যে নিম্নমানের, ক্ষতিকর, অকেজো ও অপ্রয়োজনীয় দ্রব্য মিশিয়ে এর গুণগত মান নষ্ট করাকে বোঝানো হয়। প্রকৃতিগত ও গুণগত নির্ধারিত মানসম্মত না হলে যে কোনো খাদ্যদ্রব্যই ভেজালযুক্ত বিবেচিত হতে পারে।
খাদ্যে ভেজাল মেশানোর প্রবণতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। খাদ্যকে টেকসই করতে, অধিক মুনাফা অর্জন করতে বা কখনো কখনো অজ্ঞতাবশত নানা রাসায়নিক পদার্থ, কৃত্রিম রং, ফরমালিন, কার্বাইড, ইউরিয়া, ও অন্যান্য ক্ষতিকর উপাদান মেশানো হয়। এসব ভেজাল খাদ্য দীর্ঘমেয়াদে মানবদেহের জন্য ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁঁকি সৃষ্টি করে।
খাদ্যে ভেজালের বিভিন্ন রূপ রয়েছে:
দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্য: দুধে পানি মেশানো, স্টার্চ ও ডিটারজেন্ট মেশানো হয়।
ফল ও সবজি: সবজিতে বিভিন্ন কীটনাশক মেশানো, কৃত্রিমভাবে ফল পাকানোর জন্য ক্যালসিয়াম কার্বাইড ব্যবহার করা হয়। ইনজেকশনের মাধ্যমে বিভিন্ন ক্ষতিকর কেমিক্যাল মেশানো হয়।
মাছ ও মাংস: সংরক্ষণের জন্য ফরমালিন প্রয়োগ করা হয়।
তেল ও মশলা: ভেজাল তেল ও মশলায় সস্তা ও ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ মেশানো হয়।
মিষ্টি ও বেকারি পণ্য: কৃত্রিম রং ও মিষ্টিতে কাপড়ের রং ব্যবহার করা হয়।
স্বাস্থ্যঝুঁকি:
উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিকস: খাদ্য ভেজালের কারণে মানুষের দেহের রক্তচাপ বৃদ্ধিজনিত সমস্যা বাড়ছে। সেেঙ্গ সুগার লেভেলও বেড়ে যাচ্ছে।
পাকস্থলির রোগ: ফরমালিন ও কার্বাইডযুক্ত খাদ্য গ্যাস্ট্রিক, পেপটিক আলসার, গ্যাস্ট্রিক আলসারসহ হজমজনিত নানা সমস্যা সৃষ্টি করে।
ক্যান্সার: দীর্ঘমেয়াদে কৃত্রিম রাসায়নিক পদার্থ শরীরে জমে মরণব্যাধি ক্যান্সারের কারণ হতে পারে।
কিডনি ও লিভারের সমস্যা: ক্ষতিকর বিভিন্ন কেমিক্যাল শরীরে ঢোকার ফলে কিডনি ও লিভার বিকল হতে পারে।
স্নায়ুতন্ত্রের ক্ষতি: কিছু ভেজাল উপাদান স্নায়ুতন্ত্রের কার্যক্ষমতা হ্রাস করে ও মস্তিষ্কের জন্য ক্ষতিকর। যার ফলে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা ধীরে ধীরে লোপ পেতে পারে।
খাদ্য ভেজাল রোধে করণীয়:
স্বাস্থ্য সম্মত খাবার: অর্গানিক যে খাবারগুলো আছে, সেগুলো গ্রুহণের জন্য জনসচেতনতা বৃদ্ধির গুরুত্ব অপরিসীম।
কঠোর আইন প্রয়োগ: সরকারকে খাদ্য নিরাপত্তা আইন আরও কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।
জনসচেতনতা বৃদ্ধি : গণমাধ্যম ও সামাজিক প্রচারণার মাধ্যমে ভেজাল খাদ্যের বিষয়ে জনগণকে সচেতন করা প্রয়োজন।
পরীক্ষাগার ও গবেষণা বৃদ্ধি: খাদ্যের মান নিয়ন্ত্রণে উন্নত পরীক্ষাগার ও গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন জরুরি।
স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্যাভ্যাস: ভোক্তাদের খাদ্য ক্রয় করার সময় সচেতনতা অবলম্বন করা উচিত। খাদ্যের উৎপাদনের তারিখ এবং মেয়াদ উত্তীর্ণের তারিখের ওপর অবশ্যই নজর রাখতে হবে।
খাদ্য ভেজাল রোধে আমাদের সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। একমাত্র সরকার, সাধারণ জনগণ, ব্যবসায়ী সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় খাদ্যে ভেজাল কমানো সম্ভব। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা, মানে সুস্থ জীবন নিশ্চিত করা। আসুন, আমরা ভেজাল খাদ্য বর্জন করি এবং সুস্থ জীবন গড়ি।
শিক্ষার্থী, গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়