
যদি রপ্তানিতে জোর দেওয়া হয় তাহলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয় বাড়বে এবং বৈশ্বিক বাজারে দেশের পণ্য এবং সেবার চাহিদা বৃদ্ধি পাবে। রপ্তানি বৃদ্ধির জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারেÑ গুণগত পণ্যের উন্নয়ন: বিদেশী বাজারে প্রতিযোগিতামূলক পণ্য সরবরাহ করতে হবে। পণ্যের গুণমান উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ এবং পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানো জরুরি। বাণিজ্যিক চুক্তি ও সম্পর্ক: বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক উন্নত করা। বিশেষত নতুন বাজারের দিকে নজর দেওয়া। টেকসই উন্নয়ন: পরিবেশবান্ধব এবং টেকসই পণ্য রপ্তানির দিকে মনোযোগ দেওয়া, যাতে ভবিষ্যতে এই খাত দীর্ঘমেয়াদে লাভজনক থাকে। ট্যাক্স ও শুল্ক সুবিধা: রপ্তানি প্রক্রিয়ায় সুবিধা দিতে সরকারের পক্ষ থেকে সঠিক নীতিমালা গ্রহণ করা। যেমনÑ শুল্ক কমানো বা কর সুবিধা প্রদান। বাণিজ্যিক তথ্য ও গবেষণা : আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা এবং প্রবণতা সম্পর্কে গবেষণা করা, যাতে রপ্তানিকারীরা জানতে পারে কোন পণ্য বেশি চাহিদা পাচ্ছে। প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের ব্যবহার : আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে উৎপাদনশীলতা বাড়ানো এবং নতুন উদ্ভাবনী পণ্য তৈরি করা যেতে পারে। উদ্ভাবন এবং উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে সাহায্য করবে। বিপণন ও ব্র্যান্ডিং: দেশের পণ্যের ব্র্যান্ডিং বাড়ানো এবং বৈদেশিক বাজারে পণ্যের প্রচার কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করা। বিদেশী ক্রেতাদের কাছে দেশীয় পণ্য পরিচিত এবং গ্রহণযোগ্য করার জন্য সঠিক বিপণন কৌশল গ্রহণ করা প্রয়োজন। যথাযথ রপ্তানি নীতি : রপ্তানিকারকদের জন্য সহজ ও সুবিধাজনক রপ্তানি নীতি তৈরি করা। সরকারের তরফ থেকে সহায়ক ব্যবস্থা, যেমনÑ রপ্তানি সহায়তা, অর্থনৈতিক সুবিধা, রপ্তানি তহবিল এবং কমপ্লেক্স রপ্তানি নথিপত্র সহজতর করা। এক্সপোর্ট প্রসেস সহজ করা : পণ্য রপ্তানি প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও দ্রুত করা। যাতে রপ্তানিকারীরা সহজে তাদের পণ্য বিদেশে পাঠাতে পারে। গুদামজাতকরণ, শিপিং এবং ডেলিভারি প্রক্রিয়া আরও উন্নত করা যেতে পারে।
বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণ : বিদেশী বিনিয়োগকে উৎসাহিত করা, যা রপ্তানি খাতের জন্য নতুন প্রযুক্তি এবং বাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরি করবে। বিদেশী বিনিয়োগের মাধ্যমে উৎপাদন ক্ষমতা ও গুণমান বৃদ্ধি পাবে। দক্ষ জনশক্তি তৈরি : রপ্তানি খাতে দক্ষ শ্রমিক ও ম্যানেজার তৈরি করতে বিশেষ প্রশিক্ষণ এবং শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা। এর মাধ্যমে পণ্যের গুণমান এবং উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে, যা রপ্তানিকে সাহায্য করবে। রপ্তানি বাজার বৈচিত্র্য : একক বাজারে নির্ভরশীলতা কমানো এবং বিভিন্ন দেশে রপ্তানি বাড়ানো। নতুন নতুন বাজারের দিকে নজর দেওয়া, বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে। লোকাল-ইন্টারন্যাশনাল পার্টনারশিপ : আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলায় অংশগ্রহণ, বিদেশী কোম্পানির সঙ্গে পার্টনারশিপ গড়ে তোলা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চ্যানেল ব্যবহার করা রপ্তানি বৃদ্ধির জন্য সহায়ক হতে পারে।
এই পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করলে রপ্তানির পরিধি বৃদ্ধি পাবে এবং দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হবে।
এই পদক্ষেপগুলো অনুসরণ করলে দেশের রপ্তানি বাজারে প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা তৈরি হবে এবং দেশীয় অর্থনীতি শক্তিশালী হবে।
আক্তার মনি
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়