
বৃহস্পতিবার জনকণ্ঠে ‘মহাসড়কে নিরাপত্তা জোরদার’ শীর্ষক প্রতিবেদনটিতে দেশের মহাসড়কগুলোয় নিরাপত্তাহীনতার যে বিবরণ উঠে এসেছে তা উদ্বেগজনক। বেশকিছু দিন ধরেই আন্তঃজেলা সড়কগুলো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিচিত্র পদ্ধতিতে ডাকাতি চলছে। শুধু নগদ অর্থ ও মালামাল লুট নয়, হতাহতের ঘটনাও ঘটছে। রোজা এসে গেছে। এ সময়ে খাদ্যপণ্য পরিবহন নির্বিঘ্ন নিরাপদ করা চাই। চাঁদাবাজিও শূন্যের কোঠায় নিয়ে আসতে হবে।
পণ্য পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা আমাদের প্রতিনিধিকে জানিয়েছেন, পুলিশের নিষ্ক্রিয় ভূমিকার কারণে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনা ঘটছে। চট্টগ্রাম বন্দর থেকে পণ্য নিয়ে আসা একজন কাভার্ড ভ্যানচালক বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক এখন সম্পূর্ণ অনিরাপদ মনে হয়। বিশেষ করে সীতাকুণ্ড, মীরসরাই, কুমিল্লায় বেশি ছিনতাই হচ্ছে। কোনো কারণে গাড়ির গতি কমালে ছিনতাইকারীরা গাড়িতে উঠে চুরি করে। আবার অনেক সময় মহাসড়কের দুই পাশে আড়ালে লুকিয়ে থেকে সুযোগ বুঝে হামলা চালায়।
শুধু কি ঢাকার বাইরের সড়ক, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের শেষপ্রান্ত ঢাকার নিকটবর্তী নারায়ণগঞ্জও নিরাপদ নয়। এখানে রাতে মহাসড়কগুলোতে গাড়ির চাপ বাড়লে সড়কে যানজট সৃষ্টি হয়। তখন কখনো ধীরগতিতে আবার কখনো থেমে থেমে গাড়ি চলাচল করে। ওই সময় ডাকাতরা সাধারণত ঢাকা থেকে আসা প্রবাসী যাত্রী বহন করতে পারে, সম্ভাব্য এমন প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাসগুলোকে লক্ষ্য করে অস্ত্র নিয়ে দল বেঁধে হামলা চালায়। মুহূর্তেই তারা গাড়ির কাঁচ ভেঙে চালক ও যাত্রীদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে সবকিছু লুটে নেয়।
এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, দেশের সড়ক মহাসড়কে রাতের চলাচল অনেকটাই কমে গেছে। ভয়ংকর ডাকাত আর দুর্বৃত্তদের দাপটে সাধারণ মানুষ আতঙ্কে। এখন একান্তই প্রয়োজন না থাকলে মানুষ দূরপাল্লার বাসে চলাচল এড়িয়ে যাচ্ছে। রাজধানীর গাবতলী, মহাখালী, রাজারবাগ, সায়েদাবাদ ও উত্তরার বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে চলাচলকারী দূরপাল্লার বাসগুলোতে আগের তুলনায় যাত্রী হ্রাস পেয়েছে। মালিক-শ্রমিকদের বক্তব্য সড়ক-মহাসড়কে যে হারে ডাকাতি, ছিনতাই ও নারী নির্যাতনের মতো অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে তাতে মানুষ ভয় পেয়ে গেছে। এখন হয় তারা দিনে চলছে, না হলে ট্রেনে উঠছে। ভুক্তভোগীদের মতে, মহাসড়ক বা হাইওয়ে এখন নিরাপত্তাহীন। এখানে পুলিশের নজরদারি তেমন নেই। রাত যত গভীর হয় মহাসড়কে ততই অপরাধীদের দাপট বাড়ে।
সড়কে গাছ ফেলে রাস্তা আটকে গাড়ি থামিয়ে টাকা, মোবাইল ও স্বর্ণালঙ্কার হাতিয়ে নিচ্ছে ডাকাতরা। এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় হাইওয়ে পুলিশ আবারও বাস ছাড়ার আগে টার্মিনালেই যাত্রীদের ছবি ও মালামাল ভিডিও করছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে নতুন করে এগারোটি মাইক্রোবাসে পুলিশ দল টহল দিচ্ছে। প্রশ্ন হচ্ছে তারপরও কেন অপরাধীরা ভয় পাচ্ছে না এবং তাদের অপকর্ম থেকে বিরত হচ্ছে না। স্বল্পসংখ্যক টহল পুলিশে যে বিশেষ কাজ হচ্ছে না সেটি পরিষ্কার। তাই মহাসড়ক নিরাপদ রাখতে বিকল্প পদ্ধতিও ভাবতে হবে। যেসব পয়েন্টে বেশি ডাকাতি হচ্ছে সেসব স্থানের আনসার ও গ্রাম পুলিশকে নিযুক্ত করার কথা ভাবা চাই। তা ছাড়া জনপ্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য এলাকাভিত্তিক স্বেচ্ছাসেবীদের সংগঠিত করে পাহারার ব্যবস্থা করলে সেটি ফলদায়ক হতে পারে। সেজন্য রাজনৈতিক ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোকেই এগিয়ে আসতে হবে। ডাকাতির ঘটনা ঘটলে ডাকাত দল পাকড়াও অভিযান চালানো ভালো। কিন্তু ডাকাতদের অপতৎপরতা আগেভাগেই প্রতিরোধ করার কৌশল প্রয়োগ করা হলে সেটিই বেশি কার্যকর। এক্ষেত্রে মহাসড়কের নিরাপত্তায় নিয়োজিত সদস্যদের নিষ্ঠা ও সক্রিয়তার কোনো বিকল্প নেই।