
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার পতনের পর থেকে প্রায় প্রতিদিনই কোনো না কোনো সংগঠন, জাতি বা গোষ্ঠী বিভিন্ন দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আন্দোলনে নেমে পড়ছে। আন্দোলনে সেøাগানে সেøাগানে দাবি বিষয়ক মিছিল হয়, মিটিং হয় এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু অস্বাভাবিক ব্যাপার হলো মিছিল, মিটিং শেষে আন্দোলনকারীরা রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক অবরোধ করে প্রধান সড়কে একদম বসে পড়ছে কিংবা শুয়ে পড়ছে। তাতে রাজধানীতে মারাত্মক বিশৃঙ্খল অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে। রাজধানীর একটি রাস্তার সঙ্গে আরও অনেক রাস্তার সংযোগ রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটি বন্ধ করা মানে শহরজুড়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া। যেসব বিষয় নিয়ে মূল সড়ক অবরোধ করে সেসব কোনো জাতীয় বিষয় নয়। ব্যক্তি, জাতি বা প্রতিষ্ঠানের কিছু দাবি বিষয়ক অবরোধ। কোনো ব্যক্তি, জাতি বা প্রতিষ্ঠান তাদের ব্যক্তিগত সমস্যা নিয়ে রাজধানীসহ সারাদেশের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক অবরোধ করতে পাওে না। এসব সড়ক আন্দোলনকারীর বাপ-দাদার সাফকাওলা করা সড়ক নয়। এটা করা দুঃসাহস এমনকি চরম অপরাধ। সড়ক অবরোধ করার ফলে অফিস, স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল সব ক্ষেত্রেই সঠিক সময়ে পৌঁছানো যায় না। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বাস ও প্রাইভেটকার ঠিক এক জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। খুব জরুরি প্রয়োজনে বাসা থেকে বের হলেও কর্মমুখী মানুষকে অসহায়ের মতো তপ্ত রোদে কিংবা প্রকট শীতে মাইলের পর মাইল পথ হেঁটে গন্তব্যে যেতে হয়। ভেঙে ভেঙে রিক্সায় চড়ে গন্তব্যে পৌঁছতে হয়। এজন্য কয়েকগুণ বেশি ভাড়া গুনতে হয় নগরবাসীকে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হয় যাত্রীদের, বিশেষ করে বৃদ্ধ-নারী ও শিশু যাত্রীদের। জরুরি চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়ার উপযোগী রোগীদেরও দুর্ভোগের কমতি নেই। যারা দিন আনে দিন খায় তারা কাজই করতে পারে না। একদিকে গার্মেন্টস কর্মীদের কর্মঘণ্টা নষ্ট হয় অন্যদিকে গার্মেন্টসে পোশাক উৎপাদনই বন্ধ থাকে। এতে করে সময় এবং কোটি কোটি টাকার মারাত্মক ক্ষতি হয়। সড়ক অবরোধের ফলে নগরবাসীর দুর্ভোগের চিত্র অবর্ণনীয়। সীমাহীন দুর্ভোগে পড়ে রাজধানীবাসী। বলা যায় স্থবির হয়ে পড়ে গোটা রাজধানী। দিনভর ঢাকায় দূরপাল্লার বাস প্রবেশ করতে পারে না এবং বেরও হতে পারে না। সড়ক অবরোধ করে জনকষ্টের এ সংস্কৃতি আর কতকাল? এ থেকে পরিত্রাণ চায় রাজধানীবাসী। সব পেশাজীবী ও গোষ্ঠীর উচিত এ জনদুর্ভোগ সৃষ্টিকারী সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পরিহার করা। এমন আন্দোলনের প্রতি সমর্থন না করা। অন্তর্বর্তী সরকারের উচিত কোনো ব্যক্তি, জাতি বা প্রতিষ্ঠানের দাবি আবেদনের বা দাবি আদায়ের একটি সুনির্দিষ্ট পথ বলে দেওয়া।
তাড়াইল, কিশোরগঞ্জ থেকে