ঢাকা, বাংলাদেশ   বুধবার ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩১

নৈরাজ্য চাই না

মো. আখতারুজ্জামান মল্লিক

প্রকাশিত: ১৯:৫২, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫

নৈরাজ্য চাই না

বাংলাদেশে সড়ক অবরোধ একটি পরিচিত প্রতিবাদ পদ্ধতি হয়ে উঠেছে, যা প্রায়ই জনজীবনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। ছোট গোষ্ঠীগুলো যখন তাদের দাবি আদায়ের জন্য সড়ক অবরোধ করে, তখন তাদের দাবির সঙ্গে বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর সম্পর্ক না থাকলেও, তারা জনমত তৈরির চেষ্টা করে। শাহবাগ মোড়, ঢাকা শহরের প্রাণকেন্দ্রে, বর্তমানে নানা দাবির জন্য অন্যতম জনপ্রিয় উঠেছে। কোনো দাবি আদায় করতে ইচ্ছা হলেই তারা ব্যানার টানিয়ে রাস্তায় নেমে পড়ে একটিবারও কেউ ভাবে না এই ক্ষুদ্র সংখ্যক মানুষের দাবি জাতীয় পর্যায়ে কতটুকু গুরুত্ব বহন করে। তারা মনে করে এটা তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার। জনগণের ভোগান্তির কথা একটিবার তারা স্মরণ করে না। দাবি আদায়ের লক্ষ্যে এই সড়ক অবরোধ যেখানে জনগণের চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়ে পড়ে এবং এতে অস্থিরতা ও বিরক্তি সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে, অফিস টাইমে সড়ক অবরোধের ফলে অফিসগামী বা শিক্ষার্থীরা তীব্র ভোগান্তির শিকার হয়। চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে যাওয়া সম্ভব হয় না, এমনকি পরীক্ষার জন্য শিক্ষার্থীরা সময়মতো পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছাতে পারে না, এ ছাড়া সড়ক অবরোধের ফলে দেশের অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে, এগুলো তাদের ভাবা উচিত। জনসমর্থন পেতে হলে আন্দোলনকারীদের উচিত তাদের দাবির গুরুত্ব সম্পর্কে জনগণকে জানানো এবং এমনভাবে প্রতিবাদ বা কর্মসূচি পরিচালনা করা যাতে সাধারণ মানুষ ভোগান্তির শিকার না হয়। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ অবশ্যই গণতান্ত্রিক অধিকার, তবে তা বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর জীবনকে বিপন্ন করে নয়। দাবি আদায়ের জন্য শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক পদ্ধতি অনুসরণ করা উচিত। আলোচনার মাধ্যমে দাবি তুলে ধরা, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ, জনমত গঠন, গণস্বাক্ষর অভিযান, আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা ও সংলাপ, শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন এসব পদ্ধতি অনুসরণ করে দাবি আদায় করা সম্ভব। দাবি আদায়ের জন্য সড়ক অবরোধ করা কতটা যুক্তিসঙ্গত, তা নির্ভর করে পরিস্থিতির ওপর। আন্দোলনকারীদের উচিত আরও গভীরভাবে চিন্তা করে কর্মসূচি গ্রহণ করা। সড়ক অবরোধের আগে তাদের নিজেদের কাছে এই প্রশ্ন রাখা উচিত যে, কত শতাংশ মানুষ এই আন্দোলনে জড়িত এবং এর মাধ্যমে বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর কতজন উপকৃত হবে, যদি আন্দোলনটি অল্পসংখ্যক মানুষের স্বার্থসংশ্লিষ্ট হয় এবং বাকি জনগণের ভোগান্তি সৃষ্টি করে, তবে তা কতটা যুক্তিযুক্ত হবে। শুধু একটি ছোট গোষ্ঠীর স্বার্থে বৃহত্তর জনগণের ওপর চাপ সৃষ্টি করা কতটা যুক্তিযুক্ত তা পুনরায় ভাবা উচিত। সড়ক অবরোধ বা অন্য কোনো প্রতিবাদী কর্মসূচির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের ক্ষতি না করে যদি আন্দোলনকারীরা তাদের দাবির গুরুত্ব প্রকাশ করতে পারে, তবে সেটি অধিক কার্যকর এবং গণতান্ত্রিক হতে পারে। এ ধরনের শান্তিপূর্ণ পদ্ধতিগুলো আন্দোলনকারীদের অধিক সমর্থন পেতে সহায়ক হবে এবং দেশের সার্বিক উন্নয়নের প্রতি ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। পরিশেষে সবাইকে বলব সড়ক অবরোধের মতো চরম পদক্ষেপ নেওয়ার আগে আন্দোলনকারীদের উচিত বৃহত্তর জনগণের মতামত গ্রহণ করা এবং তাদের দাবির যৌক্তিকতা বিবেচনা করা, যাতে আন্দোলনটি দেশের মানুষের জন্য উপকারী ও গ্রহণযোগ্য হয়।
বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, ঢাকা থেকে

×